১১ আগস্ট ২০১৭


চার’শ মিটার রাস্তার জন্য চার উপজেলাবাসীর দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীকে একটি রাস্তার জন্য যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সিলেট ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহ আজিজুর রহমান, এম. ইলিয়াস আলী, শফিকুর রহমান চৌধুরীর মাধ্যমে ৪ কিলোমিটার ও বর্তমান সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৭ শ মিটার রাস্তা পাকা করার পরও বিশ্বনাথ-পুরকায়েস্থ বাজার-কুরুয়াবাজার রাস্তায় প্রায় ৪শ মিটার কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। যার ফলে চার উপজেলাবাসী সংযোগ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না।

১৯৫৩ সালে বিশ্বনাথ-পুরকায়েস্থ বাজার-কুরুয়াবাজার রাস্তাটি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানীর পিতা মাটি কাটার মাধ্যমে রাস্তার উদ্বোধন করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই রাস্তাটি পরিপূর্ণতা পায়নি। যার কারণে ওই অঞ্চলের মানুষ দিনের পর দিন সীমাহীন কষ্টে চলাফেরা করছেন।

রাস্তার পাশে রয়েছে শ্বাসরাম রহমান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরুয়ালাস্থ দক্ষিণ বিশ্বনাথ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও মহিলা কলেজ, দক্ষিণ বিশ্বনাথ কিন্ডারগার্টেন, ভোগশাইল কেরামত আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহপিন উচ্চবিদ্যালয়, সেনারগাঁও শাহজালাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হজরত বেলাল (রা.) হাফিজিয়া মাদ্রাসা, ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হযরত শাহ ওলী খন্দকার (রহ.) মাজার, হজরত শাহপিন (রহ.) মাজার, ছমরউদ্দিন আউলিয়ার মাজার, শাহ দুধ মালিক (রহ.), একাশাহ (রহ.), পশ্চিম শ্বাসরাম জামে মসজিদ, পশ্চিম শ্বাসরাম জামে মসজিদ (মোকাম), সরুয়ালা জামে মসজিদ, ভোগশাইল জামে মসজিদ, সেনারগাঁও জামে মসজিদ, পূর্ব চান্দশিরকাপন জামে মসজিদ, ভোগশাইল পোষ্ট অফিস, ভোগশাইল মন্দিরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম আসলে কুরুয়াবাজার ও কাইয়াখাইড় (নতুনবাজার) থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সীমাহীন কষ্ট হয়। এ কষ্টের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করতে হয়। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বনাথ-পুরকায়েস্থবাজার-কুরুয়াবাজার রাস্তাটির অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য সংসদ সদস্যদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে।

শাহপিন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফজল মিয়া বলেন, চারটি থানার সংযোগ সড়কটি অসমাপ্ত থাকায় সারা বছর মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

দক্ষিণ বিশ্বনাথ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী তাহমিনা বেগম বলে, এত পুরনো একটি রাস্তা আজ পর্যন্ত সমাপ্ত না হওয়ায় আমাদের খুব দুঃখ লাগে।

দক্ষিণ বিশ্বনাথ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও মহিলা কলেজের ছাত্রী হাফিজা বেগম বলেন, পুরো রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় দূরের শিক্ষার্থীরা ওই কলেজে পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

শাহ ওলী খন্দকার সমাজ কল্যাণ সংস্থা ও পাঠাগারের সভাপতি মো. কছির আলী বলেন, অল্প জায়গার জন্য ৪টি উপজেলাবাসী মারাত্মকভাবে কষ্ট করছেন। তিনি ওই এলাকার শিক্ষার্থীর কথা চিন্তা করে রাস্তাটি পাকা করার জন্য সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং ৭ মিটার রাস্তা পাকা করার জন্য এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছয়ফুল হক বলেন, বিশ্বনাথ-পুরকায়েস্থ বাজার-কুরুয়াবাজার রাস্তাটি উপজেলার প্রাচীন রাস্তা। রাস্তার কাজ সমাপ্ত হলে চারটি উপজেলাবাসী উপকৃত হবেন।

বিশ্বনাথ উপজেলা প্রকৌশলী খোন্দকার গোলাম শওকত সবুজ সিলেট কে বলেন, ৪০০ মিটারের জন্য রাস্তা অসমাপ্ত থাকবে না। একটি পুরনো রাস্তা হিসেবে আমাদের বিবেচনায় আছে।

তিনি বলেন, আইআরআইপি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। আমাদের বলা হলে ওই রাস্তাটি ওই প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

 

(আজকের সিলেট/১১ আগষ্ট/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন