আজ বৃহস্পতিবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

স্থগিত কেন্দ্র কী প্রভাব ফেলতে পারবে নির্বাচনের ফলাফলে?

  • আপডেট টাইম : August 2, 2018 6:00 AM

অতিথি প্রতিবেদক : সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চূড়ান্ত ফলাফল এখনও ঘোষণা হয়নি। দু’টি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত হওয়াতেই ফল বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছে। ওই দুই কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচন হওয়ার পর চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হবে। ওই ‍দুই কেন্দ্র নিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী চিন্তিত নন।

তবে পরাজয়ের চিন্তায় আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। বতর্মানে প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী আরিফ ৪৬২৬ ভোটে এগিয়ে আছেন কামরান থেকে। আর স্থগিত দুই কেন্দ্রের ভোট সংখ্যা ৪৭৮৭।

এ হিসাব অনুযায়ী নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ দু’টি কেন্দ্রে নির্বাচন হলেও ফলাফলে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারবে না।

সিলেট গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এ দু’টি কেন্দ্রের ভোট যথাক্রমে ২২২১ ও ২৫৬৬। সবমিলিয়ে ভোটের সংখ্যা ৪৭৮৭।

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচনি কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান বলেন, ব্যালট ছিনতাই ও ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার দায়ে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাদ্রাসা (১১৬নং কেন্দ্র) ও ২৭ নং ওয়ার্ডের হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৩৪ নং কেন্দ্র) ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এ দু’টি কেন্দ্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে সার্বিক বিষয় তুলে ধরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে সিদ্ধান্ত আসার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইন সংশোধিত ৩৭ (২) এর উপবিধিতে বলা আছে, বিধি (১) এর অধীনে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হলে রিটার্নিং অফিসার অবিলম্বে এ বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করবেন এবং কমিশন নতুনভাবে ভোটের নির্দেশ দেবেন।

কতদিনের মধ্যে স্থগিত কেন্দ্রের ভোটগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে কবে সিদ্ধান্ত আসবে তা আমার বলার এখতিয়ার নেই। তবে ধারণা করছি ৩/৪দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত একটা আসবে।

গাজী বুরহান উদ্দিন কেন্দ্রের ভোটার শাহনেওয়াজ আহমেদ বলেন, আমরা ভোটের দিন সকালে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছিলাম। কিন্তু দুপুরের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ভোটকেন্দ্রে হামলা হয়। যার কারণেই ভোট কেন্দ্র স্থগিত করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে মানুষের নিরাপত্তা যেখানে দিতে পারে না, সেখানে তাদের রেখে কী লাভ? স্থগিত কেন্দ্রে ভোট হলে আরও সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমি আর ভোট দিতে যাবো না।

এ কেন্দ্রটি ২৪ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সুহেল আহমদ রিপন বলেন, আসলে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হোক এটা আমরা চাই। তবে এই কেন্দ্রে আবার ভোট গ্রহণ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ ভোটার ভোট দিতে আসবে না ভয়ে।

স্থগিত হওয়া দু’টি কেন্দ্র সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি প্রার্থী আরিফ বলেন, এই দু’টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোট ডাকাতি করতে গেলে সংঘাত-সংঘর্ষ হয়। যার কারণেই প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশে কেন্দ্র দুটির ভোট স্থগিত করা হয়। আমি আশাবাদী, ১৩২টি কেন্দ্রের ফলাফল যেহেতু আমার পক্ষে এসেছে, এই দুটি কেন্দ্রের ভোটাররাও আমাকে তাদের মূল্যবান ভোট দিতে অনীহা জানাবেন না।

তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

তবে তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, আরিফুল হকের কেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ ব্যালটে ধানের শীষে সিল মারা হয়েছে। এক পর্যায়ে নৌকার ব্যাজ পরে বিএনপির সমর্থকরা রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ নগরীর অর্ধশতাধিক কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে জাল ভোট মেরেছে।

হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মহিলা ভোটার চাকরিজীবী ফারজানা জামান বলেন, আসলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আর কোনও ইচ্ছা নেই। নিরাপত্তায় যারা থাকেন তারা কোনও ব্যবস্থাই নেন না। সুযোগ পেলে বরং পুলিশ আরও খারাপ ব্যবহার করে।

এই কেন্দ্রটি ২৭নং ওয়ার্ডের আওতাধীন। এই ওয়ার্ডে নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে অংশ নেন নজরুল ইসলাম ও সাবেক প্যানেল কাউন্সিল আজম খান।

এ বিষয়ে আজম খান বলেন, ভোট উৎসব একদিনের। কিন্তু এই উৎসবকে কেন্দ্র করে আরও সময় গড়ালে ভোটারদের আগ্রহ কমে যায়। আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত ভোট গ্রহণের দাবি জানাই। আর যাতে কোনও কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। তারা যদি কঠোর না হন তাহলে আবার ঘটতে পারে আরও বড় ধরনের কোন সংঘাত।

প্রসঙ্গত, ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ফলাফলে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ভোট পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০।

(আজকের সিলেট/২ আগষ্ট/ডি/এমকে/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ