১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭


হাকালুকিতে ধরা পড়ছে রূপালি ইলিশ

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার জেলার হাকালুকি হাওরের বড়লেখা অংশে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রূপালি ইলিশ। প্রতি বর্ষা মৌসুমে হাকালুকি হাওরে ছোট আকারের ২-৪টি ইলিশ ধরা পড়লেও এবার বড় আকারের ও সংখ্যায় বেশি ধরা পড়ায় উৎফুল্ল হাওর পাড়ের জেলেরা। গত কয়েক দিন ধরে হাকালুকি হাওরে ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়ছে। এগুলো বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

প্রায় ৩ মাসের বন্যায় হাকালুকি হাওরপারের মৎস্যজীবি সম্প্রদায় হাওরের ভাসান পানিতে জাল ফেলে মাছের দেখা পায়নি। এ অঞ্চলের জেলেদের জীবিকার প্রধান উৎস হাওরের মাছ শিকার। কিন্তু হাওরের জলে মাছ না পাওয়ায় হাকালুকি তীরবর্তী বড়লেখার জেলেরা পেশা সংকটে পড়েন। সম্প্রতি জেলেদের জালে অন্যান্য মাছের সাথে ইলিশ ধরা পড়ায় তারা বেশ খুশি।

সরেজমিনে হাকালুকি হাওরে গেলে জেলেরা জানান, গত চার-পাঁচ বছর ধরেই হাকালুকি হাওরে ইলিশ ধরা পড়ছে। তবে এবার জালে প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। প্রতিদিন হাওরে দেড় থেকে দু’শ ইলিশ ধরা পড়ছে। তবে হাওরে ইলিশ ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ে না। বেড়জালের প্রতিটি টানে ৮-১০টি করে বড় ইলিশের পাশাপাশি জাটকাও ধরা পড়ে। হাওরে বেড়জাল দিয়ে বর্তমানে মাছ ধরা নিষিদ্ধ বলেই জেলেরা তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।

জানা গেছে, যখন হাকালুকি হাওরের পরিবেশ ভালো ছিল তখন প্রচুর পরিমাণে ইলিশ পাওয়া যেতো। মাঝখানে পনের, বিশ বছর ইলিশ পাওয়া যায়নি। কারেন্ট জালের ব্যাপক ব্যবহার, নদী ভরাট, গভীরতা কমে যাওয়া এসব বিভিন্ন কারণে কয়েক বছর ইলিশ কমে যায়।

পৌর শহরের উপজেলা চত্বর এলাকায় মাছ বিক্রেতা বদরুল ইসলাম জানান, হাওরপারের মহদিকোনার এক জেলের নিকট থেকে তিনি ৫ কেজি ইলিশ কিনেছি। ৩’শ থেকে ৫’শত টাকা পর্যন্ত এ ইলিশের কেজি বিক্রি করা যায়।

বড়লেখা উপজেলা মৎস্য অফিসের স্থানীয় মৎস্য সম্প্রসারণ প্রতিনিধি ও প্রাক্তন তথ্য সংগ্রহকারী (হাওর প্রকল্প) সামছুল হাসান জানান, প্রতি বছর হাওরে ছোট ছোট ২-৪টি ইলিশ ধরা পড়লেও এবার আধা কেজি পর্যন্ত ওজনের ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে জেলেদের মুখে হাসির ঝলক ফুঠে উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাকালুকির ইলিশ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছে।

তালিমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস বলেন, ‘হাকালুকি হাওরের অনেক অংশ আমার ইউনিয়ন এলাকায় পড়েছে। প্রতিদিনই ইলিশ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। স্থানীয় কানোনগো বাজারে এ মাছ বিক্রি হয়। তবে সমুদ্রের ইলিশের মত এ ইলিশে স্বাদ নেই।’

এ ব্যাপারে বড়লেখার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জয় ব্যানার্জী বলেন, ‘ইলিশ মূলত সমুদ্রের মাছ। ডিম ছাড়তে এরা নদী ও মোহনায় আসে। আগাম বন্যা ও অধিক প্রাপ্যতার কারণে হাকালুকি হাওরে ইলিশ মাছ এখন পাওয়া যাচ্ছে। নদীর সাথে হাকালুকি হাওরের সংযোগ থাকায় বন্যার সময় এরা হাওরে চলে আসে। ইলিশ নিয়ে সরকার দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। যার কারণে জাটকা মারা বন্ধ হয়েছে। ফলে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে হাকালুকিতে আগামী বছর থেকে ইলিশ বেশি করে ধরা পড়বে।’

 

 

(আজকের সিলেট/১৯ সেপ্টেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন