১২ আগস্ট ২০১৮


দুই দপ্তরের রশি টানাটানিতে আটকে আছে তেমুখি-বাদাঘাট সড়কের কাজ

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : সিলেট শহরতলির তেমুখি বাদাঘাট সড়ক সংস্কারে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়লেও লক্ষাধিক মানুষের কপালে দুর্ভোগের তিলক যেনো সরতেই চাইছে না। সড়কের সংস্কার কাজ শুরু নিয়ে আজ-কাল করে বছর পার হলেও কাক্সিক্ষত সেই দিন আর আসছে না। দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এর মধ্যে রশি টানাটানি হয়।

যে কারণে সড়কের অবস্থা চরম পর্যায়ে চলে যায়। বেড়ে যায় অবর্ণনীয় জনদুর্ভোগ। মেইন সড়কে চলাচল না করে ছোট ছোট যানবাহন বিভিন্ন গ্রামের পথ ধরে চলাচল শুরু করে। সাধারণ মানুষ ও পরিবহণ শ্রমিকরা আন্দোলনও করেন। দাবি উত্থাপন করা হয় সামাজিক সংগঠন থেকেও।

এসব দাবি এবং সড়কটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের উদ্যোগে ডাস্ট ও বালু ফেলা হয়। কিছুটা চলাচল উপযোগী হয় সড়কটি। সম্প্রতি সড়কের সোনাতলা বাজার এলাকাসহ বেশ কিছু জায়গায় পুরনো সেই রূপ ধারণ করেছে। বড় বড় গর্তে পানি জমাট হওয়ায় ভোগান্তিতে রয়েছেন যাত্রী-চালকরা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি সড়ক সংস্কারের একটি খবর মানুষের মনে আশার সঞ্চার সৃষ্টি করে।

জানা যায়, সড়কটি সংস্কারের দায়িত্ব পেয়েছে এলজিইডি। বরাদ্দও হয় ২ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। গত ২ জুন এমন খবর এলজিইডি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ নিশ্চিত করলেও পেরিয়ে গেছে আরো দুই মাসের অধিক সময়। তবুও সড়কের সংস্কার জট যেনো খুলতেই চাইছে না। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার কাজ দ্রুত শুরুর তাগাদা থাকলেও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই পেরিয়ে গেছে দুই মাস।

আগস্টের শুরুর দিকে কাজ শুরু হবে, বিভিন্ন সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেলেও এখন কুরবানী ঈদের আগে কাজ শুরু নিয়ে এলজিইডি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দোটানা বিরাজ করছে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আগামী সপ্তাহে কাজ শুরুর কথা বললেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহবুব এন্টারপ্রাইজ বলছে, ‘ঈদের আগে কাজ শুরু করা বেশ কঠিন হয়ে যাবে’।
এমন অবস্থায় সড়কে চলাচলরত কয়েকটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের কপালে দুর্ভোগের তিলক যেন সরতেই চাইছে না!

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়- জুন মাসে সড়ক সংস্কারের জন্য ২ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু নাজুক অবস্থায় থাকা তেমুখি-বাদাঘাট সড়ক সংস্কারে এই বরাদ্দ অপ্রতুল না থাকায় বাড়ানো হয় বরাদ্দের পরিমাণ। ২ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে বরাদ্দ দাঁড়ায় ৩ কোটি ১১ লক্ষ টাকা। সড়কটি সংস্কারের কাজ পেয়েছে ‘মেসার্স মাহবুব এন্টার প্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মহসীন জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়ালি প্রায় সব কাজ শেষ। কেবল চুক্তি সম্পাদনটাই বাকি। এটিও প্রায় চূড়ান্ত। কেবল আনুষ্ঠানিকতা বাকি। সড়কে যাত্রীদের জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা ঈদের আগেই কাজ শুরু করবো। আগামী সপ্তাহে কাজ শুরু হবে। ঈদের আগে যে কয়দিন আছে, সে কয়দিন কাজ করা হবে। ঈদের পর পুরোদমে কাজ চলবে। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজটি আমরা শেষ করার চেষ্টা করবো।

তবে এলজিইডি প্রকৌশলী আগামী সপ্তাহে কাজ শুরুর ব্যাপারে জানালেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মাহবুব এন্টার প্রাইজ’ এর স্বত্ত্বাধিকারী মাহবুব আহমেদ জানান- আমার প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও ঈদের আগে কাজ শুরু করা বেশ কঠিন। ঈদের আর মাত্র কয়দিন বাকি। এর মধ্যে শ্রমিকদের ধরে রাখা যাবে না। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বেশ চাপাচাপি করলেও এটা আমার জন্য কঠিন হয়ে উঠবে।

(আজকের সিলেট/১২ আগস্ট/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন