১৩ আগস্ট ২০১৮


যে কারনে ডুবল কামরানের নৌকা

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সিসিকের ইতিহাসের প্রথম মেয়র তিনি। বিগত ১/১১ সরকারের সময়েও কারাগার থেকে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। এর পর টানা দুই বার বিএনপির মেয়র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হতে হলো তাকে। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকুলে থাকার পরও একসময় আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তার অধিকারী এই নেতার নৌকা ডুবল কেন? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মনে।

২০১৩ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের ব্যবধান প্রায় ৩৭ হাজার ভোটে নিজের পরিষদের সাবেক কাউন্সিলরের কাঠে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। সেময় হেফাজত ইস্যু সহ বিভিন্ন ইস্যুকেই দায়ি করেছিলেন নিজ দলের নেতারা। কিন্তু এবারের নির্বাচনেও ৬ হাজার ২০১ ভোটে একই প্রার্থীর কাছে হেরেছেন কামরান।

সিসিক নির্বাচনে ২০০৩ ও ২০০৮ সালে টানা দু’দফা নির্বাচিত হওয়া বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পরাজয়ের নেপথ্যে কারণ জানতে খুজতে নানা ধরণের তথ্য উঠে আসে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, কামরানের সাথে প্রকাশ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকা নেতাদের গোপনে আতাত আর দলের কাউন্সিলর প্রার্থীদের অসহযোগিতা এবং দলের শীর্ষ নেতাদের উচ্চাভিলাসই কামরানকে পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

১৯৭৩ সাল থেকে নির্বাচনী রাজনীতির সাথে জড়িত বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তিনবার কমিশনার, একবার পৌর চেয়ারম্যান, টানা দু’বার মেয়র ছিলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের কামরান অনুসারীদের দাবি, বিগত নির্বাচনে দলীয় কোন্দল কামরানের পরাজয় হয়েছিলো। কিন্তু এবার প্রকাশ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরও গোপন আতাতের কারনেই কামরান বিজয়ী হতে পারেননি।

কামরান অনুসারীদের মতে, সিসিক নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সে নির্দেশার পর নির্বাচনী মাঠে দলীয় নেতারা প্রকাশ্যে ছিলেন ঐক্যবদ্ধ। অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বাদ দিয়েও কামরান ও তার ঘনিষ্টজনরা দলের নেতাদের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখেন। পাশাপাশি বিজয়ের ব্যাপারে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ছিল কামরানের, যা শেষপর্যন্ত হিতে বিপরীত হয়েছে।

এদিকে, ২০১৩ সালের নির্বাচনের মতোই এবারের নির্বাচনে সিলেট আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কেন্দ্রে কামরানের পরাজয় ঘটেছে। অথচ সিসিকের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকী ১২টি ওয়ার্ডেও দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় স্থানে ছিলো আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা। অথচ ভোটের হিসেবে কামরান বিজয়ী কাউন্সিলরদের ওয়ার্ডেও সুবিধাজনক অবস্থান করতে পারেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের কেন্দ্র ছাড়া বাকি শীর্ষ নেতাদের কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছে নৌকা প্রতীক।

এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন সিরাজের কেন্দ্রে দুটি বুথে ধানের শীষ ১৪৫২ ভোট পেলে নৌকা পায় মাত্র ৬৫৩ ভোট, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমানের কেন্দ্রে নৌকা ২৬০ ভোট পেলেও ধানের শীষ পায় ৫০৯ ভোট, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেলের কেন্দ্রে ধানের শীষ ১ হাজার ৩০৮ ভোট পেলেও নৌকা পায় মাত্র ৫৬৬ ভোট।

অপরদিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অদূরদর্শিতা ও উদাসীনতার কারণে যাদেরকে কামরানের এজেন্ট নিয়োগ করেছিলেনম তাদের অনেকেই ছিলেন বিএনপি সমর্থক। এছাড়া ভোটের দিন নগরীর কাজী জালাল উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রে বুকে নৌকা প্রতীকের ব্যাচ ঝুলিয়ে কেন্দ্র দখলের অভিযোগও করেছে আওয়ামী লীগ। যা কামরানের পরাজয়কে তরান্বিত করেছে।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, সিলেট নগরীর উন্নয়নে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অকৃপনভাবে অর্থ বরাদ্দ করেছেন। সরকারের বরাদ্দ দিয়েই কাজ করেছেন আরিফ। মানুষের কাছে অর্থমন্ত্রী কিংবা সরকার নন, আরিফই দৃশ্যমান ছিলেন। তাই মানুষ মনে করেছে, আরিফকে ভোট দিলে ভালো হবে।

(আজকের সিলেট/১৩ আগস্ট/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন