১০ আগস্ট ২০১৮


কামরানের পদ দখলে মরিয়া বাবুল!

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদ দখলে মরিয়া বাবুল। ২০১৩ সাল থেকে চলছে লড়াই চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত হতে পারেন নি তিনি। স্বপদে বহাল থাকতে সক্ষম রয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান। বাবুল’র পুরো নাম নজরুল ইসলাম বাবুল।

২০১৩ সালেও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কামরানের প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেন বাবুল। কিন্তু ভোটারদের তেমন সমর্থন না থাকায় সফল হতে পারেন নি। তখন থেকে প্রস্তুতি নিতে থাকেন কামরানকে সরিয়ে কাউন্সিলর পদ দখলের। এবারের নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামেন বাবুল। সদ্য সমাপ্ত সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আবারো কামরানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শক্তহাতে নামেন।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। রাতের আরামের ঘুম হারাম ও শত চেষ্টা করেও কামরানের মসনদ দখলে নেয়াতো দূরের কথা, নুন্যতম কাঁপুনিও সৃষ্টি করতে পারেন নি। নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বর্তমান কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান। শোচনীয় পরাজয়ের পর নানা কৌশল শুরু করেন কাউন্সিলর পদে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচন বাতিলের। এর অংশ হিসেবে সাংবাদিক সম্মেলন ও নির্বাচন কমিশনে ধরনা নিয়েও কোন ফল না পেয়ে বাবুল এবার স্মরনাপন্ন হন হাইকোর্টের। গত ৭ আগস্ট মহামান্য হাইকোর্টে রীট করেন সিলেট সিটির ৯ নং ওয়াডের এতিম স্কুল ও পাঠানটুলা হাইস্কুল কেন্দ্রে পুনঃভোট দাবি করে। ফলে হাইকোর্ট ৯নং ওয়ার্ডের সাধারন কাউন্সিলর পদে গেজেট প্রকাশ স্থগিত করে দেন আদালত।

নানা অনিয়মের মাধ্যমে মিষ্টান্ন ব্যবসায় প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক নজরুল ইসলাম বাবুল। চট্টগ্রামের মিষ্টান্ন ভান্ডার বনফুল-এর লগো ব্যবহার করে দীর্ঘ ১৪ বছর মিষ্টি ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা আয় করেন বাবুল। অবশেষে উচ্চ আদালতের রায়ে বনফুল ফিরিয়ে পায় তার লগো ও স্বত্ব। বনফুল নাম ব্যবহারে হেরে গিয়ে বাবুল ফিজা নামে চালু করেন মিষ্টান্ন ব্যবসা। পাশপাশি মাছ মাংস ও কসমেটিকের ব্যবসা। কয়েকদির পরে ফিজা’র একটি অংশ ভাগ করে দেন তার এক সন্তানের নামে। এ অংশের নাম দেন রিফাত এন্ড কোং।

পচা-বাসী মাছ মাংস ও মিষ্টির ব্যবসার দায়ে ২৯ মে বাবুলের ছেলের মালিকানাধিন প্রতিষ্টান রিফাতকে জরিমানা গুনতে হয় ৮ লাখ টাকা। এর আগে ২৭ মে বাবুলের প্রতিষ্টান ফিজা’কে গুনতে হয় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা। নানা কুট কৌশলের মাধ্যমে নজরুল ইসলাম বাবুল বহু অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারলেও হেরে গেছেন কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরানকে হটাতে। তাই এবার আর নির্বাচন নয় আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে কামরান হঠাতে মরিয়া বাবুল।

নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, নির্বাচন সুষ্টু হয়নি। তাই তিনি আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। সুষ্টুভাবে ভোট গ্রহণ ও গননা হলে কাউন্সিলর পদে তিনিই বিজয়ী হবেন বলে এমন দাবী বাবুলের।

এদিকে সদ্যনির্বাচিত বর্তমান কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরানও বসে নেই। দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর পদ ধরে রাখতে তিনিও আইনী লড়াইয়ে অবতীর্ন হচ্ছেন একমাত্র প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে। তাই দেখা যাক এবার কে জিতেন এবং কে হারেন আইনের রণাঙ্গনে।

৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মকলিছুর রহমান কামরান বলেন, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তিনি পাগল হয়ে গেছেন। সাংবাদিক সম্মেলন করে বললেন- তিনি ২ কেন্দ্রে পুনরায় ভোট চান, আর উচ্চ আদালতে বললেন-ভোট পুনরায় গণনা করতে চান। তার কথা বার্তায় কোন মিল নেই। মুল বিষয় হচ্ছে তিনি জনরায় মেনে নিতে পারেননি। এজন্য জনগনের রায়ের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আদালতে গিয়েছেন। প্রক্ষান্তরে তিনি জনরায়ের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেছেন।

(আজকের সিলেট/১০ আগস্ট/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন