১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭


ব্রডব্যান্ড সংযোগ নিয়ে সন্তোষ্ট নন সিলেটবাসী

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটে অল্প সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডও (বিটিসিএল) এ সংযোগ প্রদান করে থাকে। তবে বেসরকারি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ঠিকতে পারছে না সরকারী এই প্রতিষ্ঠান।

বিটিসিএলের গ্রাহকদের অভিযোগ, অধিক ফি ও চাহিদামত সার্ভিস না পাওয়ায় বিটিসিএলের প্রতি অনাগ্রহ তাদের। অপরদিকে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও রয়েছে অভিযোগ। বিশেষত চুক্তি অনুযায়ী গতি না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বেসরকারি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে।

বিটিসিএল সূত্রে জানা যায়, সিলেটে আবাসিক পর্যায়ে তাদের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহক রয়েছেন হাজারখানেক। আর বাণিজ্যিক পর্যায়ে সংযোগ নিয়েছে ৬৭ টি প্রতিষ্ঠান।

অপরদিকে, সিলেটে প্রায় ২০ টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে থাকে। সিলেটে এসব প্রতিষ্ঠানের আবাসিক পর্যায়ে গ্রাহক রয়েছে ২৫ হাজার ও আর বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৭ হাজার।

সংখ্যার এই ফারাকই জানান দিচ্ছে বিটিসিএলের প্রতি গ্রাহকদের অনাগ্রহের। গ্রাহক সংখ্যায় বিস্তর ফারাক থাকলেও ইন্টারনেট মূল্যে সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তেমন ফারাক নেই। বিটিসিএলের এক এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট সংযোগের জন্য মাসিক ৭শ’ টাকা প্রদান করতে হয়। আর দেড় এমবিপিএসের জন্য দিতে হয় এক হাজার টাকা। অপরদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে পাঁচশ’ থেকে বারো শ’ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

সিলেটে ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে লিংক থ্রি টেকনোলজিস, আম্বার আইটি লি., সল-বিডি, এনরিচ নেট প্রাইভেট লি., বিডিকম লি., বিটিএস, সিলনেট, মেট্রো নেট, ব্রাকনেট লিমিটেড, আলাপ কমিউনিকেশন, ব্রডব্যান্ড টেলিকম সার্ভিস, ড্রিঙ্ক আইসিটি লি., আমরা নেটওয়ার্ক, সামিট কমিউনিকেশন, ফাইভার এট হোম, বাংলা ফেন লিমিটেড, স্কয়ার ইনফোটেক লি., এডিএন টেকনোলজিস, গ্লোবাল ফেয়ার কমিউনিকেশন।

এরমধ্যে আম্বার আইটির সাড়ে তিন এমবিপিএসের প্যাকেজের জন্য প্রতি মাসে দিতে হয় ১৮শ’ টাকা। এনরিচ নেটের প্রতি এমবিপিএসের জন্য ১২শ’ টাকা, লিঙ্ক থ্রির দুই এমবিপিএসের প্যাকেজে প্রতি মাসে খরচ পড়ে ১ হাজার টাকা, বিডিকমের এক এমবিপিএসের সংযোগের জন্য প্রতি মাসে লাগবে ৫শ’ টাকা।

নগরীর মীরাবাজার এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ সামি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্রডব্যান্ড সেবাগ্রহীতা। তিনি বলেন, যে গতি দেওয়ার কথা বলে আমাদের সংযোগ প্রদান করা হয় তা আমরা পাই না। তিন এমবিপিএসের প্যাকেজ নিলেও হয়তো এক এমবিপিএসের মতো গতি পাওয়া যায়। এছাড়া অনেক সময় অফিসের ফোনে অভিযোগ জানাতে চাইলে কল রিসিভ করা হয় না। বিশেষত রাতে কোনও সার্ভিসই পাওয়া যায় না।

নগরীর লামাবাজার এলাকার বিটিসিএলের ব্রডব্যান্ডের গ্রাহক আব্দুল করিম বলেন, অফিস সময়সূচীর পর এবং সরকারী ছুটির দিনগুলোতে বিটিসিএলের কোনও সার্ভিসই পাওয়া যায় না। চার চার-পাঁচ দিন অভিযোগ জানানোর পরে উত্তর পাওয়া যায়। তাছাড়া বিটিসিএলের সংযোগ নেওয়াও বেশ ঝামেলা।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আম্বার আইটি লিমিটেডের সিলেট বিভাগীয় ইনচার্জ সঞ্জিব চৌধুরী বলেন, অনেক সময় গ্রাহকরা ডেডিকেটেড সংযোগ না নিয়ে শেয়ারড সংযোগ নিয়ে থাকেন। শেয়ারড সংযোগের ক্ষেত্রে কখনোই চুক্তিমাফিক গতি পাওয়া যাবে না। গ্রাহকদের এই বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন।

তবে চাহিদামাফিক সার্ভিস প্রদানের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা সপ্তাহে সাতদিন ২৪ ঘণ্টাই সার্ভিস প্রদান করি। অভিযোগ পাওয়ামাত্র তা সমাধানের চেষ্টা করি।

এ ব্যাপারে বিটিসিএল’র সিলেট অফিসের ইন্টারনেট সেবা বিভাগের জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার মোহন কুমার পণ্ডিত বলেন, কারো টিএন্ডটি সংযোগ না থাকলে বিটিসিএলের ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হয় না। এছাড়া দুই এমবিপিএসের বেশি গতির সংযোগ আমরা দিতে পারি না। অথচ বাণিজ্যিক গ্রাহকরা ৫ এমবিপিএস পর্যন্ত গতির সংযোগ চান। এসব কারণে বিটিসিএলের গ্রাহক কিছুটা কম। তবে ধীরে ধীরে গ্রাহক বাড়ছে ও নীতিমালায় পরিবর্তন আসছে বলে জানান তিনি।

আর সবসময় সার্ভিস না পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

 

(আজকের সিলেট/১৮ সেপ্টেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন