১৮ আগস্ট ২০১৮


আজ মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : আজ ১৮ আগস্ট মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালে এই দিনে পাক হানাদাররা স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগীত্য়া শতাধিক নারী-পুরুষকে হত্যা করে। স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও শহীদদের পরিবারকে দেওয়া হয়নি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বীকৃতি। করা হয়নি অবকাঠামো উন্নয়ন।

জানা যায়, হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজ থেকে ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট ভোরে অর্ধশতাধিক নৌকা নিয়ে রওয়ানা দেয় পাক হানাদার বাহিনী। বানিয়াচং থেকে স্থানীয় রাজাকাররা তাদের সাথে যোগ দেয়। আনুমানিক সকাল ৮ ঘটিকায় ঘাতকরা পৌছায় বানিয়াচং উপজেলার কগাপাশা ইউনিয়নের দূর্গম ও পল্লী এলাকা মাকালকান্দি গ্রামে। কিন্তু গ্রামবাসী চন্ডি মন্দিরে মনষা পুজা করছিলেন। কোন কিছু বুঝার আগেই পূজায় মগ্ন নিরীহ নরনারীদের উপর ঝাপিয়ে পরে নরপশুর দল। চালানো হয় মুহুর্মুহু গুলি।

শুধু তাই নয় কাতার করে নিরীহ গ্রামবাসীর উপর করা হয় ব্রাশফায়ার। কাতারে কাতারে দাঁড় করিয়ে শতাধিক নারী পুরুষকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তবে ৭৮ জনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়। নরপশুরা মিনতী রানী পাল নামের এক পূজারীর কোল থেকে তার ৩ বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়। রাজাকারদের সহযোগীতায় হানাদাররা সেদিন চালায় ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা। যারা নৌকা দিয়ে পালাতে পেরেছিলেন তারা জীবনে বেঁচে যান। কেউ কেউ ঝুপঝাঁেপর আড়ালে লুকিয়ে থেকে প্রাণ রক্ষা করেন অনেকই।

হানাদাররা গণহত্যা করেই কান্ত হয়নি, বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে জালিয়ে দেয়। এ সুযোগে স্থানীয় রাজাকাররা চালায় ব্যাপক লুটপাট। আতংক কেটে যাওয়ার পর নিহতের স্বজনরা বাড়িতে আসার পূর্বেই শতাধিক লাশ নদীতে পঁচে ভেসে উঠে। ফলে পঁচা দূগন্ধের কারনে নিহতের স্বজনরা লাশগুলো সৎকার না করে পাশের নদীতে ভাসিয়ে দেন।

এ গ্রামের হরিপদ চৌধুরী জানান, ঐ দিন তার মা, বাবা, ভাই বোনসহ ৭ জনকে পৈশাচিকভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। কৃপেশ চৌধুরী গোপাল জানান, সেদিন আমার বয়স ছিল ৫ বছর। নরপিচাশরা আমার মা, বাবা, ভাই-বোনসহ আমার পরিবারের ৯ সদস্যকে হত্যা করে।

নিহতদের আত্মীয়রা আক্ষেপ করে জানান, স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও শহীদ পরিবারকে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। গ্রামের রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট, বিদ্যুতায়ন করা হয়নি। করা হয়নি সুষ্ঠ শিক্ষার পরিবেশ।

এ গ্রামের যুবক প্রদীপ দাশ জানান, ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন ইউএনও মো. নুরে আলম সিদ্দিকীর প্রচেষ্টা গ্রামে স্থাপিত হয় একটি স্মৃতিসৌধ। এ স্মৃতিসৌধে গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন প্রতি বছর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

(আজকের সিলেট/১৮ আগস্ট/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন