আজ বৃহস্পতিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

এসপির পাতানো ফাঁদে পা দেয় আকবর

  • আপডেট টাইম : November 12, 2020 8:25 PM

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, কানাইঘাট সীমান্ত থেকে ফিরে : প্রেস ব্রিফিংয়ে সিলেট জেলার এসপি ফরিদ আহমদের বক্তব্য থেকে অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাতানো জালে আকবর আটকের ঘটনাটি ঘটেছে। প্রশ্ন হলো জেলা পুলিশের আগে রায়হান হত্যার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকটি বিভাগ আকবরকে গ্রেফতারে মাঠে কি কাজ করেছিল? এক আকবরকে নিয়ে গােটা পুলিশ বাহিনী যখন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ছিল, এমনকি এসএমপির সর্বােচ্চ কর্তা কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বিপিএম পর্যন্ত এ ঘটনার পর বদলি হয়েছিলেন ঠিক তখন আকবর গ্রেপ্তার পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বাস্তবায়নে চক সাজায় সিলেট জেলা পুলিশ। আর এ পরিকল্পনার নেপথ্যে প্রত্যক্ষভাবে নির্দেশনা দেন বাংলাদেশ পুলিশের অভিভাবক ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. বেনজির আহমেদ। এতে সহযোগীতা করেন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ । যার জন্য প্রেস ব্রিফিংএ বেনজির আহমেদ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এসপি ফরিদ। এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠে পুলিশের পাতানো জালেই ধরা পরে এসআই আকবর।

কিন্তু এখন বর্তমান সময়ে রায়হান হত্যা মামলায় আকবরের পলায়ন নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জন মনে আকবরের আশ্রয়দাতা কে সেই গোপাল? কার মাধ্যমে আকবরের গোপাল কানেকশন। মাদক ব্যবসায়ী হেলাল নাকি সাংবাদিক নামধারী নোমানের মাধ্যমে পালিয়েছিল আকবর এ নিয়েও আলোচনা চলছে সর্বমহলে। আকবর কান্ডে পালিয়ে থাকা নোমান সিলেটের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকলেও তার অবস্থান ছিল সিলেট সহরের একটি ভাড়াটি বাসায়। রায়হান ঘটনার পরদিন আকবরের সকল কাজেই বন্দরফাড়ির সিসি টিভির ফুটেজ নষ্ট সহ নানা কাজে সহযোগীতা করে সে শতাধিকবার কথা বলে মোবাইল ফোনেও । যদিও এখনও পুলিশের খাতায় পলাতক রয়েছে নোমান আর মাদক ব্যবসায়ী হেলাল রয়েছে জেল হাজতে।

পুলিশের লোভনীয় ফাঁদে পড়ে আশ্রয়দাতা গোপাল বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াকে কার চালক অভিজিৎ এর মাধ্যমে গৌহাটিতে পৌঁছে দেয়ার জন্য পুলিশের কথামতো খাসিয়াদের হাতে আকবরকে তুলে দেয়া হয়। তারপর উয়েস খাসিয়া সহ তার সঙ্গীরা কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের দনা খাসিয়াদের মাধ্যমে আকবরকে কানাইঘাটের একেবারে সীমান্তবর্তী ভারতের ত্রিগাঙ্গা নামক পাহাড়ি ঝরনার কাছে নিয়ে এসে পুলিশ কর্তৃক পাঠানো সোর্স আব্দুর রহিমের মাধ্যমে প্রায় দু’শগজ এলাকা অতিক্রম করে আকবরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসার পর সীমান্তের ১৩৩৫নং মেইন পিলারের পাশে আগে থাকা অবস্থানরত পুলিশের সোর্স শাহাব উদ্দিন ও সালেহ আহমদের কাছে আকবরকে রহিম পৌঁছে দেয়।

পুলিশের খাঁচায় যে ভাবে

সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত কানাইঘাট থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম ও জকিগঞ্জ থানার ওসি আব্দুন নাসের আকবরকে গ্রেফতার করেন বলে সরেজমিনে নিশ্চিত বিভিন্ন সূত্রে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশের পাতানো জাল

সিলেট জেলা পুলিশের এসপি ফরিদের চৌকশ নেতৃত্বে ভারতে তাদের সোর্স লাগিয়ে আকবরকে খাসিয়াদের মাধ্যমে আটক করে গ্রেফতার করা হলেও সেখান থেকে শুধুমাত্র আকবরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসা কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী এলাকার দনা গ্রামের আব্দুর রহিম সে সহ তার আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে আকবরকে আটক কওে টাকার বিনিময়ে, কিন্তু এখন রহিম নিজেকে বড় কওে দেখে পুলিশকে গনমাধ্যমের কাছে ছোট করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে। বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় রহিমের বক্তব্যে পুলিশ অনেকটা কোনটাসা হয়ে গিয়ে ছিল পওে সিলেটের পুলিশ সুপার গনমাধ্যম কর্মীদেও প্রকৃত তথ্য সহযোগীতা করেন সাংবাদিদেও অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে সিলেট জেলা পুলিশের দুদিনের পাতানো জলে আকবর আটকের কাহিনী ।

প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহিম আকবরকে আটকের আগের দিন রবিবার রাত থেকে সে কানাইঘাট থানা পুলিশের সাথে ছিল এবং বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সাথে রহিম সহ শাহাব উদ্দিন ও সালেহও ছিল। আকবরকে উয়েস খাসিয়ার মাধ্যমে ভারতের দনা বস্তিতে নিয়ে আসার পর পুলিশ নিশ্চিত হয়ে তাদের গাড়ীতে করে আব্দুর রহিম, শাহাব উদ্দিন ও সালেহ আহমদকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ১৩৩৫নং মেইন পিলারের অদূরে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে আব্দুর রহিম ৪/৫জনকে সাথে নিয়ে ভারতের চোরাই পথে অনুপ্রবেশ করে শুধুমাত্র আগে থেকে খাসিয়াদের হাতে বাঁধা অবস্থায় আটক আকবরকে নিয়ে আসা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ