শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:২৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
চীনে থাকা ১৭১ শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী নগরীতে ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল রিকশাচালকের সিলেটের ২৯ বিএনপি নেতার জামিন ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬ জনই সিলেটের জকিগঞ্জে বাস ধানক্ষেতে পড়ে নিহত ৩, আহত ২৫ খোকার লাশ ঢাকায় ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসি ছিলেন না’ ভারতকে দোষারোপ না করে নিজেদের দায়িত্বশীল হতে হবে : ড. মোমেন ঈদে পর্যটকশূন্য সিলেট নগরীতে যত্রতত্র কোরবানির পশু জবাই না করার আহ্বান ওসমানীতে ঢাকা ফেরত ২০ ডেঙ্গু রোগী সিলেট কারাগারের ডিআইজি ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ প্রকল্পের উদ্বোধনে দাওয়াত পাননি মেয়র আরিফ! মহানগর যুবলীগের সম্মেলন আজ দক্ষিণ সুরমায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে নিহত নগরের শামীমাবাদে দু’যুবক আটকের ঘটনা পরিকল্পিত ! টিকটক ভিডিও বানাতে সুরমায় ঝাঁপ দেয়া কিশোরের লাশ উদ্ধার সিলেটসহ ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা সিলেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী বশর গ্রেফতার আ’লীগের উপদেষ্টা হলেন সেই ইনাম আহমেদ চৌধুরী রাজনগর-বালাগঞ্জের লাখো মানুষের স্বপ্ন একটি সেতু তাঁতের কাপড় বুনে স্বাবলম্বী মনিপুরী মুসলিম নারীরা সিলেটে জেএসসিতে পাসের হার ৭৯.৮২% জনসভা করবে না ঐক্যফ্রন্ট, হবে গণসংযোগ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ১২ প্রার্থী সুনামগঞ্জে চানাচুর বিক্রির ছুরি দিয়ে বোনজামাইকে খুন ব্যায়াম কেন করবেন এবং কখন? ছুটির দিনের আড্ডায় মুগডালের পকোড়া নতুন পরিচয়ে পায়েল জুমআ পড়া ফরজ, এ সময় যে কোনো কাজ নিষিদ্ধ! ইসলামের স্তম্ভ ৫টি কেন ? যুবরাজের নিয়ন্ত্রণাধীন বিমানে গিয়েছিল খাশোগির খুনিরা করোনায় একদিনে সাড়ে ১১ হাজার মৃত্যু দুই ঘণ্টা পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল শুরু ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মোমেন
দুই দশকেও জোড়া লাগেনি সেতু

দুই দশকেও জোড়া লাগেনি সেতু

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : এক বা দুই বছর নয়, ২০ বছরেও জোড়া লাগেনি একটি গ্রামীণ সেতুটি। প্রায় ২ হাজার মানুষের নিত্য ভোগান্তি হয়ে এটি অবহেলার পড়ে আছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিলবরনগর গ্রামে এই অর্ধনির্মিত সেতুটির অবস্থান। জেরিন চা-বাগান, ডলুছড়া, ফুলবাড়ি এবং রাধানগর এলাকাবাসীর যাতাযাতের পথ এটি। এই সড়কটি সংক্ষিপ্ত রাস্তা হিসেবে স্থানীয়দের কাছে ব্যবহারযোগ্য। কিন্তু সেতুটি পরিপূর্ণভাবে নির্মিত না হওয়ায় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এলাকাবাসীরা সেতুর নিচ দিয়ে নিত্য যাতায়াত করছেন। শুধু তাই নয়, এক মোটরসাইকেল আরোহীকে তার সহযাত্রীসমেত সেতুর ওপর দিয়ে না গিয়ে নিচ দিয়ে চলে যেতে দেখা গেছে। কমলগঞ্জ, শমশেরনগর, মৌলভীবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাতায়াতের বিকল্প সড়ক হিসেবে পাহাড়ি ছড়ার পাশে সংযোগহীন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এ সেতু।

শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের দিলবরনগর এলাকার বাসিন্দারা জানান, জেরিন চা-বাগান, ডলুছড়া, দিলবরনগর পুরান বাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের জন্যে ২০০০ সালে সরকারি অর্থে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর কারো আর খোঁজখবর নেই। এতে করে এলাকার প্রায় কয়েকশ বাগান চাষি পরিবার রয়েছে ভোগান্তিতে।

দিলবরনগর এলাকার বাসিন্দা জসিম মিয়া বলেন, খুব সম্ভব ২০০০ সালে তখনকার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আফজল হোসেন এই ব্রিজটি তৈরি করেছিলেন। ব্রিজ নির্মাণের সময় নতুন রাস্তা তৈরি কিংবা মেরামত করা হয়নি। তারপর বিভিন্ন সময় ইউনিয়নের মেম্বার, চেয়ারম্যানকে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার কথা জানালেও আশা দিয়ে কেউ এটি সংস্কার করে দেননি। ফলে রাস্তাবিহীন পড়ে বয়েছে ব্রিজটি।

ব্রিজটির দুইপাড়ের সংযোগ ২০ বছরেও না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা বলেন, এক চেয়ারম্যান সেতুটি করে গেলেও অন্য চেয়ারম্যান এসে ব্রিজটি কাজ আর শেষ করেনি।

একই এলাকার বাসিন্দা মুসলিম মিয়া বলেন, আফজল চেয়ারম্যান থাকতে তিনটি ব্রিজের কাজ আসে। দুইটি ব্রিজের কাজ শেষ করা হলেও এই ব্রিজটি কাজ আজও শেষ হয়নি। বর্ষাদিন এলে আমরা এই ছড়ার পানির জন্যে ঘরের বাইরে বেরোতে পারি না।

এলাকাবাসী সৈয়দ আহমদ বলেন, এই সেতুটি পরিপূর্ণভাবে তৈরি না হওয়ার ফলে প্রায় ২ হাজার মানুষরা ভোগান্তির শিকার। এটি মেরামত করার জন্যে মেম্বার, চেয়ারম্যানের কাছে অনেকবার গিয়েছি, কোনো কাজ হয়নি। এই ছড়া পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন আমাদের লেবু, আনারস, কলা নিয়ে শ্রীমঙ্গলের বাজারে যেতে পরতে হয় অনেক ভোগান্তির মধ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক একালাবাসী বলেন, দিলবরনগরে এই ব্রিজটি না হওয়ার আরো একটি কারণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি। বিএনপির শাসনামলে বিএনপি সমর্থক দ্বারা কোনো কিছু নির্মিত হলে তা ক্ষমতাশীন কোনো নেতার দ্বারা সহজভাবে মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি আমাদের আজও গড়ে উঠেনি। তাই এ সেতুটির প্রতি এতোটা অবহেলা। তারা যদি নিজ চোখে আমাদের দুর্ভোগ দেখতো তবে সেতুটি নতুনভাবে সংস্কারে কালক্ষেপণ করতো না।

এলাকার মোহাজিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সাহাদাৎ হোসেন বলেন, এই ব্রিজের দুই পাড় না থাকায় বর্ষাকালে আমরা স্কুলে যেতে পারি না। আমাদের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পাড় হয়ে স্কুলে যেতে হয়। পাহাড়ি এই ছড়ায় পানির কারণে আমরা স্কুলেও সময় মতো যেতে পারি না। সরকার এতো টাকা ব্যয় করে ২০ বছর আগে এই ব্রিজ করে দেয় দুই এলাকার মানুষের উপকারের জন্যে। অথচ জরাজীর্ণ অবস্থাতেই ব্রিজটি পরে রইলো। আমরা চা বাগানের বসবাসকারীরা ব্রিজটি মেরামত এবং ব্রিজটির দুইপাড়ের রাস্তা মেরামত করে জোড়া লাগিয়ে দেওয়ার জন্যে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় বলেন, এই ব্রিজটি তখনকার সময়ে অপরিকল্পিতভাবে গার্ডওয়াল ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছিল। তাই মাটি সরে গিয়ে এই অবস্থা হয়েছে। এর দুই দিকে গার্ডওয়াল নির্মাণ করতে প্রায় ২০ লাখ টাকার প্রয়োজন। এই সেতুর পেছনে ২০ লাখ টাকা খরচ করলে আমার ইউনিয়নের প্রায় ৩ শতাংশের ২ শতাংশ টাকার বরাদ্দ খরচ হয়ে যাবে বলে আমাদের বাজেট মিটিয়ে অধিকাংশ মেম্বারদের এতে আপত্তি থাকে। তাই আমাদের ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত টাকায় এটি সম্ভব নয়।

তবে আমি এ ব্যাপারে আমি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে বারবার আবেদন করেও কোনো ধরনের বরাদ্দ পাইনি। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো থেকে আর্থিক বরাদ্দ পেলেই এই সেতুর দুইপাড়ে গার্ডওয়াল নির্মাণ করে মাটি ভরাটের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করে দেবো বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, এই সেতুটি সম্পর্কে আমি জেনেছি। এটা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে করা হয়েছিল। আমরা দেখছি এ ব্যাপারে কি করা যায়।

Print Friendly, PDF & Email
  •  
  •  
  •  
  •  





কপিরাইট © ২০১১-২০২১ আজকের সিলেট ডটকম-এর সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Design BY Web Home BD
ThemesBazar-Jowfhowo