আজ রবিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং

ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে ‘শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা’!

  • আপডেট টাইম : May 11, 2019 7:19 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট : নগরীর নয়সড়কে অভিযানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ব্যবসায়ীরা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শ্রম আইনে শ্রমিকদের সপ্তাহে এক দিন ছুটি প্রদানের বিধান রয়েছে। ফলে সিলেটে বেশিরভাগ মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুক্রবার বন্ধ থাকে। কিন্তু শুক্রবার নয়াসড়ক এলাকার কয়েকটি কাপড়ের দোকান খোলা রাখা হয়।

এ ব্যাপারে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ পেয়ে বিকেলে অভিযানে যায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পাঁচ সদস্যের একটি দল।

অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্যরা জানান, অভিযানে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা তাদের অভিযানে বাধা দেন এবং তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ, ব্যবসায়ী নেতা মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বের করে আনেন।

এ ব্যাপারে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক তপন বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘শ্রম আইনে আছে, শ্রমিকরা সপ্তাহে একদিন ছুটি পাবেন। সিলেটে যেহেতু শুক্রবার মার্কেট, শপিংমল প্রভৃতি বন্ধ থাকে, সেহেতু শ্রমিকরা শুক্রবার ছুটি কাটান। তবে ঈদকে সামনে রেখে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ আমাদের সাথে বসেছিলেন। তারা ঈদ উপলক্ষে রমজানে শেষ তিন শুক্রবার (১৭ মে থেকে) শপিংমল, কাপড়ের দোকান সব খোলা রাখতে চান বলে জানান। আমরাও তাদের ব্যবসার বিষয়টি বিবেচনা করে এতে অনুমতি দেই।’

তিনি বলেন, ‘নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ বৃহস্পতিবার আমাদের কাছে এসে আজ শুক্রবার দোকানপাট খোলা রাখার কথা জানান। তবে আমরা যেহেতু আগেই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নেই, তাই নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই আমরা তাদেরকে আজ শুক্রবার দোকানপাট খোলা না রাখতে অনুরোধ করি।

ব্যবসায়ীরা তা না শুনে আজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখেন। এনিয়ে শ্রমিক নেতারা আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। বাধ্য হয়ে আমরা অভিযানে গেলে নয়াসড়ক এলাকার কিছু ব্যবসায়ী বাধা দেন। তারা আমাদের সরকারি গাড়িতে ঘুষিও মারেন। পরে চেম্বার সভাপতি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।’

এ ব্যাপারে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ বলেন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নয়সাড়কে অভিযানে গেলে তাদের সাথে ব্যবসায়ীদের কিছুটা ভুলবুঝাবুঝি হয়। এতে উত্তেজনা দেখা দেয়। আমরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ