আজ শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

ঈদ নিরাপত্তায় আড়াই হাজার র‌্যাব-পুলিশ

  • আপডেট টাইম : June 1, 2019 11:13 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ মৌসুমি অপরাধ রুখতে সিলেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। র‌্যাব পুলিশের তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়। ৩২টি টহল টিম আর সাদা পোশাকে দেড়শ’ র‌্যাব সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। নিরাপত্তার ছক এঁকে সিলেটে আড়াই হাজারেরও বেশী পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।

মহানগরীর শপিংমল, মার্কেট কেন্দ্রীক এলাকায় সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা এবং বেলা ২টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হেেছ। এছাড়া মার্কেটগুলোতে ছিনতাইকারী বা ইভটিজিংরোধে দেড়শ’রও বেশী সাদা পোশাকে নারী পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। মার্কেটের ব্যবসায়ী কিংবা ঈদের কেনাকাটায় টাকা লেনদেনের সময় ব্যাংকিংখাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য রয়েছে বিশেষ টিম।

অপরদিকে, টিকেট কালো বাজারি রোধে সিলেট মহাসড়কে ছিনতাই-ডাকাতিসহ সকল অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রমজানের প্রথম দিন থেকেই পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছে উল্লেখ করে সিলেট রেঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. আনিসুর রহমান খান বলেন, সিলেটের ১১ উপজেলার মধ্যে গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ, বিয়ানীবাজার, বালাগঞ্জ প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকায় মার্কেটগুলোতে পুলিশ সদস্যরা সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত, পর্যটন এলাকা সমূহে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, টিকিট কালোবাজারি রুখতে বিশেষ ফোর্স সাদাপোষাকে রয়েছে।

নির্ধারিত পোশাকে, সাদা পোশাকে এবং টহলটিম এই তিনস্তরের নিরাপত্তা ছকে মাঠে কাজ করছেন র‌্যাব-পুলিশের আড়াই হাজারেরও বেশী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

র‌্যাব-৯’র সিলেট মহানগরীর এলাকায় ২০টি গাড়ি টহল, ১২টি মোটর সাইকেল টহল টিম সার্বক্ষনিক কাজ করবে। এছাড়া সাদা পোশাকে দেড়শ’ র‌্যাব সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছেন। চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ সবধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে তারা।

সিলেট রেঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. আনিসুর রহমান খান বলেন, সিলেটবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রয়োজন হলে দাঙা পুলিশদেরও মাঠে নামানো হবে।

র‌্যাব-৯’র সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সত্যজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, ২৪ ঘণ্টা মোটর সাইকেল টহলের তিনটি টিম মাঠে কাজ করছে। এছাড়া ঈদ নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নগরীর প্রতিটি শপিংমল ঘিরে পুলিশী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাইরে রয়েছেন পুলিশের সাদা পােশাকধারী সদস্যরা। মার্কেটকেন্দ্রীক এলাকাগুলোতে রয়েছে পুলিশের একটি টিম। চুরি-ছিনতাই রোধে হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর, চন্ডিপুল, শাহজালাল উপশহর বিশ্বরোড, ক্বীনব্রিজ এলাকা, শাহপরাণ বাইপাসে রয়েছে চেক পোস্ট।

ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন কিংবা বহনকালে পুলিশের সহায়তা নিতে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। ২৪ঘন্টা গাড়ী তল্লাশীর মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের মাধ্যমে এবারের ঈদের কেনাকাটা যাতে নির্বিঘ্নে হতে পারে সে বিষয়টা মাথায় রেখেই নিরাপত্তার চাদর ঢেকে দেওয়া হয়েছে সিলেট নগরীকে।

এসএমপি সূত্রে জানা যায়, ঈদের কেনাকাটাকে নির্বিঘœ ও নিরাপদ করতে নগরজুড়ে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর বিপণী বিতান, গুরুত্বপূর্ণ মোড় আর সড়কগুলো বসানো হয়েছে বিশেষ টহল। ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘ্নে করতে প্রতিটি বিপণি বিতানে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। এর পাশাপাশি নগরজুড়ে মোতায়েন রয়েছে বাড়তি পুলিশ সদস্য।

ঈদ এলে নগরীতে সক্রিয় হয়ে উঠে একটি মৌসুমি অপরাধী চক্র। তার চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন রকমের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে ঈদের সময়। এমন চুরি-ছিনতাইসহ ঠেকানোর পাশাপাশি নরগবাসী যেন নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন সে জন্য বিপনীবিতানগুলোতে দেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। নারীদের যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয় এজন্য সকল বিপণী বিতানেই রয়েছেন নারী পুলিশ সদস্য।

সিলেটের সকল মার্কেটে পুলিশ মোতায়েন সম্ভব নয় উল্লেখ করে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. জেদান আল মুসা বলেন, বড় বড় মার্কেট আর মার্কেটকেন্দ্রীক এলাকায় পুলিশী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বন্দরবাজারের হাসান মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট, করিম উল্লাহ মার্কেট, জিন্দাবাজারের আল হামরা শপিং সিটি, শুকরিয়া, সিটি সেন্টার, ব্লু ওয়াটার, নয়াসড়কের মাহা ফ্যাশনসহ অন্যান্য মার্কেটগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতায় এসএমপির গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হিসেবে মার্কেট ও শপিংমলের প্রতিটি অংশ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। ঈদ কেনাকাটায় বড় অঙ্কের টাকা আনা-নেয়ার জন্য রয়েছে পুলিশের ‘মানি এস্কর্ট’ ব্যবস্থা।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যাতে মানুষ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদে টাকা-পয়সা উত্তোলন করতে পারে।
মার্কেটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক পাহারায় নারী পুলিশের বিশেষ দল থাকছে উল্লেখ করে জেদান আল মুসা বলেন, মার্কেটে ইভটিজিং প্রতিরোধে কাজ করছে বিশেষ ইউনিট।

মার্কেটের সামনে যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে কমিউনিটি পুলিশ ও মার্কেট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক দল। এছাড়াও নগরীর কুমারপাড়া ও নয়াসড়ক এলাকায় নেয়া হয়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

তিনি আরো বলেন, রাতে ঈদ কেনাকাটার পর নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে রয়েছে টহল পুলিশের একাধিক দল। শপিংমলের অধিক জনসমাগমস্থলে পকেটমার, ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান/মলম পার্টি প্রতিরোধে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে সাদা পোশাকের পুলিশ।

এছাড়াও নগরীর প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। অপরদিকে পুরো নগরজুড়ে আমাদের টহল পুলিশরা রয়েছেন। যারা দিনরাত ২৪ ঘন্টা ডিউটি পালন করবেন। পবিত্র ইদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিলেটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ