আজ শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

দূর্গাপুজায় আনসার-বিডিপির নামে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ

  • আপডেট টাইম : October 2, 2017 12:31 PM

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার দুর্গাপূজায় মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা রক্ষার্থে তালিকাভুক্ত অনেক আনসারকেই ডিউটিতে দেখা যায়নি। এরকম ভূয়া আনসারের নাম দিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ভিডিপি উধ্বর্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

আনসার ভিডিপি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর দুর্গাপূজায় জেলায় ১ হাজার ৪২ টি মণ্ডপ তৈরি হয়েছিল। গত ২১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা পুলিশ আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত মতবিনিময় সভা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল জানিয়েছিলেন, শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সারা জেলার প্রত্যেক মণ্ডপে পুলিশ, র‌্যাব ও আনসারসহ মোবাইল ডিউটি থাকবে। এই মণ্ডপগুলোতে পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সারা জেলায় ৯০৫ জন পুলিশ ফোর্সসহ ৭ হাজার আনসার নিয়োজিত থাকবে।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সব পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পুরো ৭ হাজার আনসার সদস্য দায়িত্বে ছিলো না। পূজা মণ্ডপগুলোকে খুব গুরুত্বপূর্ণ, অগুরুত্বপূর্ণ ও স্বাভাবিক মণ্ডপ এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তালিকায় খুব গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে ৮ জন, অগুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে ৬ জন, সাধারণ মণ্ডপে ৪ জন করে আনসার নিয়োগ দেখানো হয়েছে। আনসাররা পিসি, এপ পি সির দৈনিক ভাতা ৩৫০ টাকা, সাধারণ আনসারদের ভাতা দৈনিক ৩২০ টাকা হিসাবে ৫ দিনের ভাতা পাওয়ার নিয়ম রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজনগর উপজেলায় ১১৮ টি পূজা মণ্ডপ ছিলো। সেখানে খাতা পত্রে ৫১০ জন আনসার দায়িত্ব পালন দেখানো হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি কেন্দ্রে ১ থেকে ২ জন আনসার ডিউটিতে নেই। হিসাব মতে ১১৮ মণ্ডপে অন্তত ১২৮ জন আনসার সদস্য অনুপস্তিত।

শ্রীমঙ্গলে ১৬৬ টি মণ্ডপে ৭৯৮ জন আনসার খাতা পত্রে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মণ্ডপের সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে বলে জানা যায় প্রতিটি মণ্ডপে ১ জন থেকে ২ জন আনসার ডিউটিতে নেই। সূত্রমতে প্রায় ১৭৫ জন আনসার কম ছিল। কমলগঞ্জে ১৩০টি মণ্ডপে ৬৮৪ জন আনসার কাগজে পত্রে ডিউটি পালন করছে। কিন্তু ডিউটিতে অনুপস্তিত ছিল প্রায় ১৭১ জন। কুলাউড়ায় ২১২টি মণ্ডপ ছিলো। অফিসের খাতায় ১১৪৮ জন আনসার ডিউটিতে ছিল। সূত্রমতে, ৩৩৩ জন আনসার ডিউটিতে ছিল না। মৌলভীবাজার জেলায় ১০৪২টি পূজা মণ্ডপে প্রায় ১৭ শত আনসারের নাম কাগজ পত্রে দেখিয়ে প্রায় ২৫ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা কর্মচারী। পূজা, ইউপি নির্বাচন, পৌর নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য আনসার নিয়োগে কারচুপির বিষয়টি অনেক পুরনো।

এ নিয়োগ করার জন্য আনসারদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায় করা হয় নির্ধারিত হারে। ওই উৎকোচের টাকাও আধাআধি ভাগাভাগি হয় উপজেলা ও জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের মধ্যে। কিন্তু নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার ও কালো তালিকাভূক্ত হবার ভয়ে আনসাররা মুখ খোলার সাহস পাননা।

এ ব্যাপারে রাজনগর উপজেলা আনসার ভিডিপি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামছুনাহার বলেন, তারা পুলিশের নিকট সিসি কেটে আনসার ভিডিপি সদস্য বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখন যদি ডিউটিতে কম তাকে তা হলে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। তবে কোথায়ও ডিউটিতে আনসার নেই এমন খবর তাদের কাছে নেই।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার আনসারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুনা চৌধুরী শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সব জানেন বলে মন্তব্য করেন। শ্রীমঙ্গল থানার ওসি এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কমলগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা নাসিমা বেগম অভিযোগ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি জানান, কর্মকর্তা আব্দুল হাই অসুস্থ্য ২/৩ দিন ধরে অফিসে আসেননি।

একটি সূত্র জানায়, আব্দুল হাই তার রাজনগর বাড়িতে বসে মাসের শেষে বেতন গুনেন। প্রায় সময় অফিসে আসেন না।

কুলাউড়া উপজেলার আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই দুর্গাপূজার গুরত্বপূর্ণ সময়ে অসুস্থ্য দেখিয়ে অফিসে আসেননি। দুর্গাপূজায় খাতা পত্রে আনসারের নাম দেখিয়ে প্রায় ২৫ লক্ষাধিক টাকা লুটপাট হচ্ছে এভাবেই সরকারের সাগর চুরি করে চলেছেন আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তারা।

 

 

(আজকের সিলেট/২ অক্টোবর/ডি/এসসি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ