২৬ জুলাই ২০১৭


৪ শিশু হত্যার রায়ে উভয় পক্ষই অসন্তুষ্ট

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চাঞ্চল্যকর ৪ শিশু হত্যা মামলার ঘোষিত রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিমত, সকল আসামিরা হত্যা পরিকল্পনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল, যা তাদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও প্রকাশ পেয়েছে। এ ছাড়া আদালতের সাক্ষ্যতেও তা প্রমাণ করা গেছে। এরপরেও মূল আসামি আব্দুল আলী বাগালসহ ৩ জন খালাস পেয়েছেন। এ কারণে রায়ে সন্তোষ হতে পারেননি তারা।

রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের পিপি কিশোর কুমার কর সাংবাদিকদের জানান, এ রায়ে সন্তোষ নন তারা। তাদের আশা ছিল সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। এ কারণে রায়ের পুরো কপি হাতে পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে, বাউন্ডারি অব ল’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে না পারলেও ৪ শিশু হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ডসহ বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চাঞ্চল্যকর ৪ শিশু হত্যা মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ রায়ের প্রতি তারা সংক্ষুব্ধ, তাই ন্যায় বিচার পেতে উচ্চ আদালতে যাবেন তারা।

সাংবাদিকদের সাথে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, ‘মামলায় বিচারের জন্য যে ধরনের কনফেশন নেয়া দরকার রাষ্ট্রপক্ষ সেসব আদালতে প্রমাণ করতে পারেননি। এ ছাড়া আদালতের রায়ে মামলার অন্যতম ‘মাস্টার মাইন্ড’ আব্দুল আলী বাগালকে খালাস দেয়া হয়েছে। আমাদের কথা- মামলায় যদি শাস্তি পেতে হয় তবে সকল আসামিকেই শাস্তি দিতে হবে আর খালাস পেলে সকলেই পাবেন, কিন্তু তা না করে আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।’

এ রায় ভবিষ্যতে ‘আইনের পরিপন্থী’ রায় হিসেবে পরিগণিত হবে উল্লেখ করে আইনজীবী মো. শফিউল আলম বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্তে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে পারেননি। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও বাউন্ডারি অব ল’ অনুযায়ী আদালতে প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে পারেননি। তাই আমরা এই রায়ের ন্যায় বিচার পাইনি।’

পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে যাবেন বলেও জানান তিনি। আর সেখানেই তারা ন্যায় বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আসামিপক্ষের এই আইনজীবী। আসামিপক্ষের আইনজীবী প্যানেলে আরও ছিলেন- আশরাফুল বারী নোমান এবং হোসাইন আহমদ শিপন।

বুধবার সকাল সাড় ১১টার দিকে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক মকবুল আহসান আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৩ জনকে ফাঁসির দণ্ড এবং আরও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া, আর ২ আসামিকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড; একই সাথে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তাছাড়া, অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় ৩ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত।

 

 

(আজকের সিলেট/২৬ জুলাই/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন