আজ শনিবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং

স্বদেশে বিদেশি ছবি মুক্তি নিয়ে কি বলছেন তারকারা?

  • আপডেট টাইম : November 27, 2020 2:18 PM

বিনোদন প্রতিবেদক : প্রতিবেশী দেশ ভারতের ছবি বাংলাদেশে মুক্তির বিরুদ্ধে যারা কাফনের কাপড় পরে রাজপথে নেমেছিলেন, ভেঙেছিলেন প্রেক্ষাগৃহ, তারাই এখন বিদেশি ছবি আমদানির পক্ষে। বাংলা সিনেমার সংকট কাটাতে টলিউড-বলিউডের ছবি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে চান প্রযোজক-পরিচালক ও সিনেমা হল মালিকরা।

২০১৫ সালে উপমহাদেশীয় ভাষার চলচ্চিত্র প্রদর্শন বন্ধের দাবিতে উত্তাল ছিল চলচ্চিত্রাঙ্গনসহ রাজপথ। ভিনদেশি সিনেমার পোস্টারও পুড়িয়েছিলেন তারা। ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ভারতীয় সিনেমা। সেগুলোর প্রদর্শন বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীরা মানববন্ধন করেন।

পাশাপাশি দেশীয় চলচ্চিত্রের সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। বিষয়টি নিয়ে মামলাও হয়। তোপের মুখে পড়ে পরবর্তীতে বিদেশি সিনেমা মুক্তি বন্ধ হয়।

পাঁচ বছর আগে যারা ছিলেন প্রতিবাদ মুখুর, করেছিলেন বিরোধিতা সময়ের ব্যবধানে মুছে গেছে বিপক্ষের সেই লড়াই। সিনেমা হল বাঁচাতে ভিনদেশি ছবির পক্ষে এখন তাদের অবস্থান। বলিউডের সিনেমা দেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গে একই দিনে মুক্তির কথা ভাবছেন তারা।

তাদের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সম্মতিও দিয়েছেন সেদিন কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় নামা অনেকেই। আগামী তিন মাসের মধ্যে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহেও বলিউডের সিনেমা মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার মনে করেন, যে পথে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন হয়, সে পথেই হাটতে হবে। তার মতে, সিনেমা হল বাঁচাতে ভিনদেশি সিনেমা আমদানি করা যেতে পারে। হল মালিকরা বলছেন, যেকোনো পণ্য সংকটে আমদানি হয়ে ওঠে সময়ের দাবি। তাই সিনেমা শিল্প বাঁচাতে এখন হাটতে হবে সে পথেই।

মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ মনে করেন, বছরে ২০-২৫টি বিদেশি সিনেমা আমদানি করে দর্শককে হলমুখী করতে হবে। তারপর দেশীয় ছবি মুক্তি দিলে পিছিয়ে পড়া চলচ্চিত্র আবার ঘুরে দাঁড়াবে। তাই ইন্ডাস্ট্রির কথা চিন্তা করে মান-অভিমান ভুলে সবারই উচিত বিদেশি ছবি আমদানিতে একমত পোষণ করা।

তবে এতে দ্বিমত পোষণ করেছেন অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। তিনি বলেন, বিদেশি ছবি চালালেই কি ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে? দর্শক হলমুখী হবে? চলচ্চিত্র বাঁচাতে নিজেদের গল্পনির্ভর ছবি নির্মাণ করতে হবে। বিদেশি ছবি দিয়ে দর্শক আসবে না বরং তা আরও কমবে। তাই নিজেদের মেধা কাজে লাগিয়ে ভালো ছবি নির্মাণের চিন্তা করতে হবে।’

তবে দেশের হলে বিদেশি সিনেমা মুক্তির সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। বিদেশি ছবি মুক্তি বন্ধের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানও। বর্তমানে তার মতামত কী? সেটা অবশ্য জানা যায়নি। কারণ, শাকিব প্রশ্নটি এড়িয়ে গেছেন।

এদিকে, ২০১৫ সালে চিত্রনায়িকা পরীমনি বিদেশি ছবির বিপক্ষে রাজপথে নেমে আন্দোলন করলেও পাঁচ বছর পর যখন বিদেশি ছবি আমদানির কথা বলা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন করতেই তিনি ক্ষেপে যান। বিরক্ত এবং কিছুটা উত্তেজিত সুরে পরীমনি বলেন, এসব ফাচুকি (ফালতু) বিষয়ে কথা বলতে ইচ্ছুক নই। বলেই তিনি ফোনটি রেখে দেন।

তবে বিদেশি ছবি আমদানির পক্ষে একমত চিত্রনায়ক ফেরদৌস। তিনি মনে করেন, নিয়মনীতি মেনে তিন মাসের জন্য চলচ্চিত্রের কথা চিন্তা করে পরীক্ষামূলক ভাবে বিদেশি ছবি আমদানি করা যেতে পারে। কারণ চলচ্চিত্রের বর্তমান সময় ভালো যাচ্ছে না। ২০১৫ সালে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও এখন আন্দোলনে নেমে লাভ হবে না বলে তিনি জানান।

বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, যতগুলো বিদেশি ছবি বাংলাদেশে আমদানি করে মুক্তি দেয়া হয়েছে, সব কয়টিই ফ্লপ। সিনেমা হল ছিল দর্শক-শূন্য। তবে চলচ্চিত্রের এই দুঃসময়ে বিদেশি ছবি আমদানি করলে অচল ইন্ডাস্ট্রি সচল হবে বলে ধারণা অনেকের। এখন দেখার বিষয়, ভিনদেশি ছবি কী বাংলাদেশে সফল হবে, নাকি ব্যর্থতার দায় নিয়ে আবার হারিয়ে যাবে।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ