২৮ জুলাই ২০১৭


শীঘ্রই হচ্ছে গোলাপগঞ্জ ছাত্রলীগের কমিটি, লবিংয়ে ব্যস্থ নেতাকর্মীরা

শেয়ার করুন

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের। কমিটি গঠনের খবরে শুনে গোলাপগঞ্জ ছাত্রলীগে দেখা দিয়েছে প্রাণ চাঞ্চল্যতা। এ নিয়ে মিষ্টি বিতরণও করছে অনেকে। অবশেষে অভিভাবকহীন হয়ে থাকা ছাত্রলীগ নতুন প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। তাদের এই বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে উৎফুল্ল আওয়ামী পরিবারও।

নতুন কমিটি গঠন হচ্ছে এমন খবর গোটা উপজেলায় চলছে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ। ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সভাপতি ও সেক্রেটারীর আসন দখল করতে নেতা কর্মীরা জেলা-উপজেলার শীর্ষ নেতাদের কাছে দৌড় ঝাঁপও শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে তদবিরও। কে হচ্ছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা, পৌরসভা ও ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রী কলেজে মূল কান্ডারী।

এ নিয়ে ছাত্রলীগ পরিবারে কৌতুহল ও আলোচনা-সমালোচনার অন্ত নেই। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রধান বাজারগুলোর কম্পিউটার দোকানগুলোতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ভীড়। প্রার্থীরা জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনার পর থেকে কম্পিউটারের দোকানে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বায়োডাটা রেডি করার জন।

গোলাপগঞ্জ বাজার আহমদ খান রোডের সুজন কম্পিউটারের মালিক সুজন দেব নাথ বলেন, গোলাপগঞ্জ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কমিটি গঠনের খবর পেয়ে বায়োডাটা রেডি করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই ৩দিনে বাড়তি ৪/৫ হাজার টাকা রোজগার করতে পেরেছি।

এই কমিটিতে যারা প্রার্থী হয়েছেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রুহিন আহমদ খাঁন গ্র“প ও কানাডা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সারওয়ার হোসেনের বিশ্বস্ত কর্মী আবু তাহের নাহিন সভাপতি পদে ও মাহমুদ আহমদ পৌর সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রীর আস্তাভাজন ব্যক্তি গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আকবর আলী ফখর সমর্থিত গোল্ডেন গ্র“প থেকে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি পদে মুহাম্মদ দিদার, সাধারণ সম্পাদক পদে হুমায়ুুন কবির রুবেল গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে শাহ ইমরান, সাধারণ সম্পাদক পদে এমদাদুল ইসলাম,কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি পদে আহমেদ মারজান সাধারণ সম্পাদক পদে মাহিন আহমেদ কিবরিয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জিলাল আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ এমরুল দৌড় ঝাঁপ করছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে নাজমুল আমিন শাহাদাৎ, সাধারণ সম্পাদক পদে ফরহাদ আহমেদ, কলেজ ছাত্রলীগের পদে আসিফ ইমরান, শুভ ও লাভলু জন্য।

গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র পাপলু গ্রুপ থেকে দিদারুল আলম, রুমেল, সাব্বির, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনসুর গ্র“প থেকে নাহিদ, হেলু, আসাদুল, ফয়জুর, জুয়েল আহমদ, রাজন আহমদ।

এছাড়া গোলাপগঞ্জ পৌর মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরীর ছেলে মাজেদ শরীফ চৌধুরীকে গোলাপগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি পদে আনার জন্য জোর লবিং চলছে। ২২ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক এম. রায়হান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বলা হয় সিলেটে ছাত্রলীগের ধারাবাহিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নে ও নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে গোলাপগঞ্জে ছাত্রলীগের তিন ইউনিট কমিটি গঠন করা হবে। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী প্রার্থীদের ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে জীবন বৃত্তান্ত জমাদানের আহ্বান করা গেল।

এছাড়া জীবন বৃত্তান্তের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের ছায়াকপি, এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও এসএসসি পরীক্ষার সনদপত্রের ছায়াকপি জমা দিতে বলা হয়েছে। ২০০৬ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের পর কমিটি অনুমোদন করা হয় ২০০৭ সালে ৩ মার্চ। সম্মেলনের পর খায়রুল হককে সভাপতি ও রুহিন আহমদ খানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা ছাত্রলীগ।

 

(আজকের সিলেট/২৮ জুলাই/এমআর/ঘ.)

শেয়ার করুন