৩১ আগস্ট ২০১৭


ভারতীয় গরুতে সয়লাব নগরীর পশুর হাট

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আর মাত্র ২দিন বাদেই কোরবানির ঈদ। এরই মধ্যে জমে উঠছে সিলেটের সবকটি পশুর হাট। তবে জমজমাট হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর আধিপত্য থাকায় লোকসানে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা। বৈধ ৪টি করিডোরের পাশাপাশি সিলেটে অবৈধভাবেও পশু আসছে ভারত থেকে।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত মাসে সিলেট সীমান্তের ৪টি করিডোর উন্মুক্ত করে দেয়ায় বৈধপথে গরু আসছে ভারত থেকে। তাছাড়া আরও বেশ কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধপথেও আসছে ভারতীয় গরু।

সিলেট কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয় থেকে জানা যায়, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের শরিফপুরের করিডোর দিয়ে গরু আমদানি করা হতো। গত মাসে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের মাঝেরগাঁও, হবিগঞ্জের বাল্লা ও সুনামগঞ্জের ছাতক সীমান্তে নতুন আরো ৩টি করিডর উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই ৪ করিডোর দিয়ে বৈধপথে গরু দেশে প্রবেশ করছে।

তবে বৈধ ৪ করিডোর ছাড়াও সিলেটের গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি, বিয়ানীবাজারের সুতারকান্দি, সুনামগঞ্জের বড়ছড়াসহ ছাড়াও বিভাগের বেশ কিছু সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে দেশে গরু আনা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে, সিলেটে এ বছর কোরবানির জন্য যে সংখ্যক দেশি গরু রয়েছে; তাতে ভারত থেকে আমদানির কোন প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। তাদের তথ্য মতে, সিলেটে গত বছর ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৮৭ পশু কোরবানি দেয়া হয়। চলতি বছরও একই সংখ্যক পশু কোরবানি দেয়া হবে।

এ কারণে বিভাগের ৪ জেলার ৩৯ উপজেলার সাড়ে ৩৫ হাজার ছোট-বড় খামারের ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫১১টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। তাছাড়া খামারের বাইরে পারিবারিকভাবে আরো ৩ লাখ গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এ কারণে ভারত থেকে আমদানির প্রয়োজন পড়বে না। তবে চাহিদার তুলনায় অধিক পশু থাকার পরেও সীমান্ত দিয়ে গরু আসায় খামারিরা লোকসানে পড়বেন। ফলে তারা নিরুৎসাহিতও হবেন বলে মন্তব্য করেছেন অধিদফতরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন।

গেল ৩ বছর ভারতীয় গরু আসা কমে যাওয়ায় লাভজনক ব্যবসা হিসেবে অনেক নতুন উদ্যোক্তা সিলেট অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে দেশীয় গরুর খামার গড়ে তোলেন। এসব খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা হয় গবাদিপশু। কোরবানির মৌসুমে বিক্রির জন্য খামারিরা সারা বছর গরু লালন-পালন করেন। ঢালাওভাবে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করায় স্থানীয় খামারিরা লোকসানে পড়বেন মনে মন্তব্য করেছেন খামারিরা।

পিজি এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মাছনুন জানান, এ বছর সিলেটের বাজারে প্রচুর ভারতীয় গরু এসেছে। এ কারণে দেশীয় খামারিরা আশানুরূপ দাম প্রাপ্তির ব্যাপারে শঙ্কায় রয়েছেন।

আখালিয়ার আরেক খামারি মখলিসুর রহমান কামরান জানান, কোরবানির মৌসুমে বিক্রির জন্য তার খামারের ২০০ গরু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় গরুর আধিক্যের কারণে দাম কমে যাবে। ফলে লোকসানে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

 

(আজকের সিলেট/৩১ আগষ্ট/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন