আজ শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

হবিগঞ্জে এসএসসি’র ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি-আদায়ের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : November 13, 2018 2:48 PM

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে হবিগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি-আদায়ের অভিযোগ উঠেছে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারী এ নির্দেশনা মানলেও বেশিরভাগ মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতেই নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। চলতি বছর ১৪ অক্টোবর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের এক নির্দেশনায় অতিরিক্ত ফি আদায় না করার জন্য বলা হয়।

জানা যায়, ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫’শ ৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছে শিক্ষাবোর্ডগুলো যা সরকারি নির্দেশনায় ও রয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫’শ ৬৫টাকা। তবে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি যোগ হলে এই হিসেব আরেকটু বেশি। মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষায় ১ হাজার ৪শ ৪৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বোর্ড।

বোর্ড ফি-নির্ধারণ করলেও বাস্তব চিত্র তার উল্টো। জেলার স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অযুহাতে দ্বিগুন টাকা আদায় করছে স্কুলগুলো। কোন কোন স্কুল কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে আবার কোথায়ও নোটিশ ছাড়াই এসব ফি আদায় করা হচ্ছে। এ বছরই যে বাড়তি ফি আদায় করছে তা কিন্তু নয়। বছরের পর বছর একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। অনিয়ম হলেও বিষয়টি এখন স্বাভাবিক ভাবেই দেখছে স্কুলগুলো।

অভিভাবকরা বলেছেন, অবস্থাটা এমন যে নানা ফন্দি, নানা কৌশলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যত বেশি আদায় করা যায় ততই তাদের কাছে মামুলিক ব্যাপার মনে হয়। এই সুযোগে স্কুল কর্র্তৃপক্ষের পকেট ভারি হচ্ছে অবৈধ টাকায়। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ি অসহায় অভিভাবকরা সন্তানের ফরম পূরণ করাচ্ছেন। কষ্ট হলেও অর্থের দিকে তাকাননি।

একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, আমরা আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বেতনাদি পরিশোধ করেছি। জানুয়ারি থেকে ক্লাস, কোচিং ও স্কুলের মডেল টেস্ট বন্ধ থাকবে। অথচ আমাদের কাছ থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত স্কুলের বেতন আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া আদায় করা হয়েছে অতিরিক্ত ক্লাস ও মডেল টেস্টের টাকাও। এর প্রতিবাদও করা যায়নি। বাড়তি ফি’র বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালেও কোনো লাভ হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধুমাত্র সরকারি স্কুলগুলোতে বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কিছু টাকা বেশি নিচ্ছে। আর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেশন ফি, সেন্টার ফি, কোচিং ফি ও অগ্রিম মাসের বেতনসহ সব মিলিয়ে বোর্ডের ফি’র চেয়ে দ্বিগুন আবার কোন কোন ক্ষেত্রে তিনগুণ বেশি নিচ্ছে স্কুলগুলো। জেলার বেশ কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সাথে আলাপকালে এ তথ্য জানা যায়।

হবিগঞ্জ শহরের জে কে এন্ড এইচকে হাই স্কুল এন্ড কলেজ, হবিগঞ্জ দারুচ্ছুন্নাত ফাযিল মাদ্রাসা, হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হবিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, উমেদনগর হাই স্কুল, ভাদৈ আইডিয়াল হাই স্কুল, বানিয়াচং উপজেলার ডাঃ ইলিয়াছ একাডেমী, এলআর উচ্চ বিদ্যালয়, মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী খুর্শিদ হাইস্কুল এন্ড কলেজ, প্রেমদাময়ি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, আউলিয়াবাদ আরকে উচ্চ বিদ্যালয়, বাহুবল উপজেলার মিরপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী একাডেমী এন্ড হাইস্কুলসহ জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ যমুনা নিউকে জানান, শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্টান অতিরিক্তি টাকা আদায় করে তা হলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ