৩০ জুলাই ২০১৭


মিরাবাজারে সড়কে আবর্জনার স্তূপ, ভোগান্তি

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর মিরাবাজার এলাকায় প্রধান সড়কের পাশেই স্তূপ করে রাখা হয়েছে ময়লা-আবর্জনা। জমে থাকা এসব আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। শুধু তাই নয়; সাইজে ছোট থাকায় ডাস্টবিনে ময়লা-আবর্জনা সংকুলান হয় না। এ কারণে উন্মুক্ত স্থানে ফেলা এসব ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ছে মূল সড়কেও। ফলে বাধ্য হয়ে দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নাকে-মুখে রুমাল চেপে চলাচল করছেন পথচারীরা। পড়ছেন ভোগান্তিতেও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলা আশপাশ এলাকার কিছু স্থানীয় বাসিন্দা এখানে আবর্জনা ফেলেন। মিরাবাজারের পোলট্রি ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাও বর্জ্য ফেলছেন নিয়মিত। প্রতিদিন রাতের বেলা সেখান থেকে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে ময়লা সরিয়ে ফেললেও সকালে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফের তৈরি হয় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। আর দিনের বেলা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ না করায় তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দাদের অস্বস্তিকর অবস্থায় বসবাস করতে হচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টি হলে ময়লা-আবর্জনা পানির সঙ্গে ভেসে আসছে মূল সড়কে। এতে পথচারীরাও পড়েন বিপাকে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সিলেট-তামাবিল সড়কের মিরাবাজার জিপি হাউসের পাশের একটি ছোট ডাস্টবিন থাকলেও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে সড়কের পাশে স্তূপের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়ির ময়লা সংগ্রহ করে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা এখানে ফেলছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আজহার আলী জানান, এ ডাস্টবিনের পাশে মিরাবাজার মডেল উচ্চবিদ্যালয় এবং শ্রী শ্রী বলরাম জিউর আখড়ার অবস্থান। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে এমসি কলেজ, সিলেট সরকারি কলেজ এমনকি পর্যটন স্পট জাফলং-শ্রীপুরে যেতে হয়। এ কারণে এ রাস্তার পাশ দিয়ে অনেক লোক চলাচল করেন। কিন্তু প্রতিদিন আছরের পর থেকে ছোট ছোট ভ্যান গাড়িযোগে এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। ড্রেনের নিচ দিয়ে প্রবাহিত ছড়ায়ও অনেকে ময়লা ফেলেন। যে কারণে ডাস্টবিন এলাকায় মাছি ও ইঁদুর বাসা বেঁধেছে। অনেক সময় কুকুর ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে। ফলে ময়লা থেকে প্রচুর দুর্গন্ধ ছড়ায়। লোকজনকে নাকে রুমাল চেপে বা নাক বন্ধ করে চলাচল করতে হয়।

তিনি বলেন, তাদের পাড়ার প্রায় ৩৬ পরিবারের জন্য এ ডাস্টবিন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলেও জানান আজহার আলী। তিনি জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি জানানোর পর একদিন ওই ডাস্টবিন সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এর বাইরে তিনি এ ব্যাপারে আর কোনো পদক্ষেপ নেননি।

তিনি জানান, প্রতিদিন রাত ৯টার পর সিটি করপোরেশন ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করলেও প্রতিদিন দিনের বেলা ডাস্টবিনটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়।

এ রাস্তা দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান আহমদ জানান, সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থাকায় হাঁটতে হয় মূল সড়ক দিয়ে। এ কারণে বিভিন্ন সময় দুর্র্ঘটনা ঘটে থাকে। এছাড়া দুর্গন্ধের কারণে নাকে-মুখে রুমাল চেপে চলতে হয় বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছয়ফুল আমিন বাকেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের চিফ কনজারভেন্সি অফিসার হানিফুর রহমানও মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

 

 

(আজকের সিলেট/৩০ জুলাই/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন