১৬ আগস্ট ২০১৭


বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে ফের বন্যা

শেয়ার করুন

বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর প্রতিনিধি : গত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে আবারো বন্যা দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে পর পর তিনবার বন্যার কারণে অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এলাকার প্রধান প্রধান ব্যবসা কেন্দ্রগুলোতে। উপর্যুপরি বৃষ্টিতে রোপা আমনের বীজতলাও তলিয়ে যাওয়ায় চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন কৃষকরা। গত তিনদিনে এলাকায় পানি বৃদ্ধির পরিমাণ ৩ থেকে সাড়ে ৩ সেন্টিমিটার।

জানা যায়, এলাকার প্রধান নদী কুশিয়ারা ও বুড়ি বরাকের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রধান প্রধান হাওরগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে একাধিক গ্রাম। দুই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ পানিবন্দির কারণে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে- বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কুশিয়ারা ডাইকে ভাঙন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা ফের বন্যায় তলিয়ে গেছে। সাদীপুর ইউপির লামাতাজপুর, পূর্ব তাজপুর, দক্ষিণ তাজপুর, কালনিরচর, সম্মানপুর, সুন্দিখলা, হলিমপুর, পশ্চিম পৈলনপুর ইউপির আদমপুর, আলীপুর, মঙ্গলপুর, কোণাপাড়া, জাকিরপুর, গলমুকাপন (একাংশ), উমরপুর ইউপির আবদুল্লাপুর, মজলিসপুর, মাধবপুর, চরসিকন্দরপুর, ভরাউট, মান্দারুকা, হামতনপুর (একাংশ) বুরুঙ্গা ইউপির আনোয়ারপুর, পিয়ারাপুর, নিজ বুরুঙ্গা, হাজীপুর, গোয়ালাবাজার ইউপির ভাগলপুর, মোতিয়ারগাঁও, গাভুরটিকি, মোবারাকপুর, জায়ফরপুর, জহিরপুরসহ উপজেলার অধিকাংশ গ্রামের কয়েক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

এদিকে, উপজেলার সর্বত্র পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং বিশুদ্ধপানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত হওয়ার কারণে বেশি বিপদে পড়েছেন শিশু বাচ্চা ও গবাদি পশু নিয়ে। পানিবাহিত রোগের কারণে আতংকিত রয়েছেন এলাকার লোকজন। পানির মধ্যে দিয়ে যাতায়াতে হাতে-পায়ে ঘা, বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়াজনিত রোগের আশংকা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন চিকিৎসালয়ে রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এদের মধ্যে বিশেষ করে শিশুদের সংখ্যা বেশি।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ওসমানীনগরে উপর্যুপরি বন্যার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন অবগত রয়েছে। এলাকার বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্দশা লাঘবে প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাব নেই। সরকার থেকে বরাদ্দকৃত ত্রাণসামগ্রী ইতোমধ্যে শেষ হওয়ায় নতুন বরাদ্দের তালিকা প্রেরণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার ও বীজ দেওয়ার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন।

 

(আজকের সিলেট/১৬ আগষ্ট/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন