১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭


সমস্যার দাবানলে জ্বলছে গোলাপগঞ্জবাসী

শেয়ার করুন

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : সমস্যর দাবানলে জ্বলছে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা। সড়ক মহাসড়কে মরণফাঁদে গর্তের কারণেই এই ভায়াবহ দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে সিলেটের এই তিন উপজেলাবাসীদের মধ্যে। গোলাপগঞ্জ উপজেলা দিয়ে ভয়ে যাওয়া সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে বিভিন্ন স্থানে মরণ ফাঁদ গর্তের কারণে দুর্ঘটনার পাশাপাশি ঘন্টার পর গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জ বাজার থেকে সিরামপুরের বাইপাস সড়ক পর্যন্ত যানযট লেগেই থাকে।

বিগত কয়েকমাস আগে সিরামপুর বাইপাসের সামনে সিরাজ উদ্দিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের সামনের গর্তে সংস্কার করা হলেও ১৫ দিনের মাথায় আবার মরণ ফাঁদে পরিণত হয়। মহাসড়কের ৫ মাইল হিলালপুর নামক স্থানে একি ভয়াবহ গর্ত রয়েছে। গোলাপগঞ্জ উপজেলার এই সড়ক দিয়ে বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, বড়লেখাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করছে।

হেতিমগঞ্জ পাড়ি দিয়েই ছোটবড় গাড়ী ও সাধারণ যাত্রীরা পড়েন সমস্যার দাবানলে। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় প্রায় দু’কিলোমিটারের এই রাস্তায়। এই মরণ ফাঁদ গর্তে পড়ে প্রতিদিন কোন না কোন গাড়ী খাদে পড়ছে। দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকেই হাত পা ভেঙ্গে কষ্টের জীবন যাপন করছেন। প্রায় মাসখানেক পূর্বে এ উপজেলার তামি আহমদ, সৌমিক ও জাকির হোসেন নামে তিন কলেজ শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল নিয়ে গর্তে পড়েন।

দুইজন কয়েকদিন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী ফিরলেও এখনও উপজেলার নারাপিং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী তামি ঢাকা এ্যপলো হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। সিরাজ উদ্দিন একাডেমীর সামনে বিশাল আকারের গর্ত হওয়ায় শিক্ষক শিক্ষার্থীরাও চরম হতাশায়।

আবুল কালাম নামে এক সিএনজি চালক বলেন, এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে আসতে ভয় লাগে। গর্তের পাশাপাশি ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

সিলেট-জকিগঞ্জ বিরতী বাস চালক করিম মিয়া বলেন, জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গর্ত পাড়ি দিয়ে আসতে হয়। গোলাপগঞ্জ উপজেলার এওলাটিক নামক স্থানে আসার পর ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়াতে হয়।

শাওন আহমদ নামে সিরাজ উদ্দিন একাডেমীর এক শিক্ষার্থী বলেন, গর্তের কারণে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে আমাদের স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের চললের অনেক অসুবিধা দেখা দেয়।

অপরদিকে উপজেলার প্রত্যেকটি সড়কে ছোট বড় গর্ত হয়ে পানি জমে থাকায় যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গাচোরা সড়কের সংস্কার কাজের উদ্যোগ না নেয়ায় উপজেলার বেশ কয়েকটি সড়ক কয়েক বছর ধরেই ভাঙ্গা রয়েছে। কোন কোন সড়ক দীর্ঘদিন থেকে ছোট বড় গর্ত হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন জনসাধারণ।

এসব রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ছোট বড় গর্ত হওয়ায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকেই হাত পা ভেঙ্গে কষ্টের জীবন যাপন করছেন। বিশেষ করে রাতের বেলা এসব সড়ক দিয়ে চলাচলে যান চালকেরা একটু এদিক সেদিক করলেই গর্র্তগুলোতে গাড়ির চাকা আটকে দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। গোলাপগঞ্জের প্রবেশমুখের সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা দেখে সাধারণ জনগণ বর্তমান সরকারের জনপ্রতিনিধির উপর আস্থা হারাতে বসেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গোলাপগঞ্জ-ঢাকাদক্ষিণ, ঢাকাদক্ষিণ-ভাদেশ্বর, ঢাকাদক্ষিণ-বিএনকে, পাহাড়লাইন, পুরকায়স্থবাজার-কমলগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ-পুরকায়স্থবাজার ও গোলাপগঞ্জ-ধারাবহর, শিকপুর সড়কের প্রায় পুরোটাতেই বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। সড়ক গুলো সংস্কার না করায় দিন দিন গর্তগুলো বড় হচ্ছে এবং পিচ ও পাথরের খোয়া উঠে গিয়ে সড়কের বেশি অংশ ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এসব সড়কে গর্তের পাশাপাশি কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ।

এছাড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউপির বাইশমুরা, কোনাচর, নিমাদল, ঘোষগাঁও, লক্ষণাবন্দ ইউপির ফুলসাইন্দ, করগ্রাম, লক্ষণাবন্দ, কমলগঞ্জ, ঢাকাদক্ষিণ ইউপির ঢাকাদক্ষিণ বাইপাচ, রায়গড়, শীলঘাট, নগর, কানিশাইল, আমুড়া ইউপির ধারাবহর, ডামপাল, সুন্দিশাইল গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামের সড়কে ছোট বড় গর্ত হয়ে পানি জমে আছে। এদিকে উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ-বিএনকে সড়ক দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় সড়কটি এখন মরণ ফাদেঁ পরিণত হয়েছে।

ঢাকাদক্ষিণ-বিএনকে ২.২৫ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা থাকায় গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ। সড়ক কর্তৃপক্ষের নেই কোন সংস্কার কাজের উদ্যোগ। এ সড়ক দিয়ে ঢাকাদক্ষিণ ইউপির ৪টি গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ সড়কের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রতিদিন স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা পড়–য়া ছাত্রছাত্রী ও ব্যবসায়ীসহ শতশত লোক এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন।

 

 

(আজকের সিলেট/১৭ সেপ্টেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

 

শেয়ার করুন