৫ জানুয়ারি ২০১৮


সুনামগঞ্জে বোরো রোপণে শ্রমিক সংকট

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের হাওরে একটার পর একটা নতুন নতুন সংকট। একটার সমাধান না হতেই আরেকটা এসে কড়া নাড়ছে দরজায়। হাওরের কৃষকরা পানি না কমায় মহাসংকটে রয়েছেন এখনও। এই সমস্যার কিছুটা উন্নতির দিকে হলেও শ্রমিক নেই পানি কমে যাওয়া জমিগুলোতে চাষাবাদ শুরু করার জন্য।

ফলে হাওরে দেখা দিয়েছে, বোরো ধানের চারা রোপণে শ্রমিক সংকট। এতে করে লাখ লাখ কৃষক পরিবার আছে মহাবিপদে। অনেক কৃষক শ্রমিক না পাওয়ায় নিজে কিছু বোরো জমি চাষ না করে অন্যের কাছে জমি বর্গা দিয়েছেন।

জেলার ১১টি উপজেলার শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, সোনামোড়ল হাওর, খরচার হাওর, আঙ্গারুলী হাওর, কালিকোট হাওর, পাকনার হাওর, দেখার হাওর, হালির হাওরসহ বড় বড় বিভিন্ন উপজেলার হাওরে মাইলের পর মাইল চাষযোগ্য জমি থেকে পানি ধীর গতিতে কমছে। ওই সব হাওরের নিম্নাঞ্চলের জমিতে এবার বোরো চাষ করা একবারেই কঠিন হবে পানির কারণে। আর হাওরের যে টুকু জমিতে পানি কমছে, সেখানেই এখন চারা রোপণের কাজের জন্য শ্রমিক পাচ্ছেন না কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ১ পৌষ থেকে ১৫ মাঘ পর্যন্ত বোরো আবাদের সময়। কিন্তু এবছর হাওরের পানি নভেম্বর মাসে না কমায় বীজতলা তৈরি করতে না পারেনি। এই সময় ৪০-৪৫ দিন বয়সী চারা লাগানোয় ব্যস্ত সময় পার করে কৃষকরা আর জলাশয় শ্রেণির জমিতে ২মাস বয়সী চারা লাগায়। বীজ বপনের সময় পার হয়ে গেলেও হাওরে পানি নিস্কাশন না হওয়ায় অন্য বছরের চেয়ে এ পর্যন্ত কম জমি চাষাবাদ হয়েছে। এবার জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫৫২ হক্টর বোরো জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হাওরে উৎপাদিত বোরো ধানের মূল্য ১৫শ কোটি টাকার বেশি।

তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর পাড়ের কৃষক খেলু মিয়া, সামায়ুন, রফিক, সাদেক আলীসহ বিভিন্ন হাওরের কৃষকরা জানান, এবার হাওরের নিচু জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে না।

তারা আরো জানান, পৌষ মাসের মাঝামাঝি সময়ে অনেক হাওরেই বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ শেষ হয়ে যায়। অথচ এখনও হাওরে পানি রয়েই গেছে। যে গতিতে পানি কমছে তাতে অসময়ে রোপন কাজ শুরু করলেও এখন শ্রমিক পাচ্ছি না।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান, হাওরে পানি কিছুটা কমলেও বেশির ভাগ হাওরে পানি রয়েছে। পানি কমে যাওয়া হাওরের অংশে বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু করেছেন এখন কৃষকরা। আমরা আমাদের সাধ্যমত এই অবস্থা কি করণীয় তা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।

তাহিরপুর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখঞ্জি জানান, এই উপজেলায় পানি কমছে। তবে একবারেই কম গতিতে। পানির সমস্যা এখনও কাটেনি। কৃষকরা এখন উৎকণ্ঠায় আছে।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহেদুল হক বলেন, হাওরের পানি না কমায় কৃষকদের শুরু থেকেই কি করণীয় সেই বিষয়ে পরার্মশ দেয়া হয়েছে।

(আজকের সিলেট/৫ জানুয়ারি/ডি/এসসি/ঘ.)

 

শেয়ার করুন