৬ জানুয়ারি ২০১৮


‘জীবন যুদ্ধে’ থেমে নেই বাকপ্রতিবন্ধিরা

শেয়ার করুন

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : বিশ্বের সবকটি দেশের মত আমাদের সমাজে এক শ্রেণীর মানুষ রয়েছে যারা দেখতে অন্যসব মানুষের মতই জীবন যাপন করেন। কিন্তু সব থাকা সত্ত্বেও তাদের মুখে নেই কোন আওয়াজ বা শব্দ। তারা হচ্ছেন বাক প্রতিবন্ধি বা বধির।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ন্যায় জৈন্তাপুর উপজেলায়ও এরূপ বেশ কয়েকজন প্রতিবন্ধি রয়েছেন। জীবন যুদ্ধে তারাও পিছিয়ে নেই। জীবিকার তাগিদে তাদের মধ্যে কয়েক জনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে দেখা যায়।

প্রতিবন্ধিরা মেধাবী হয়, এ কথাটা যেমন চিরন্তন সত্য, তেমনি আমাদের সমাজের এই অবহেলিত মানুষগুলোকে যদি কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া যেত, তাহলে তারাও এদেশের গর্বিত নাগরিক হিসেবে মূল্যবান অবদান রাখতে পারতেন। তাদের চোখ-মুখের দিকে তাকালে মনে হয় তারা বড়ই অসহায়।

সম্প্রতি জৈন্তাপুর উপজেলার ৬জন বাক প্রতিবন্ধি (বধির)’র সাথে কথা হলো। অঙ্গ-ভঙ্গি আর ইশারার মাধ্যমে তারা তাদের মনের ভাব প্রকাশ করলেন। এদের মধ্যে ৩ জন প্রতিবন্ধি বা বধির স্কুল থেকে কিছুটা লেখা-পড়া করেছে। হাতে-কলমে তারা তাদের নাম ঠিকানা লিখতে বা পত্রিকা পড়ে নিতে পারেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ব্যবহারেও তারা পারদর্শী।

তারা তাদের জীবনের হতাশা আর কষ্টের কথা বিভিন্ন ভাব ভঙ্গিতে বুঝানোর চেষ্টা করে অপরিচিত কোন মানুষ দেখলে।

তাদের কয়েকজন হলেন বধির রবি উল্লাহ, কবির হোসেন, হাবিবুর রহমান, আব্দুল হোসেন, আবুল কাসেম ও ফেদল দাস। একজন গার্মেন্টস শ্রমিক, দুইজন নির্মাণ কাজের মিস্ত্রি এবং অপর তিনজন বৈদ্যুতিক কাজ করেন। ইচ্ছা আর আত্মশক্তির মাধ্যমে মানুষ যেকোন অসাধ্যকে সাধন করতে পারে, এঁদের দেখলে তাই মনে হয়। আর তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তিন বধির বৈদ্যুতিক কাজের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় অংশ নিয়ে।

জৈন্তাপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভাগের যে কোন বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিলে মূহুর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এই তিনজন। ওরা কথা বলতে বা শুনতে না পারলেও তাদের কাছে রয়েছে অন্য সবার মত মোবাইল ফোন। রিংটোন শুনতে না পারলেও ভাইব্রেশন থাকায় কল আসার সাথে সাথে বুঝে নিতে পারেন কে যেন খুঁজছে।

দেরি না করে পাশে থাকা অন্য লোকের কাছে ফোনটা দিয়ে অপর দিক থেকে কি বলা হচ্ছে তা জনার চেষ্টা করেন তারা। তারপর ইশারা ইঙ্গিতে জেনে নেয়ার চেষ্টা করে বাক প্রতিবন্ধিরা। একটু ভেবে চিন্তে সমস্যা চিহিৃত করে নিমিশেই সমাধান করে দিচ্ছে তারা।

তবে তাদের একটা আকুতি, সরকার যদি কোন একটা ভাতার ব্যবস্থা করেন, তাহলে তারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন। এই বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় ভেবে দেখবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

 

(আজকের সিলেট/৬ জানুয়ারি/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন