আজ শনিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

সিলেটে চলছে অবৈধ স্ট্যাম্প বিক্রি!

  • আপডেট টাইম : January 13, 2021 2:14 PM

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে দেদারছে চলছে অবৈধ জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রি। আর এসব স্ট্যাম্প দিয়ে ঘটছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও ব্লাকমেইলিং, ফলে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। খোদ যখন সরকারী প্রতিষ্ঠানও হয়রানীর শিকার হন তখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অন্ত থাকেনা। এমনই ঘটনা ঘটেছে সিলেট সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অফিসে।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয় থেকে ভূমিহীনদের জমি বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য এক ব্যক্তি স্ট্যম্প কিনতে পাঠানো হয়। ঐব্যাক্তি সিলেট সব রেজিষ্ট্রারী অফিসের প্রঙ্গনে অবস্থিত আব্দুল আহাদ স্ট্যাম্প ভান্ডার থেকে ৫টাকা মূল্যেও ২০টি স্ট্যাম্প ক্রয় করেন। কিন্তু চতুর স্ট্যাম্প ভান্ডার মালিক স্ট্যাম্পে ক্রেতার নাম, রেজিষ্টারের সিরিয়াল নাম্বার ও বিক্রেতার নাম ও সিল দেননি। পরে ঐ ব্যক্তি পুনরায় স্ট্যাম্পা ভান্ডারে ফিরে এসে সিরিয়াল নাম্বার ও বিক্রিতার সিল দস্তখত দেয়ার জন্য বলেন। কিন্তু স্ট্যাম্প ভান্ডারের মালিক আব্দুল আহাদ তা দিয়ে অস্বীকৃতি জানান।

এক পর্যায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার অফিসের এক কর্মকর্তাকে পাঠান তার পর স্ট্যাম্প ভান্ডার মালিক সিরিয়াল ও দস্তখত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর পর এসিল্যান্ড অফিস থেকে স্ট্যাম্প ভান্ডার মালিককে ডাকানো হলেও আব্দু আহাদ জাননি। এক পর্যায়ে স্ট্যাম্পগুলির বৈধতা নিয়ে সন্ধেহ হলে সহকারী কমিশনার এই ২০টি স্ট্যাম্প যাচাই বাচাইয়ের জন্য ট্রেজারীতেক পাঠিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই আব্দুল আহাদ স্ট্যাম্প ভান্ডার থেকে হর হামেশাই এরকম সিরিয়াল ও বিক্রেতার দস্তখত বিহীন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রি হয়ে থাকে। আর এই সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করেন আইনজীবী সহকারী পরিচয়ধারী জনৈক আব্দুল কাদির। তবে সিলেট জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির সাথে যোগাযোগ করেও এই আব্দুল কাদিরের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে স্ট্যাম্প ভান্ডার মালিক আব্দুল আহাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিরিয়াল ও দস্তখত বিহীন স্ট্যাম্প বিক্রির করা স্বীকার করেন। তবে তার কাছ ফোন নিয়ে এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদির এই প্রতিবেদককে হুমকি ধমকি দেন।

সিলেট জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ আফাজ বলেন, আব্দুল কাদির আমাদের একজন সদস্য রয়েছেন উনি এই ঘটনার বা এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত নন। অন্যকেউ আইনজীবী সহকারী সমিতির পরিচয় দিলে সে প্রতারক।

সিলেট সদর এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শবনম শারমিন বলেন, কাল বিষয়টি ধরা পড়ার পর আমি স্ট্যাম্প ভান্ডার মালিককে আনার জন্য আমার অফিসের এক কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু স্ট্যাম্প ভান্ডার মালিক আসেন নি। পরে আমরা অন্য জায়গা থেকে স্ট্যাম্প এনে আমাদের কাজ চালিয়েছি এবং এই ২০টি স্ট্যাম্প যাচাই বাচাই করার জন্য ট্রেজারীতে পাঠিয়েছি।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মীর মাহবুবুল আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। স্ট্যাম্প বিক্রি করতে হলে অবশ্যই সিরিয়াল নাম্বার দিয়ে রেজিষ্ট্রারে নিবন্ধন করতে হবে এবং এতে বিক্রিতার সীল ও দস্তখত থাকতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে স্ট্যাম্পের বৈধতা নিয়ে সন্ধেহ থাতকেই পারে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী এম. এমদাদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ