১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭


সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ৫২ কিলোমিটারে বাড়ছে দুর্ঘটনা

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক : সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের নবীগঞ্জের আউশকান্দি থেকে সিলেট হুমায়ুন রশিদ চত্বর পর্যন্ত অংশ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খানাখন্দের কারণে রীতিমতো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে মহাসড়কটি। এ অঞ্চলের মহাসড়কের দু’পাশ ঘেঁষে ভাসমান দোকানের দখল এবং অযোগ্য চালকের কারণেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে পথযাত্রীদের।

মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি থেকে পানিউমদা বাজার এবং শেরপুর থেকে সিলেট হুমায়ুন রশিদ চত্বর পর্যন্ত প্রায় ৫২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এক বছর আট মাসে ৪৩টি মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ গেছে অর্ধশতাধিক যাত্রীসহ পথচারীদের। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে যান চলাচল করছেন এ অঞ্চলের যাত্রীরা।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে খানা খন্দক আর নিষিদ্ধ অটোরিকশা চলাচল, ভাঙা বা গর্ত অংশ ছেড়ে গাড়ি ভালো অংশ দিয়ে চলতে গিয়ে ওভারটেকিং করে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন না মেনে প্রতিযোগী মনোভাব নিয়ে গাড়ি চালানো ইত্যাদি কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিদিনই ঝরছে তাজা প্রাণ। অনেকেই হচ্ছে পঙ্গু। যার অধিকাংশই হচ্ছেন পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বর্তমানে বাড়তে বাড়তে এটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো হচ্ছে, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের সঈদপুর বাজার, দেবপাড়া ইউনিয়নের সদরঘাট নতুন বাজার, ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর, কাগজপুর ব্রীজ, বুরুঙ্গা রাস্তার মূখ, উনিশ মাইল, প্রথমপাশা, ব্রাহ্মণগ্রাম, গোয়ালাবাজার, ওসমানীণগর থানার সামন, তাজপুর, ব্রাহ্মণশাসন মোড়, দয়ামীর, নাজিরবাজার, কুরুয়া ও রশিদপুরসহ রয়েছে শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অংশ।

বিভিন্ন সুত্রে থেকে জানা যায়, এসব এলাকায় গত ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জের আউশকান্দি, ওসমানীনগর ও সিলেট সদর পর্যন্ত প্রায় ৫২ কিলোমিটারে ৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে অর্ধশতাধিক মানুষের।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, খানাখন্দের কারণেই দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক গত ১০ জুন থেকে এলজিইডি স্থানীয় ঠিকাদার দিয়ে শুরু হয় সংস্কার কাজ । কিন্তু সংস্কার করা হলেও কিছুদিন পর ঘুরে ফিরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের অবস্থা হয়ে যায় আগের মতোই। এতে করে স্থানীয় লোকজন এবং যাত্রী সাধারণদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত জুন মাসের শেষের ১০ দিনে নবীগঞ্জের সৈয়দপুর থেকে দেবপাড়া পর্যন্ত তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় নববধূ মা-ছেলেসহ নিহত হয়েছেন ৭জন আহত হয়েছেন ১৫জন । বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, নিয়ম ভঙ্গ করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং করার প্রবণতা, চালকদের দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, আনফিট গাড়ি ও থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীনচালক নিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও সড়কের বেহালদশার কারণে মহসড়কে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে।

ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুরের ব্যবসায়ী মাওলানা কাজী আ ফ ম আব্দুল কাউয়ুম বলেন, খানাখন্দের কারণেই দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাঝে মধ্যে সিলেট মহাসড়কে নামকা ওয়াস্তে সংস্কার কাজ করতে দেখা যায়। কিন্তু কিছুদিন পর ঘুরে ফিরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের অবস্থা হয়ে যায় আগের মতোই । এতে করে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, ট্রাফিক আইন ও মোটরযান আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটা কমে আসবে।

 

(আজকের সিলেট/১২ সেপ্টেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন