আজ রবিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং

পানি অভাবে নাকাল রোহিঙ্গারা

  • আপডেট টাইম : March 30, 2018 5:55 AM

আজকের সিলেট ডেস্ক : চৈত্রের প্রচণ্ড খরতাপে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস উঠেছে। তার ওপর পলিথিনের অসহনীয় উত্তাপ। এসব ঝুপড়িতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা খুবই করুণ। ক্যাম্পের কোথাও কোনো সবুজ গাছপালা নেই। চাহিদা অনুপাতে পানি সরবরাহ অপ্রতূল। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ছেলে-মেয়েরা অস্বস্থিকর পরিবেশে বসবাস করছে।

বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া ও মধুরছড়া ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের এ ভোগান্তির কথা জানা যায়।

রোহিঙ্গারা জানান, ক্যাম্পে কোনো গাছ-পালা না থাকার গরমের মাত্রা বেড়েছে দ্বিগুন। মধুরছড়া ধুধু পাহাড়ে আশ্রয় নেয়া রহিমা খাতুন (৪৫) বলেন, ক্যাম্পের টিউবওয়েল থেকে এখন পানি উঠে না। এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে গিয়ে পানি আনতে হয়। ওই পানি দিয়ে খাওয়া-দাওয়া, গোসলসহ সব কিছু সারতে হয়।

মধুরছড়া ক্যাম্পের আরো একটু উত্তরে গিয়ে দেখা যায়, হাহাকার অবস্থা। সালামাতুল্লাহ (৪২), আব্দুর রহমান (৪০) হামিদ হোসেন (৩৬) জানান, এখানে তারা যখন ৬ মাস আগে যখন আশ্রয় নিয়েছেন তখনও কিছু কিছু গাছ ছিল। তাদের আশ্রয়ের সুযোগ নিয়ে স্থানীয়রা রাতের আধারে গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে। পরে পাহাড় কেটে ঝুপড়ি নির্মাণ করায় ঘাস পর্যন্ত মরে গেছে। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে বসানো টিউবওয়েলগুলোর বেশির ভাগ অকেজো হয়ে গেছে। যে কারণে পানির জন্য মেয়েদের ১/২ কিলোমিটার পর্যন্ত আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে।

ধুরছড়া ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ব্র্যাকের একটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, ২/৩জন মেয়ে কিছু ওষুধ নিয়ে বসে আছে। জানতে চাওয়া হলে তারা ব্র্যাকের মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী পরিচয় দিয়ে বলেন, এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ওষুধ দেয়া হয়ে থাকে। প্রচন্ড গরমে শিশুরা সর্দি, কাশি ও বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব রোগীদের মধ্যে আশঙ্কাজনক মনে হলে তাদেরকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

ক্যাম্পের অধিকাংশ নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ারবিষয়ে ব্র্যাকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আলী আজম জানান, ক্যাম্পে পানির চাহিদা নিরসনের লক্ষ্যে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের আওতায় বেশ কয়েকটি ভাউচার খাবার পানি সরবরাহ করতে দেখা গেছে। তাতেও পানির জন্য দীর্ঘ লাইন।

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পানি সংকট নিরসনের লক্ষ্যে প্রায় দেড় হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা গভীর নলকূপ স্থাপন করছে। অগভীর নলকূপ অকেজো হয়ে যাওয়ার কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যে পানি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে শিগগিরই এ সমস্যা আর থাকবে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মিজবাহ উদ্দিন জানান, ক্যাম্প এলাকায় তাপমাত্রা একটু বেশি। কারণ সেখানে কোনো গাছপালা নেই। উপরন্তু পলিথিনের গরমে বিভিন্ন রোগ বালাই বাড়ছে। হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। যেসব রোগী চৈত্র মাসের গরমে আক্রান্ত হয়েছে।

(আজকের সিলেট/৩০ মার্চ/ডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ