আজ সোমবার, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

গ্রামীণ সমাজের রূপান্তর

  • আপডেট টাইম : November 28, 2020 11:10 AM

রূপান্তরিত হচ্ছে গ্রামীণ সমাজ। কৃষকের সন্তান এখন আর কৃষিতে নিয়োজিত হচ্ছে না। তারা হয় দেশে চাকরী খুঁজে, না হয় বিদেশ যেতে চায়। শিক্ষিত-অশিক্ষিত কেউই যেন উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পেশা কৃষিকাজে মন বসাতে পারছে না। তাছাড়া, কৃষিকাজেও এখন যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। তাই এখন কমে আসছে শ্রমিকের প্রয়োজন। বিভিন্ন্ মওসুমে ফসল বোনা থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত নানা পর্যায়ে এখন শ্রমিকের অভাব দেখা দিয়েছে। আজ থেকে পাঁচ বছর আগেও যেখানে আমন বা বোরো মওসুমের ধান তোলার সময় প্রচুর শ্রমিক পাওয়া যেতো, এখন সেই অবস্থা নেই। একদিকে শ্রমের মূল্য বেশি, অপরদিকে কৃষিতে আর মন বসছে না অনেকের। সবমিলিয়ে কৃষিকাজে নিয়োজিতদের সংখ্যা দিন দিন শুধু কমছে। অপর দিকে বাড়ছে যন্ত্রের ব্যবহার। তাই বাঙ্গালীর প্রধান পেশা এই কৃষি ভবিষ্যতে হয়তো টিকে থাকবে কৃষকের ওপর নয়, বরং যন্ত্রের ওপর ভর করে।
কৃষি হচ্ছে এদেশের মানুষের আদি পেশা। আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমিতে জনবসতি গড়ে ওঠেছে কয়েক হাজার বছর আগে। ক্রমবিবর্তনের ধারায় সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে এই উর্বর ভূমিতে। আর এই সভ্যতার বিকাশের পেছনে অবদান রয়েছে মূলত কৃষির। মাটির উর্বরতা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও ঋতু বৈচিত্র্যের কারণে খৃস্টপূর্ব সময় থেকেই এই অঞ্চলে কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচুর সম্ভাবনার কথা শোনা যায়। জনবসতির শুরু থেকেই এই অঞ্চলের কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাবনা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আস্তে আস্তে মানুষ জমিতে ফসল চাষে অভ্যস্ত হয়। গড়ে উঠতে থাকে মানুষের মধ্যে একটা শ্রেণি। যার নাম কৃষক। বর্তমানে দেশে ৬০ শতাংশ মানুষ কৃষক বা কৃষিজীবী। বলা হয়, কৃষকেরা জাতির মেরুদণ্ড। কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। কিন্তু আমাদের কৃষকেরা বরাবরই অবহেলিত। তাদের ভাগ্যের উন্নতি হয়নি অতীতে, হচ্ছে না এখনও। অতীতে যেমন তাদের বলা হতো, ‘চাষাভূষা’- এখনও তাদের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য থামেনি। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে এই কৃষকের সন্তানেরাই কৃষকদের ‘ক্ষেত’ বলে সম্বোধন করছে। অমর্যাদা করছে কৃষকদের। সত্যিকার অর্থে যারা কৃষকদের ছোট করে দেখে, তারা নিজেরাই ছোট হয়ে যায়। কারণ, কৃষকেরা সমাজের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। তারা আমাদের গর্বের ধন। তাই কৃষকদের অবহেলার চোখে দেখার হীন মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগোতে হয় মানুষকে। তা না হলে পিছিয়ে পড়তে হয় প্রতিযোগিতায়। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার সঙ্গে আমাদের আদি পেশা এই কৃষির ঐতিহ্যকে হারিয়ে বসলে চলবে না। তাছাড়া, সব কাজেই যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে- এমন তো কথা হতে পারে না। জমি চাষ, নিড়ানি দেওয়া, রোপন, পরিচর্যা, ফসল কাটা, মাড়াই দেওয়া, শুকানো ইত্যাদি সব কাজই যন্ত্রের মাধ্যমেই করতে হবে, এমন কোন বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে না। অনেক কাজই রয়েছে যেগুলো হাতে করলে স্বাস্থ্যসম্মত হয়। তাছাড়া, কৃষিতে মানুষের কাজের সুযোগ কমে গেলে বেকারত্বও বাড়বে, এই বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ