আজ বুধবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

রায়হান হত্যা : ওসি তদন্ত সৌমেন ও এসআই বাতেন বরখাস্ত

  • আপডেট টাইম : November 25, 2020 10:14 PM

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া: সিলেটের আলোচিত রায়হান হত্যা মামলা নিয়ে বসে নেই পুলিশ। হেডকোয়ার্টর থেকে শুরু করে এসমপির সিনিয়র কর্তারা পর্যন্ত রায়হান হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবরকে পালাতে নানাভাবে যেসব পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন একে একে এদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে বিভাগীয় ব্যবস্থা। সাসপেন্ড হওয়া কেউ রায়হান হত্যায় জেল হাজতেও রয়েছেন।বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যার ঘটনায় এবার সাময়িক বরখাস্ত হলেন কোতোয়ালী মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র এবং এসআই আব্দুল বাতেন। তন্মধ্যে রায়হান হত্যার মামলাটি প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই আব্দুল বাতেন। আর সৌমেন ছিলেন ওসির দায়িত্বে। তবে রক্ষা পেয়ে গেলেন ছুটিতে থাকায় থানার ওসি মাে: সেলিম মিঞা।
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের ‘পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে এ দুজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্তে গাফিলতি, এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়ার পলায়ন সবমিলিয়ে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।’
এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সৌমেন মৈত্রকে রংপুর জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর আব্দুল বাতেনকে আপাতত এসএমপিতেই রাখা হয়েছে। এ নিয়ে রায়হান হত্যার ঘটনায় মােট নয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও চারজনকে প্রত্যাহার করা হলো। এছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে চার পুলিশ সদস্যকে।
বরখাস্তকৃতরা হলেন ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সৌমেন, এসআই আকবর হােসেন ভুঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এসআই আব্দুল বাতেন, এএসআই আশিক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী, কনস্টেবল হারুনুর রশীদ, কনস্টেবল তৌহীদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস।
গত ১০ অক্টোবর রাতে নগরীর নেহারীপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমদকে ধরে নেয়া হয় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে। ১১ অক্টোবরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে মারা যান রায়হান।
পরে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে আহত হন রায়হান, পরে হাসপাতালে তিনি মারা যান।
কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। বলা হয়, ফাঁড়িতে নির্যাতনে মারা গেছেন রায়হান। রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী বাদী হয়ে ১২ অক্টোবর নগরীর কোতোয়ালী থানায় হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে মামলা করেন।
নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। এ কমিটি অনুসন্ধানে ফাঁড়িতে নির্যাতনের সত্যতা পায়। ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর থেকে লাপাত্তা হয়ে যান আকবর। তাকে পালাতে সহায়তা করার অভিযােগে হাসান নামের আরাে এক এসআইকে সাসপেন্ড করা হয়।এরপর এ ঘটনায় পুলিশ হেডকােয়ার্টার্সের পক্ষ থেকে সহকারী পুলিশ পরিদর্শক আইয়ূবকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি সিলেটে গিয়ে ঘটনাস্থল পরির্দণ, রায়হানের পরিবারের সাথে কথাবলাসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি নেয়। তদন্ত শেষে কমিটি পুলিশ হেডকােয়ার্টার্সে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৭ নভেম্বর ইন্সপেক্টর সৌমেন ও এসআই আব্দুল বাতেনকে পুলিশ হেডকােয়ার্টার্স সাসপেন্ডের নির্দেশ দিলে ১৮ নভেম্বর এসএমপি তা কার্যকর করে।
এদিকে, ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকে পলাতক এসআই আকবরকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশ। পরে ৭ দিনের রিমান্ড শেষে ১৭ নভেম্বর আকবরকে আদালতে হাজির করা হয়। কিন্তু তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি, মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআইও নতুন করে রিমান্ডের আবেদন করেনি। ফলে আদালত আকবরকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
এরপর ১৯ নভেম্বর রাতে ডোনা সীমান্ত এলাকার একটি পাহাড়চূড়া থেকে আকবরের দুটি মুঠোফোন, তিনটি সিমকার্ড, শার্ট-প্যান্ট  ও গেঞ্জি, ২০ টাকার একটি নোট, তার দুটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং এক মহিলার দুটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি উদ্ধার করা হয়। এগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পিবিআই।
রায়হান হত্যা মামলায় এখন অবধি এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কনস্টেবল টিুটু চন্দ্র দাস, হারুনুর রশিদকে দুই দফায় আট দিন করে এবং এএসআই আশেক এলাহীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাদেরকে প্রেরণ করা হয় কারাগারে।
এদিকে, রায়হানকে ছিনতাইকারী হিসেবে অভিযোগকারী শেখ সাইদুর রহমানকে গত ১৫ নভেম্বর প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার দেখায় পিবিআই। পরে তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ