১৭ আগস্ট ২০১৮


কলেজ ছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য ৫০ হাজার টাকা!

শেয়ার করুন

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বাজকাশারা গ্রামের চাঞ্চল্যকর চায়ের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে পান করিয়ে কলেজ ছাত্রী ছদ্ধনাম আজিদাকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগের মামলার বিষয়টি গত সোমবার রাতে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে আপোষে মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আজিদার ইজ্জতের মূল্য মাত্র ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন গ্রাম্য মাতব্বররা বলে শালিস সূত্রে জানাগেছে। মামলার বাদি আজিদাও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এছাড়া ওই শালিসে নবীগঞ্জের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানাগেছে।

বৈঠকে উপস্থিত লোকজন ও মামলা সূত্রে জানাযায়, উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের বাজকাশারা গ্রামে গত ২১ জুলাই শনিবার দিবাগত রাতে মৃত নাজিম উল্লার পুত্র অসহায় আব্দুর রহিম (৭০) এর বাড়ির পার্শ্বের গ্রাম্য দোকানদার একই গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার হাছিব উল্লার পুত্র সজলু মিয়া ওই রাত অনুমান সাড়ে ৯ টায় তার দোকান বন্ধ করে প্রতিবেশী অসহায় বৃদ্ধ আব্দুর রহিম মিয়ার ঘরে গিয়ে আদর করে তাকে, তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও মেয়ে কলেজ ছাত্রী আজিদাকে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে চা পান করায়। এতে আব্দুর রহিম (৭০), তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৫৫) ও মেয়ে আজিদা বেগম চা পান করে গভীর ঘুমে নিমজ্জিত হন এবং সকালে ঘুম ভাঙ্গলে আজিদা দেখতে পান চা দোকানী সজলু তার পাশে শুয়ে আছে এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আজিদা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন যাওয়ার পূর্বেই সজলু কৌশলে পালিয়ে যায়।

পর দিন রোববার ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে এ ঘটনাকে ধাঁমাচাপা দিতে উঠেপড়ে লাগে সজলু ও তার পিতা সাবেক ইউপি মেম্বার হাসিব উল্লাহ। পরদিন রবিবার বৃদ্ধ আব্দুর রহিম ও তার স্ত্রী ফাতেমার জ্ঞান ফিরে না আসায় এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে এক পর্যায়ে তাদেরকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় বাজকাশারাসহ নবীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র তোলপাড় চলে।

বিষয়টির ব্যাপারে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন এলাকার সচেতন লোকজন। পরে আজিদা বাদি হয়ে নবীগঞ্জ থানায় সজলুর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন। থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান এবং মামলার তদন্ত কাজ শুরু করেন। এদিকে গতকাল ওই জনপ্রতিনিধি উভয় পক্ষকে নিয়ে শালিস বৈঠকের ব্যবস্থা করেন।

শালিসে নবীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম, নবীগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ডা. শাহ আবুল খায়ের, দীঘলবাক ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফখরুল ইসলাম জুয়েল, অভিযুক্ত সজলুর পিতা সাবেক ইউপি মেম্বার হাছিব উল্লাসহ আরো বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা উপস্থিত ছিলেন। শালিসের এক পর্যায়ে সর্বসম্মতিক্রমে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি বোর্ড গঠন করা হয়। হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি এ মুনিম চৌধুরী বাবু, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম ও নবীগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ডা. শাহ আবুল খায়ের হচ্ছেন ওই বোর্ডের ৩ সদস্য। তারা তিনজন শালিস থেকে একটু দুরে গিয়ে কিছুক্ষন পর এসে রায় প্রদান করেন। ঘোষণা প্রদান করা হয় সজলু নগদ ৫০ হাজার টাকা আজিদাকে প্রদান করবে এবং মামলা তুলে নেয়ার যাবতীয় খরচ বহন করবে। সাথে সাথে নগদ ৫০ হাজার টাকা আজিদাকে প্রদান করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদি আজিদাকে ফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নগদ ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। উপজেলার বাজকাশারা গ্রামের চাঞ্চল্যকর এ মামলা ও আপোষ নিয়ে নবীগঞ্জের সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

(আজকের সিলেট/১৭ আগস্ট/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন