আজ শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

মৌলভীবাজারে ইউপি ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : January 16, 2018 6:03 AM

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়েও এলাকাবাসীর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল। প্রজেক্টর পাশে কাজের বিবরণীসহ সাইনবোর্ড টানানোর কথা থাকলেও সরকারের সে নিয়ম এখানে মানা হয়নি। নিজেদের দুর্নীতি আড়াল করতেই এমনটা করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এলাকাবাসী ও একটি সূত্র জানায়, কাজটি পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান এর নামে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় টেন্ডার হয়। তবে ফজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার নামে কাজ আসছে কি না এটা আমার জানা নেই। হয়তো বা আমার নামে কেউ এনে কাজ করাতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া ও মেম্বার আল-আমিন ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি কিনে এনেছেন।

সূত্র জানায়, ইউপি সদস্য আল-আমিন এখান থেকে মাটি নিয়ে উনার বাড়ির রাস্তাও ভরাট করেছেন। তবে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, যৌথভাবে মেয়র ফজলুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সুমন ও তোয়েল মিয়া কাজ পেয়েছেন।

জেলা প্রশাসকের কাছে দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, কমপ্লেক্স ভবনের বেইজ তৈরির কাজে এক্সিলেটর দিয়ে পুকুরের মতো মাটি খনন করে চতুর্দিকে রাখলে অধিকাংশ মাটি আবার গর্তে পড়ে যায়। গর্তে পড়ে যাওয়া মাটিগুলো পুনরায় না তুলে মনুনদী থেকে পাইপ লাইন সংযোগ করে পলি মাটি মিশ্রিত বালি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। অথচ ৬ ফুট উঁচু করে বালি দ্বারা ভরাট করা কথা। অনিয়মের বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে অবগত করলেও সমাধানের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া কাজ করানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, চিঠির মাধ্যমে আমাদের অবগত করা হয়েছে, এজন্য দেখাশোনা করছি। শ্রমিকরা বলছে আপনি তাদেরকে কাজের দাম নির্ধারণ ও টাকা দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিকাদার সুমন ভাইয়ের দেয়া টাকা আমি তাদের কাছে পৌঁছে দেই।

ওদিকে ইউপি সদস্য আল-আমিন কাজ করানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ইউপি সদস্য হিসেবে আমি দেখাশোনা করছি। তবে এলাকাবাসী বলছে আপনি কাজ করাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আর কিছু বলেননি।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জহির মেহেদী হাসান বলেন, সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখানে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।

(আজকের সিলেট/১৬ জানুয়ারি/ডি/এসসি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ