আজ শুক্রবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

সড়ক নয়, যেন ডোবা!

  • আপডেট টাইম : October 5, 2019 10:44 AM

উপজেলা প্রতিনিধি

কোম্পানীগঞ্জ : পিচঢালাই উঠে গেছে এক দশক আগে। এমনকি ইটের অস্তিত্বও নেই। সড়কজুড়ে এখন বড় বড় গর্ত। তার ওপর গর্তে জমেছে বৃষ্টির পানি। দেখে মনে হবে ডোবা। এসব গর্তে পড়ে প্রায় সময় আটকে যাচ্ছে গাড়ি। কাদাপানিতে একাকার হয়ে যাওয়ায় হাঁটাও দায় হয়ে পড়ে। এই হাল কোম্পানীগঞ্জের ধলাই সেতু-কলাবাড়ি থেকে দয়ারবাজার সড়কের। প্রায় চার কিলোমিটারের সড়কটির পুরোটাই এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে গেলে দেখা যায় এ চিত্র।

সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা বলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের সঙ্গে পূর্ব ইসলামপুর ও উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের ১০ সহ¯্রাধিক মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়ক। সড়কে পাথর বহনকারী বহু ট্রাক-ট্রাক্টর চলাচল করে।

এছাড়া, সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, মালবাহী পিকআপ ও মোটরসাইকেল চলাচল করে। এ রাস্তা দিয়ে কলাবাড়ি উচ্চবিদ্যালয় এবং ভাটরাই উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও চলাচল করতে হয়। কিন্তু, গত এক দশক ধরে রাস্তাটি সংস্কারবিহীন। এ কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। রাস্তা দিয়ে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সও চলাচল করতে পারে না বলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আরাফাত আলী বলেন, প্রথম দিকে ছোট ছোট গর্ত ছিল। কিন্তু এসব গর্ত দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ডোবার আকার ধারণ করেছে। এই সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হয় যাত্রীদের। বৃষ্টি হলে বেশি দুর্ভোগে পড়ে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

কলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজন দেবনাথ বলেন, রাস্তাটি দিয়ে এখন হাঁটাও দায় হয়ে পড়েছে। গাড়িতে উঠলেও ভয়ে বুক কাঁপে। গর্তে পড়ে কখন আবার গাড়ি উল্টে যায়।

কলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম বলেন, কলাবাড়ি-দয়ারবাজার সড়কটির সংস্কার ১০ বছরেও হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়কে যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করছে। এ অবস্থায় দুর্ভোগ-ই এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাজী মো. আলা উদ্দিন বলেন, পর্যটন স্পট উৎমা ও তুরং ছড়ার অবস্থান উত্তর রনিখাই ইউনিয়নে। এছাড়া, কলাবাড়ি, কালিবাড়ি, দয়ারবাজার ও কালাইরাগ এলাকায় বহু বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে। কলাবাড়ি-দয়ারবাজার সড়ক হয়ে পর্যটন স্পটসহ এসব এলাকাসমূহে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। এর ফলে এ সড়কে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চালক লোকমান হেকিম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই গাড়ি চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় গাড়ি কাদা-পানিতে আটকে থাকে। প্রায় সময় গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ‘সড়কটির বেহাল দশায় খুব কষ্ট পাচ্ছি। কখন যে এ কষ্টের শেষ হবে কে জানে!’

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রায় বছর খানেক আগে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তাটির বেহাল দশা পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জি রাস্তার পাশে থাকা পাথর সরিয়ে নেয়ার জন্য পাথরের মালিকদের আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন। সেদিন ইউএনও রাস্তা সংস্কার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা জানালেও আজও তার বাস্তবায়ন নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী বলেন, সড়কটি আরসিসি (কংক্রিট) ঢালাই দিয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আরসিসি সড়ক বিটুমিনে ঢালাই সড়কের মতো দ্রুত নষ্ট হবে না বলে তিনি জানান।

পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিয়া বলেন, ধলাই সেতু থেকে কলাবাড়ি-দয়ারবাজার সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার বলেও কোন কাজ হচ্ছে না।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, ধলাই সেতু-কলাবাড়ি থেকে দয়ারবাজার পর্যন্ত রাস্তার দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। এ সড়কটি ২০০৭-০৮ অর্থবছরে নির্মাণ ও পাকাকরণ করা হয়। এরপর আর হাত পড়েনি। সড়কটি সংস্কারের জন্য সম্প্রতি একটি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে, এখনো এ প্রকল্পের অনুমোদন মেলেনি।

উপজেলা প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি ওজন নিয়ে এ সড়কে গাড়ি চলাচল করে। ফলে কম সময়ের মধ্যেই সড়কটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গুরুত্ব বিবেচনায় এটি সওজ এর ডিজাইন স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী যথাযথ মান ও প্রশস্ত করে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো’ প্রকল্পসহ কয়েকটি প্রকল্পে এটিকে রাখা হয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পের অনুমোদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ