২৬ আগস্ট ২০১৭


সিলেটে হাটে আসছে পশু, নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিলেটে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। ইতোমধ্যে সবকটি পশুর হাট সাজানো হয়েছে নতুন সাজে। স্থায়ী হাটের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বসানো হচ্ছে অস্থায়ী হাট। এসব হাটে দূর থেকে পশু নিয়ে আসা বেপারিদের থাকার জন্য রাখা হয়েছে নানান সুযোগ সুবিধা। তাছাড়া মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বৈধ পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হাট এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্রও বসিয়েছে নগর পুলিশ।

নগরীর একমাত্র স্থায়ী হাট কাজীরবাজার পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। হাটে দেখা মেলে ভারত থেকে আমদানি করা বিভিন্ন জাতের গবাদি পশুও। পশু বেপারিরা তাদের নিজেদের পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকে ক্রেতার আকর্ষণ বাড়াতে পশুকে সাজিয়ে রাখছেন; তাছাড়া রঙ-তুলির আঁচড়ে রঙিন করছেন গরুর শিংও।

কাজীর বাজার পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারিরা গরু আনতে শুরু করেছেন, তবে পরিপূর্ণভাবে হাট জমতে আরও দুই একদিন সময় লাগবে। ক্রেতারা এলেও গরু কিনছেন না, দেখেশুনে চলে যাচ্ছেন। তবে অনেক উৎসুক জনতা প্রতিদিনই হাটে আসছেন বলে জানান দায়িত্বরত ব্যক্তিরা।

এদিকে, সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে এ বছর কোন পশুর হাট ইজারা না দিলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিভিন্ন স্থানে হাট বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। নগরীর মাছিমপুর মাঠ, টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন মাঠ, শাহী ঈদগাহের লালমাটির মাঠসহ নগরীর বেশ কয়েকটি স্থানে ক্ষমতাসীন নেতারা অস্থায়ী হাটের অবকাঠামো তৈরি করছেন। এ কারণে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বৈধ হাটে পশু আসার ক্ষেত্রে তারা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কাজির বাজার হাটের ইজারাদারের পক্ষের এক ব্যক্তি।

তবে এবার নগরের সড়কে কোরবানির পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না জানিয়ে এসএমপির মূখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. জেদান আল মুসা বলেন, নগরীতে গরু নিয়ে আসা ট্রাক থামিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যেতে না পারে সেজন্য মোবাইল টহল টিম সার্বক্ষণিক পুরো নগর চষে বেড়াবে। এছাড়া বৈধ পশুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, নগরীর পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন অনিয়ম হলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। পশুর হাটগুলোতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করবে। তাছাড়া প্রতিটি হাটে পুলিশের পক্ষ থেকে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনও বসানো হবে।

সড়কে ট্রাক থামিয়ে পশু ছিনিয়ে নেয়া বন্ধে পুলিশ কঠোর থাকবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাক যে হাটের উদ্দেশ্যে পশু নিয়ে আসবে সেখানেই পশু নিয়ে যাবে। সড়কে কোথাও ট্রাক আটকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। এজন্য একটি মোবাইল টিম ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নগরে টইল দেবে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা যাতে নিরাপদে ব্যবসা করতে পারেন সে ব্যাপারেও মহানগর পুলিশ সতর্ক থাকবে বলে জানান তিনি।

আগামী ২ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে বাংলাদেশে। এদিন মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকেরা স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন। তাই এই ঈদকে কোরবানির ঈদও বলা হয়।

 

(আজকের সিলেট/২৬ আগষ্ট/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন