৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭


ঈদে ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন হাওরে

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশের উত্তর-পূর্ব দিগন্তের সীমান্ত ঘেরা হাওরের রাজধানী হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ জেলা। শুধু হাওরেই নয়- জীব-বৈচিত্র, সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ হাওর, নদী,পাহাড়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর শৈল্পের কারুকার্যে ভরপুর করে দিয়েছেন বিধাতা এ জেলায় নিজের হাতেই।

জেলার ১১টি উপজেলা জামালগঞ্জের পাকনার হাওর, হালির হাওর, জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওর, বিশ্বাম্ভরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা ও তাহিরপুরের টাংগুয়ার হাওর, শনির হাওর, মাটিয়ান হাওরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় চার শতাধিক (২০ একরের ঊর্ধ্বে) হাওর রয়েছে। এই সব হাওরের রূপ বৈচিত্র দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার সৌন্দর্য পিপাসু দর্শনার্থীদের আগমনে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে হাওরগুলোতে।

জানা গেছে, হাওরের নীলাভ রুপালি জলরাশি শুধু নয়- জলজ ও স্থলজ নানা ধরনের উদ্ভিদের পাশাপাশি এ অঞ্চলে জন্ম নিয়েছে সম্পদে সমৃদ্ধ বাউল, লোককবি, সাধক মরমী কবি হাসন রাজা, রাধরমন, শাহ আব্দুল করিম ও তাদের স্মৃতিজড়িত স্থান, কিছু নিদর্শন ও তাদের গান। আর তাদের লেখা গান নির্দশনগুলো বিশ্ববাসীর কাছে দিনদিন হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয়। পর্যটকরা টাংগুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে এসে নীল জররাশি মাঝে নৌকায় বসে, কেউ বা হাওরের পানিতে সাঁতার কেটে গোসল করে, কেউ বা রাতে হাওরের শীতল হাওয়া ও পূর্ণিমার আলোয় রাত্রী যাপন, কেউ বা হাওরে সুর তুলছেন বাউল, মরমী কবি সাধকদের জনপ্রিয় গানগুলো।

হাওরের মাছ, অতিথি পাখি, সৌন্দর্য আর সোয়াম ফরেস্টের জন্য বিখ্যাত এ জেলায় হাওরের সৌন্দর্য ভ্রমণ পিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকলেও প্রচার-প্রচারণা আর সু-ব্যবস্থাপনা না থাকায় এতদিন পর্যটকদের তেমন একটা নজর কাড়তে পারেনি। সেই সাথে পর্যটন শিল্প স্থাপনের প্রতি সরকারের আগ্রহ না থাকায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

কিন্তু সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটক ও দর্শনার্থীরা সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদী, পাহাড়, পাহাড়ি ঝর্ণা, হাওর, বাওরের হিজর, করচ, নলখাগরা বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নানান প্রজাতির বনজ, জলজ প্রাণি আর হাওর পাড়ের বসবাসকারী মানুষের জীবন-জীবিকা খুঁজে খুঁজে বের করে নৈসর্গিক সৌর্ন্দযে মুগ্ধ হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদেক আলী, রফিকুল ইসলাম, তোজাম্মেল হক নাছরুম বলেন, পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা দেশ-বিদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের সামনে তুলে ধরতে টাংগুয়ার হাওরে গত বছরের ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর দু-দিনব্যাপী টাংগুয়ার হাওরে জল জ্যোৎস্না উৎসবের আয়োজন করেছিল তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন। ব্যাপক সাড়াও পেয়েছে এ উৎসবের আয়োজকরা।

বিশেষ করে তাহিরপুর উপজেলার আন্তর্জাতিক রামসার সাইট খ্যাত জীব-বৈচিত্র্য, সম্পদে ও সৌন্দর্যে ভরপুর টাংগুয়ার হাওর অনন্য বৈশিষ্ট্য থাকায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম, সাইদুল, সোহাগ জানান, বর্ষায় হাওরে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া হিজল, করছের ডালগুলো বর্ষার অথৈই জলে ডানা কাটা পরীর মত ভাসমান আর শুষ্ক মৌসুমে পাতাবিহীন ডালাপালাগুলো ভাস্কর্যের রূপ নেয়। আর শীতে মৌসুমে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পাখির মিলন মেলা ও সবুজের সমারোহ চোখ জুরানো সুন্দর্যে মনপ্রাণ খুলে উপভোগ করছেন বেড়াতে আসা সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটক ও দর্শনার্থীরা।

বাদাঘাট বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ও যুবলীগ সভাপতি সেলিম হায়দার, বাদাঘাট বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি মাসুক মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা রাহাদ হায়দারসহ স্থানীয়রা জানান, দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এখন একা না এসে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

জেলার টাংগুয়ার হাওর, বারেকটিলা, যাদুকাটা নদী, হাওলি জমিদার বাড়ি, জয়নাল আবেদিন গার্ডেন (শিমুল বাগান), সীমান্তের আদিবাসি পল্লী, মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে আসা ছোট বড় ২০টি ঝর্ণাসহ ৪৬টি দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তাই পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুদের সামনে তুলে ধরতে পর্যটনসমৃদ্ধ স্থানগুলোকে নিয়ে বাস্তবমুখী, র্দীঘমেয়াদী সুচিন্তিত পরিকল্পনার মাধ্যমে হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার সর্বমহলে দাবি উঠেছে।

বেড়াতে আসা শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ও তার বন্ধুরা জানান, হাওর, নদী, পাহাড়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে অপরূপ সৌন্দর্যের রূপের রানী যাদুকাটার তুলনা হয় না। এত সুন্দর পাহাড়ি নদীর সম্মিলন খুব একটা দেখা যায় না।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, হাওরেই সুনামগঞ্জ জেলাকে তুলে ধরেছে দেশ-বিদেশের সৌন্দর্যপিপাসু দর্শনার্থী ও পর্যটকদের কাছে।

 

(আজকের সিলেট/৪ সেপ্টেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন