২৯ জুলাই ২০১৭


‘ভাংগা’ রুমেই উঠছেন এমসি কলেজের শিক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ কলেজ ছাত্রাবাসের ভাঙাচোরা রুমেই উঠতে যাচ্ছে ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। সাম্প্রতিছাত্রাবাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে আবারও তালা দিলে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে জানানো হয় শনিবার খুলবে ছাত্রাবাস।

সীমাহীন দুর্ভোগে থাকা ছাত্রাবাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ২০ জুলাই মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিলেও সকাল ১১টার দিকে আলোচনার জন্য প্রিন্সিপাল অফিসে যায় শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। দুপুরের দিকে ছাত্রলীগের সঞ্জয় গ্রুপের দেলোয়ার-হোসাইন মধ্যস্থতায় স্বারকলিপি দেয় শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রাবাসের শ্রীকান্ত ব্লক, ৩নং ও ৫ নং ব্লকের ছাদ খসে পানি পড়া, ফ্যান না থাকা রুমগুলোতে এখন যোগ হয়েছে ভাঙা দরজা-জানালা। ছাত্রাবাস পোড়ানোর পর পুন:সংস্কার আর উন্নয়নের নামে কর্তৃপক্ষ-ঠিকাদার-রাজনৈতিক নেতাদের ত্রিমুখী লুটপাটে ছাত্রাবাসের বাস্তবিক অর্থে কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। আর এখন ভাঙচুর হওয়া রুমগুলোতে থাকার জন্য দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে আমাদেরকে পত্রিকা, শক্ত কাগজ কিংবা বোর্ড দিয়ে আপাতত চালিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে কষ্ট করে হলেও অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে বাঁচার জন্য ছাত্রাবাস উঠতে চায় শিক্ষার্থীরা।

ভাঙচুর হওয়া দরজা-জানালার সংস্কার না করে শিক্ষার্থী তোলার ব্যাপারে জানতে চাইলে হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দীন বলেন, প্রশাসনিক বিষয়াদি থাকায় নিয়ম মেনেই ছাত্রাবাস সংস্কার করা হবে।

ইনকোর্স, ব্যবহারিক ক্লাস, ফাইনাল পরীক্ষা, টিউশন নিয়ে বিপাকে পড়া ছাত্রাবাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতির সন্ত্রাসীদের বিচার না হওয়ায় নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ছাত্রাবাসে পুলিশ মোতায়েন বা এ ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর নিতাই চন্দ্র চন্দ।

প্রত্যেক বৈধ শিক্ষার্থীকে আবাসিক কার্ড দেয়ার পাশাপাশি বহিরাগত, অবৈধ গেস্টদের থাকার ব্যাপারে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করতে চলেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। আবাসিক কার্ডবিহীন কোনো শিক্ষার্থীকে ছাত্রাবাসে পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরে নিয়ে গেলে এর দায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন কলেজ শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক তোতিউর রহমান।

উল্লেখ্য, ১২ জুলাই ছাত্রলীগের টিটু ও সঞ্জয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে ১৩ জুলাই সকালে ছাত্রাবাসের ৩৯টি কক্ষ ভাঙচুর করে টিটু গ্রুপ অনুসারীরা। ভাঙচুরের জের ধরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

আসাম প্যাটার্নের সেমি পাকা আদলের এ ছাত্রাবাস ১৩ জুলাই ভাঙচুর হওয়ার আগে ২০১২ সালের ৮ জুলাই পুড়িয়ে দেয় ছাত্রলীগের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। বর্তমানে যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে।

আর ১৩ জুলাইয়ের ছাত্রাবাস ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত করে মামলা করেছেন কলেজ অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ। যার মধ্যে ৬ আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

ছাত্রাবাস সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রাবাস পোড়ানোর মতো ভাঙচুর মামলার আসামিদের অধিকাংশই ছাত্রাবাসের ‘অবৈধ’ ও বহিরাগত শিক্ষার্থী।

 

(আজকের সিলেট/২৯ জুলাই/ডি/এসবি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন