৫ আগস্ট ২০১৮


ফখরুলের বক্তব্যে থলের বেড়াল বেরিয়েছে: কাদের

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট:: টেলিফোনালাপে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কথায় অপরাধ নেই বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমীগের বক্তব্যে বিএনপির ‘থলের বেড়াল’ বেরিয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ছাত্রদের হত্যা ধর্ষণের গুজবের পেছনেও ছিল বিএনপি।

রবিবার দুপুরের পর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলের সাধারণ সম্পাদক।

কাদের বলেন, ‘আমরা গতকাল বলেছিলাম আমীর খসরুর বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে বিএনপি অরাজনৈতিক একটা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ, রূপ দিতে চলেছে। আর মির্জা ফখরুল ইসলাম সেই বক্তব্যে সমর্থন দিয়ে প্রমাণ করলেন।’

‘শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনকে ঘিরে বিএনপির ষড়যন্ত্র প্রমাণ হয়েছে। অবশেষে থলের বিড়াল মিঁউ করে বেরিয়ে পড়েছে। এটা এখন আর কোন গোপন বিষয় নয়। বিএনপি ও তাঁর দোসর সাম্প্রদায়িক অপশক্তি জামায়াত একেকবার একেক আন্দোলনের উপর ভর করছে।’

গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় পরদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এর মধ্যে গত বুধবার থেকেই এই আন্দোলনে সুযোগ নেয়ার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠে।

এর মধ্যে বছরের এই সময় স্কুল ড্রেসের চাহিদা না থাকলেও হঠাৎ করে বিক্রি বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। তৈরি হচ্ছে লেমিনেটেড আইডি কার্ডও।

শনিবার বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে নওমি নামে এক তরুণের মোবাইল ফোনের কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশ হয়। এতে শোনা যায়, বিএনপি নেতা নওমিকে এই সুযোগে মাঠে নামার নির্দেশ দিচ্ছেন। নওমি কুমিল্লা থাকায় তাকে দ্রুত ঢাকায় আসার তাগাদা দেয়া হয়েছে।

বরিবার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্কা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমীর খসরুর কথায় অপরাধ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।

‘এটা অপরাধ কোথায়। সমস্ত দেশই তো তাদের পক্ষে। আমরা আগেই শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছিলাম। শিক্ষণীয় আন্দোলন করছে তারা। দেশের সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ, বুদ্ধিজীবী সবাই বলছে যৌক্তিক। তবে তার (আমির খসরু) কথা বিকৃত করে ছেড়ে দেয়ার সম্ভবনাই বেশি। কারণ এখন তো সবই করা যায়’-বলেন বিএনপি মহাসচিব।

এর প্রতিক্রিয়ায় কাদের বলেন, ‘কোটা আন্দোলনে সুবিধা করতে না পেরে বিএনপি এখন শিক্ষার্থীদের ইনোসেন্ট নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনে সওয়ার হয়েছে।’

গুজব ছড়ানোতে বিএনপি

আগের দিন আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে চার জনকে হত্যা এবং চার জনকে ধর্ষণের যে গুজব ছড়ানো হয়েছিল, তার পেছনে বিএনপির সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন কাদের।

বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ অফিসে নাকি সাতজনকে আটকে রেখে আহত করা হয়েছে। গতকালকে ফেসবুকের ভিডিও পোস্টের প্রতি সমর্থন জানিয়ে, তিনি প্রমাণ করেছেন যে ভিডিও পোস্টের অপপ্রচার সঙ্গে মির্জা ফখরুল ও বিএনপির সংযোগ রয়েছে।’

“আমরা এটাও এখন মনে করছি যে মেয়েটা বলেছিল ‘আওয়ামী লীগ অফিসে আমি ধর্ষিত হচ্ছি, আমাকে বাঁচান’, আমাদের এখন বিশ্বাস করছি এই ভিডিও পোস্টিং এর সঙ্গে বিএনপি জড়িত’।”

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলাতেও মির্জা ফখরুল ইসলামের দলের সংযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ কাদেরের।

‘আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করার জন্য বিএনপি জামায়াত তাদের ছাত্র সংগঠনকে দিয়ে আক্রমণ সাজিয়েছিল। আজকেও অফিসের পিছন থেকেও আক্রমণ করার চেষ্টা হয়েছিল। এটা আপনারাসহ (সাংবাদিক) অনেকেই দেখেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগের উপর দোষ চাপাচ্ছে।’

‘আওয়ামী লীগ অফিস শেখ হাসিনার অফিস। এখানে হামলা করার দুঃসাহস দেখিয়েছে’-বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলেন আওয়ামী লীগ নেতা।

হামলার বিষয়ে কোন আইনে ব্যবস্থা নেবেন কি না এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। এটা আমাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে। আরও একটু পরিস্থিতি দেখি, আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।’

‘আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত হতে চাই না’

দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখন ধৈর্য ধরতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে কোন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, সেই জন্য সতর্কভাবে সবাইকে অপেক্ষা করার জন্য আহ্বান করছি।’

‘এখানে কোনভাবে আমরা আক্রমণকারী হিসাবে আমরা চিহিৃত হতে চাই না। আমরা ক্ষমতায় অছি, আমরা দেশে শান্তি চাই। ক্ষমতায় থেকে অশান্তি কেন চাইব?’

কোনো প্রকার প্রতিকূল পরিস্থিতি আসলে তার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশও দেন কাদের। তবে বাহিরে কোন প্রকারের উস্কানিতে না পরার বিষযে সতর্ক করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ।

শেয়ার করুন