১৪ আগস্ট ২০১৮


সিলেটে ছাত্র আন্দোলনের পর রাস্তায় ফের অনিয়ম

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : সারাদেশের মতো সিলেটেও ছাত্র আন্দোলনের তোড়ে সে সময়টায় সব ছিল ঠিকঠাক। মাথায় হেলমেট, পকেটে গাড়ির কাগজ আর নিয়মমাফিক লাইন। সেই সাথে সঠিক পথে যাতায়াত তো ছিলই। আন্দোলন শেষ, এবার নিয়ম পালনও শেষ।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীতে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে সিলেটর আন্দোলনে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের পাশাপাশি গড়ে তুলেন সড়কের শৃংঙ্খলা। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, উল্টো পথে গাড়ি, চালকের লাইসেন্স, রাস্তা পারাপারে জনসচেতনতা, মোটরসাইকেল চালকের হেলমেটসহ সকল শৃঙ্খল এবং সচেতনতার উদাহরণের মতো চিত্র তৈরি হয় সিলেটের সড়ক পথে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত হতে না হতেই পুরনো সকল অনিয়মের চিত্র ফিরতে শুরু করেছে। ফলে নগরীতে আবারও যানজটসহ দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিতের পর গত কয়েক দিনে উল্টো পথে গাড়ি, রাস্তা পারাপারে অসচেতনতা, ফুটপাতে মোটরসাইকেল, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, হেলমেটবিহীন মোটরবাইক আরহীসহ চির চেনা সেই অনিয়মের চিত্র নগরীতে আবারো দৃশ্যমান। তবে ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে গাড়ির কাগজপত্র, চালকের লাইসেন্স, মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট পরাসহ কিছু নিয়মানুবর্তিতা দেখা গেলেও তা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।

মাইক্রোবাস চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় দেখা যায় মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাত জায়গার কারণে অনেক জায়গা ঘুরতে হয়। তাই সুযোগ থাকলে উল্টো পথে ঢুকে যায় অনেকে। তবে কোন কোন সময় ট্রাফিক থাকলে সমস্যা হয় বলে জানান তিনি।

সিলেটের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিকুঞ্জ দাশ বলেন, আন্দোলনের সময় সকলের মধ্যে যে সচেতনতা দেখা গিয়েছিলো তা সময়ে সময়ে হারিয়ে যাচ্ছে। এখন আবারো উল্টো পথে গাড়ি চলাচল করা শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় যানজট তৈরি হলে অনেকে অপেক্ষা না করে ফুটপাত দিয়েই মোটরসাইকেল চালানো শুরু করেছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী আইনের শাসনের অভাবেই মানুষের মাঝে সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার শিক্ষার্থীদের আপাতত শান্ত করার জন্য ট্রাফিক সপ্তাহ ঘোষণা করে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে চাইছে। বাস্তবে এরকম কোন কিছুই হচ্ছে না। কারণ এখনো শহরে অনেক সিএনজি নম্বরবিহীন আছে, কিন্তু প্রশাসন এগুলোর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

সুজনের এ সভাপতি আরো বলেন, ‘দেশে সুশাসন বলতে কিছুই নাই। তাই জনগণ আইন মানতে চাচ্ছে না। তা না হলে উল্টো পথে যেসব গাড়ি চলাচল করে বা যারা আইন মানে না তাদেরকে জরিমানা করা হতো।’

সরেজমিনে নগরীর রিকাবিবাজার থেকে চৌহাট্টা, চৌহাট্টা থেকে জিন্দাবাজার, আম্বরখানাসহ নগরীর অধিকাংশ জায়গায় দেখা গেছে সুযোগ পেলেই উল্টো পথে গাড়ি ঢুকছে। এমনকি ট্রাফিক সিগনালে মোটরসাইকেল আরোহীরা ফুটপাত দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে রিকাবিবাজারস্থ স্টেডিয়াম মার্কেটে অসংখ্য ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বার এবং ডায়গনাস্টিক সেন্টার থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমানে পার্কিং জোন না থাকায় এসব চেম্বারে আগত অনেকেই মূল সড়কে গাড়ি পার্কিং করছেন। এমনকি রিকাবি বাজার থেকে চৌহাট্টা ঘুরে আসার বদলে উল্টো পথেই ঢুকে যাচ্ছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে তৈরি হয় যানজট।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) তোফায়েল আহমদ বলে, সড়কের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ যথাযথ চেষ্টা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যেসকল গাড়ির কাগজপত্র নাই বা যেসকল চালকের লাইসেন্স নাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে। তবে নম্বরবিহীন কোন গাড়ি যদি বিভিন্ন গলির ভিতরে চলাচল করে সে ক্ষেত্রে ধরা নাও পড়তে পারেন বলে জানান তিনি।

পুলিশের এ উপ কমিশনার (ট্রাফিক) জনসচেতনতার বিষয়কে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিটি মানুষ সাধারণ শিক্ষাটা তাদের পরিবার থেকেই নিতে হয়। সুতরাং যারা আইন অমান্য করে তাদেরকে ধিক্ষার দেয়া ছাড়া কিছু বলার নেই বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সাধুবাদ জানিয়ে তোফায়েল আহমদ বলেন, স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো কিভাবে আইন মানতে হয়। প্রশাসনের লোকসহ অনেকেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আইন শিক্ষা নিয়েছেন সুতরাং আমাদের প্রত্যেকের উচিত আইন মেনে চলা।

(আজকের সিলেট/১৪ আগস্ট/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন