৫ আগস্ট ২০১৮


সিলেটে আজও চলছে না যানবাহন, দুর্ভোগ চরমে

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট:: নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আজ রবিবার (০৫আগস্ট) সকাল থেকে সিলেটের সড়কে কোনো বাস চলাচল করছে না। ফলে লক্ষ মানুষের এই নগরীতে বাস না পেয়ে অটোরিকশায় দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে মানুষকে। আবার মানুষের তুলনায় অটোরিকশা কম বলে সবাই তা পাচ্ছেনও না।

গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সড়কে নামে শিক্ষার্থীরা। এরপর বৃহস্পতিবার সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মানার ঘোষণা দিয়ে তাদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানানোর পর অঘোষিত ধর্মঘট শুরু করে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

পরিবহন মালিকরা বলছেন, গাড়ি ভাংচুরের কারণে নিরাপত্তা না থাকায় চালকরা বাস চালাতে চাইছেন না। শ্রমিকরা বলছেন, ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে মালিকরা বাস চলাচল বন্ধ রাখতে বলেছেন।

এ বিষয়ে সিলেট-জগন্নাতপুর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফজর আলী  বলেন,পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই বাস চলাচল শুরু হবে।

রবিবার সকালে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা,লেগুনা ও বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থেকেও কোন বাহন না পেয়ে অনেকে পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে যাচ্ছেন।

ভোগান্তির স্বীকার মো. রায়হান জানান, বাস না পেয়ে হেতিমগঞ্জ থেকে তাকে অটোরিকশায় করে জিন্দাবাজারে আসতে হয়েছে। ভাড়াও ছিল স্বাভাবিকের দ্বিগুণ।

নগরীর বাস টার্মিনাল কদমতলী থেকে জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, সুনামগঞ্জ, জগন্নাতপুরের দিকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। ওইসব এলাকা থেকে কোনো বাস আসেনি।

র্কোট পয়েন্ট থেকে হুমায়ুন চত্বর হয়ে বিভিন্ন রুটে যেসব টাউন বাস চলে তাও বন্ধ। আম্বরখানা থেকে সালুটিকরের উদ্দেশে কোনো অটোরিকশা ছাড়ছে না।

নগরীর ধোপাদিঘীর পাড় থেকে বটেশ্বর, জৈন্তাপুর ও টুলটিকর রুটে কোনো লেগুনা, অটোরিকশা চলছে না। ওই সব গন্তব্য থেকে বন্দরবাজারের দিকেও কোনো লেগুনা, অটোরিকশা চলাচল করছে না।

নগরীর কদমতলীতে বাসের অপেক্ষায় অনেক মানুষকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সোবহানী ঘাট ও কুমারগাও বাস স্টেশনেও একই চিত্র। তবে আম্বরখানা থেকে সিএনজি অটোরিকশায় জনপ্রতি ১০০ টাকা করে নিয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করছে।

সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ সামছুল হক মানিক বলেন, “আমরা গাড়ি ছাড়তে প্রস্তুত আছি। কিন্তু সড়কে নিরাপদ বোধ করছি না। সিলেটসহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলাতেও ছাত্ররা অবরোধ করে রেখেছে। বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে, শ্রমিকরা আহত হয়েছে।

“আমরা ঠিক করেছি সন্ধ্যার পর গাড়ি চালাবো। সকল অবস্থা বিবেচনা করে, সরকার যদি বলে নিরাপত্তা আছে, তাহলে আবার গাড়ি চালাব।”

শেয়ার করুন