২৪ জুন ২০১৭


শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদবাজার

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোবববার বসবে চাঁদ কমিটি। চাঁদ দেখা গেলেই পরদিন সোমবার মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। হাওরে ফসল হানি ও গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারনে সিলেটের ঈদবাজারে অনেকটা ছন্দপতন থাকলেও শেষমুহুর্তে এসে সিলেটের ঈদবাজার এখন জমজমাট।

নগরীর বিভিন্ন নামি দামি বিভিন্ন শপিংমলসহ, মার্কেট ও বিপনীবিতানগুলোতে চলছে বেচাকেনার ধুম। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পারছেন বিক্রেতারা। প্রথমদিকে নিজেদের পছন্দের কাপড় তৈরী করতে থানকাপড়েরর দোকানগুলোতে ভিড় থাকলেও এখন আর সেই সুযোগ না থাকায় ক্রেতারা ভিড় করছেন রেডিমেইড কাপড়েরর দোকানগুলোতে। শেষ মুহুর্তে এসে মার্কেটের বিভিন্ন দোকান, শো-রুম ঘুরে ঘুরে সময় নিয়ে নিজেদের পছন্দের বাজার করছেন ক্রেতারা।

সময় ঘনিয়ে আসায় বৃষ্টির কারনে যারা শহরের বাইরে থেকে আসতে পারেন নি তারাও এসে ভিড় জমিয়েছেন নগরীর বিপনিবিতানগুলোতে। অনেকে এসেছেন নিজেদের যানবাহন নিয়ে আবার অনেকে এসেছেন গাড়ি ভাড়া করে। এতে করে নগরীতে গাড়ির বাড়তি চাপে যানজটের পরিমানও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নগরীর জিন্দাবাজার ও ফ্যাশনপল্লীখ্যাত নয়াসড়কে মানুষের একটু বাড়তি চাপ লক্ষ্যনীয়।

সিলেটের ঈদবাজার মূলত বন্দর, জিন্দাবাজার, ও নয়াসড়ক কেন্দ্রীক হয়ে উঠেছে। মধ্যবিত্ত ও কম আয়ের মানুষের ভিড় বেশী বন্দরে অবস্থিত হাসান মার্কেট ও মধুবন মার্কেটে। তাদের অনেকে কেনাকাটা করছেন নগরীর জিন্দাবাজারে অবস্থিত শুকরিয়া মার্কেট, সিলেট প্লাজা, সিলেট মিলেনিয়াম, ব্লু ওয়াটার শপিং মল, সিলেট সিটি সেন্টার, কাকলী শপিং সেন্টারসহ আশপাশের আরও অনেক ছোট বিপনীবিতানগুলোতে। সেখান থেকে ক্রেতারা দেখে শুনে দরদাম করে নিজেদের পছন্দের কাপড়টি কিনে নিচ্ছেন।

এদিকে নগরীর নয়াসড়ককে কেন্দ্র মাহা, আড়ং, এডিশন চন্দ্রবিন্দুসহ দেশের বিভিন্ন নামী দামি ফ্যাশন হাউসগুলোর শো-রুম গড়ে উঠায় সেখানকে ফ্যাশনপল্লী হিসেবেই বেশীরভাগ মানুষ চিনে থাকেন। যারা একটু উন্নতমানের কাপড় ও দরদাম পছন্দ করেননা তাদের ভিড়ই এখানে বেশী লক্ষ্যনীয়। এমনকি প্রতিটি শো-রুমে বেচাকেনাও চলছে ব্যাপক।

নগরীর আখালিয়ার বাসিন্দা সোহেল আহমদ। তিনি তার বাবার জন্য কাপড় কিনতে এসেছেন এডিশন ফ্যাশন হাউসে। তিনি বলেন, ঈদের আর তেমন বেশী বাকী নেই। তাই বাবার জন্য পছন্দের একটি ফতোয়া কিনতে এসেছি। শোরুমগুলোতে ভাল মানের কাপড় পাওয়া যায়। দরদামের ঝামেলাও পোহাতে হয় না।

নগরীর নয়াসড়কে অবস্থিত ফ্যাশন হাউস আপন। সেখানেও রয়েছে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে মেয়েদের শাড়ী, কাপড় ও জুয়েলারী একসাথে থাকার কারনেই এমন ভিড় সেখানে বলে জানিয়েছেন আপনের কর্মচারী মো: শরীফ আহমদ। তিনি বলেন, ২০ রমজানের পরে মূলত বেচাকেনা খুব বেশী হয়। তবে এইবার ২০ রমজানের পরে বৃষ্টির কারনে বেচাকেনায় একটু কম ছিল। তবে এখন অনেকটা শেষ মুহুর্ত ঈদাবাজারের। তাই শহর ও শহরের বাইরে থেকেও মানুষ এসে কেনাকাটা করছেন। তাই বেচাকেনাও ভাল হচ্ছে। সকাল থেকেই এখানে ভিড় লেগে থাকছে।

এদিকে নগরীর ফুটবাজারেও ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে পুরো দমে। বাড়তি কোনো খরচ না থাকায় সেখানে মার্কেটগুলো থেকে অনেকটা কমদামেই কাপড় পাওয়া যায়। তাই এসব ফুটবাজারে নিম্ন আয়ের মানুষসহ মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদেরও সেখানে দেখা যায় কেনাকাটা করতে। নগরীর চৌহাট্টায় সরকারি মহিলা কলেজের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতে টেবিল, লাইট ও বৃষ্টি থেকে বাচার জন্য উপরে পলিথিনের তেরপাল টানিয়ে তারা বেচাকেনা করছেন। উচ্ছেদ আতঙ্ক থাকায় সন্ধ্যার পরই সেখানে ভিড় জমে এসব মৌসুমী ব্যবসায়ীদের। সেখানে ছেলেদের প্যান্ট, শার্ট গ্যাঞ্জি ফতোয়াসহ মেয়েদের শাড়ীও রয়েছে। সন্ধ্যার পর ক্রেতাসমাগমও বেড়েছে সেখানে। দেখে শুনে দরদাম করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারাও ক্রেতাদের আকর্ষন করার জন্য হাকছেন আসুন দেখে যান।

চৌহাট্টার ফুটবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াছিন আরাফাত বলেন, সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ আতঙ্কের কারনে সন্ধ্যার পরপরই বসতাম আমরা। অনেকটা আতঙ্ক নিয়াই বেচাকেনা করতাম। রাত একটু বেশী হলে পুলিশ এসে আবার উঠিয়ে দিত। তার মাঝে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বেচাকেনা একেবারেই মন্দা ছিল। তবে গত দুইদিন ধরে বিক্রি ভালই হচ্ছে। ঈদের শেষ মুহূর্তে আসায় এখানকার সকলের বেচাকেনা জমজমাট।

শেষ মুহুর্তে এসে সিলেটের ঈদবাজার জমজমাট হলেও বাড়তি মানুষ ও গাড়ির চাপে অনেকটা ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এসব ভোগান্তিকে উপক্ষো করেই কেনাকাটায় ব্যস্ত রয়েছেন ক্রেতারা।

 

 

(আজকের সিলেট/২৪ জুন/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন