৮ জানুয়ারি ২০১৮


ছেলেদের দিয়েই জোয়াল টানাচ্ছেন হাওরের কৃষক

শেয়ার করুন

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলি ইউনিয়নের ভূমিহীন কৃষক অনিল দেবনাথ। নিজের জমি নেই অন্যের জমিতে চাষ করেন। নিজের গরুও নেই। অন্যের কাছ থেকে গরু বা ট্রাক্টর ভাড়া এনে কাজ করেন তিনি।

কিন্তু গত বন্যায় ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনিল দেবনাথ। গরু বা ট্রাক্টর ভাড়া আনারও টাকা নেই। তবু তো ফসল বুনতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে নিজের দুই ছেলে ছেলে দিপক দেবনাথ ও ইমন দেবনাথের কাধে লাঙল দিয়েই জোয়াল টানাতে হচ্ছে তাকে।

সম্প্রতি উপজেলার মনিরামপুর হাওরে গিয়ে দেখা যায় হালের বলদের বদলে ছেলে দিয়েই জোয়াল টানাচ্ছেন এই কৃষক।

অনিল দেবনাথ জানা, টানা দুই বছর বোরো ফসল হারিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আট সদস্যর পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। হালের কোন বলদও নেই। তাই নিজের দুই ছেলেকে নিয়ে লাঙ্গল দিয়ে চাষের জন্য মাঠ প্রস্তুত করছেন তিনি।

হাওরের কৃষকরা জানান, এক সময় মমিনপুর হাওরে সবুজের সমারোহ ছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে পলি পড়ে হাওরটি অনাবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। সেই অনাবাদি জমিতে বোরো আবাদের চেষ্টা করেও সেচ সংকটের কারণে বোরো আবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা।

কৃষক অনিল দেবনাথ জানান, নিজের কোন জায়গা জমি নেই। ছেলে মেয়ে স্ত্রী নিয়ে তিনি অন্যের জায়গায় বসবাস করেন। জীবিকার তাগিদে মমিনপুর হাওরের অনাবাদি জমিতে গত দুই বছর ধরে বোরো আবাদ করছেন। অনেক কষ্টে পানি এনে আবাদ করে ফসলের দেখা পেলেও বন্যার কারণে ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। এবার টাকা না থাকায় গরু কিংবা ট্রাক্টর ভাড়া করে চাষাবাদ করার ক্ষমতা নেই। তাই দুই ছেলেকে নিয়ে জোয়াল টানাচ্ছেন। স্ত্রী সরলা বালা দেবনাথ জোয়াল টানায় সহযোগিতা করছেন।

কৃষক অনিল দেবনাথের ছেলে দিপক দেবনাথ ও ইমন দেবনাথ জানান, বাবার কষ্ট দেখে আমরা দুই ভাই বাবাকে সহযোগিতা করছি। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় দুই বোন কলেজে ও ছোট দুই বোন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে বলে জানায় তারা।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, কৃষক অনিল দেবনাথ নিজের জমি না থাকার পরও অন্যের জমিতে চাষাবাদ করছেন। তাঁর মতো কৃষকরা হাওর অঞ্চলকে টিকিয়ে রেখেছেন। সামান্য সার বীজ দিয়ে তাকে সহায়তা করা হয়েছে।

 

(আজকের সিলেট/৮ জানুয়ারি/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন