৩০ আগস্ট ২০১৭


দুইশ ফুট সড়কে দুর্ভোগে দুই উপজেলাবাসী

শেয়ার করুন

রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মাত্র ২০০ ফুটের ভাঙন মেরামত ও পাকা না করায় দীর্ঘ দিন থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রাজনগর ও সদর উপজেলার হাজারো মানুষের। হলদিগুল-কালারবাজার-চাঁদনিঘাট ৪৩ কিলোমিটার সড়কের ওই অংশটুকু কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে কয়েকবার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন মনু ব্যারেজের এ বাঁধের মেরামত ও পাকা না করায় কষ্ট লাঘব হচ্ছে না সাধারণ মানুষের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজনগর ও মৌলভাবাজার সদর উপজেলা মিলে হলদিগুল-কালারবাজার-চাঁদনিঘাট সড়ক প্রায় ৪৩ কিলোমিটার। সড়কটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন হলেও বিগত জোট সরকারের সময় প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের উদ্যোগে ওই সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) ব্যবস্থাপনায় সড়কের পুরো অংশ পাকা করা হয়।

এ সড়কের ২৭ কিলোমিটার রাজনগর প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ১৬ কিলোমিটার মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন। ভাঙনকবলিত এলাকাটি রাজনগরের সীমানায় হলেও তা সদর প্রকৌশল অফিস দেখভাল করছে। কিন্তু রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনয়নের কাশিমপুর ও সোনালোহা গ্রামের মধ্যবর্তী ‘মাছুখালি’ নামক স্থান বেশ কয়েকবার কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে। সড়কটি কয়েকবার মেরামতও করা হয়। পরবর্তীকালে ওই ভাঙন আর মেরামত করা হয়নি।

বিগত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘পিবিএমসি’ প্রজেক্টের আওতায় এ সড়কের পুরো ৪৩ কিলোমিটার পাকা সড়ক মেরামত করা হয়। এতে ৮ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়। কিন্তু ওই সময়েও এ ভাঙন মেরামত করা হয়নি। প্রায় ৩-৪ বছর আগে পাকা সড়কের প্রায় ২০০ ফুট এলাকা কুশিয়ারা নদীতে বিলীন হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটি ফেলে দক্ষিণ পাশে নতুন সড়ক বানিয়ে দেয়। কিন্তু ভাঙন ঝুঁকিতে থাকায় ব্যস্থতম এ সড়কের ভাঙন এলাকায় টাকা দেয়নি বিশ্বব্যাংক। এর ফলে পিবিএমসি প্রজেক্টের আওতায় তা পাকা করা হয়নি। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষদের।

স্থানীয় ব্যবসায়ী গৌসুজ্জামান বলেন, মাছুখালির এ সড়ক ৩-৪ বার ভাঙনের কবলে পড়েছে। আগে কয়েকবার মেরামত করা হলেও দীর্ঘ ৪-৫ বছর ধরে শুধুই মাটি ফেলা হচ্ছে। এই ২০০ ফুট ভাঙনের কারণে দুই উপজেলার ৫-৬টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এব্যাপারে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রকৌশলী মেহদি হাসান বলেন, সড়কটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন। এলজিইডি এটি পাকা করেছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় বিশ^ ব্যাংক টাকা দেয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটির কাজ করে দিলে হয়তো পরবর্তীকালে তা পাকা করা সম্ভব হবে।

মৌলভীবাজার পানি উন্ন্য়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, মনু নদীর প্রকল্পের সঙ্গে কুশিয়ারার অংশটুকু স্থায়ী প্রকল্প ধরা হয়েছে। এখানে ব্লকের কাজ হবে। কারিগরি রিপোর্ট হয়ে গেছে। বরাদ্দ পাস হলেই শীত মৌসুমে কাজ করা হবে।

 

(আজকের সিলেট/৩০ আগষ্ট/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন