১ জুলাই ২০১৭


ওসমানীনগরে বন্যায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক::অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে ও নদীর ডাইক ভেঙে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় কুশিয়ারা তীরবর্তী সাদীপুর, পশ্চিম পৈলনপুর, বুরুঙ্গা, উমরপুর ও উছমানপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এবং গোয়ালাবাজার, তাজপুর ও দয়ামীর ইউনিয়নের কিছু এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বন্যা কবলিত এলাকার লক্ষাধিক মানুষ।

বন্যা দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষনিক মনিটরিং রাখতে ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউএনও’র কার্যালয়ে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বন্যা পরিস্থিতি বর্যবেক্ষণে রাখতে কন্ট্রোল রুমের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিএ রেজাউল আলমকে। এর সাথে সাথে দুর্গত এলাকা থেকে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন তথ্য প্রদানের জন্য সর্বসাধারণের জন্য একটি জরুরী মোবাইল নম্বর (০১৯২৯৩৩৬৬২৯) রাখা হয়েছে। উক্ত মোবাইল নম্বরে অথবা ইউএনও মো. মনিরুজ্জামানের সরকারি মোবাইল নম্বরে ফোন করে বন্যা দুর্গত এলাকার যে কোনো তথ্য সরবরাহ সহ শনিবার (১ জুলাই) জনপ্রতিনিধিদের রিপোর্ট করার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বন্যা দূর্গত মানুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ হাজার পরিবারকে ৩ মাস ৮ দিনের জন্য প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার প্রায় ২ হাজার পরিবারকে ঈদের ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হয়। ৬শ’ বন্যার্ত পরিবারের মধ্যে ঈদের আগে ভিজিএফ (ত্রাণ) বিতরণ করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার ৩শ’ পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উপজেলার শতাধিক দুস্থদের মাঝে জনপ্রতি নগদ ১ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান, ঈদের আগের দিন ২০০ পরিবারকে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে ত্রাণ (সেমাই, চিনি, দুধ, তেল ও চাল) সহায়তা প্রদান করা হয়। সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ২৯ জুন ওসমানীনগর উপজেলায় বন্যার্তদের জন্য আরো ৮ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে, যা জরুরী ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে।

এদিকে সিলেটের ওসমানীনগরে বন্যা কবলিত এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ডায়রিয়া, পানিবাহিত চর্ম রোগ, সর্দি-কাশি ও ভাইরাস জাতীয় জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এসব রোগে শিশু ও বৃদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ আক্রান্ত হয়েছেন। রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন সরকারি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো ও প্রাইভেট চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নিতে রোগীরা ভিড় করছেন।

উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, উপজেলার শতভাগ বন্যা কবলিত সাদীপুর ইউপি সহ বন্যা কবলিত ইউপিগুলোতে বেশিরভাগ গভীর নলকুপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে বন্যার পানি পান করে শিশু ও বৃদ্ধ সহ অনেকেই ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছেন। সাদীপুর ইউপির লামা তাজপুর গ্রামের আজির উদ্দিনের শিশু পুত্র তোফায়েল আহমদ (৩), গজিয়া গ্রামের আরশাদ আলীর শিশু পুত্র সাফুয়ান (২), খসরুপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে তানবির (৫), সম্মানপুর গ্রামের তছন মিয়া (৩৫), সুন্দিকলা গ্রামের দিলওয়ার মিয়া (২৭) এবং গজিয়া গ্রামের আলী হোসেন রানার ছেলে ইয়ামিন (৩) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে ইয়ামিনকে তাজপুরের একটি ক্লিনিকে দুইদিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

এদিকে সাদীপুর ইউপির অন্যান্য গ্রামসহ বন্যা কবলিত বুরুঙ্গা, পশ্চিম পৈলনপুর, উমরপুর, গোয়ালাবাজার, তাজপুর. উছমানপুর ও দয়ামীর ইউপির বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে ভাইরাস জ্বর, সর্দি-কাশি, চর্ম রোগ সহ বিভিন্ন ধরণের ভাইরাস রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

সাদীপুর ইউপির গজিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেন রানা বলেন, বন্যার কারণে বাড়ি-ঘর ও নলকূপ পানিতে ডুবে যাওয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। আমার ছেলেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিল। তাকে দু’দিন হাসপাতালে রাখতে হয়েছে।

বুরুঙ্গা সরকারি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারি চিকিৎসক সাফায়াত হোসেন বলেন, বন্যার পর থেকে ভাইরাস জ্বর, সর্দি-কাশি ও চর্ম রোগ নিয়ে প্রতিদিন অনেকেই আসছেন চিকিৎসা কেন্দ্রে।

গোয়ালাবাজারের চিকিৎসক ইকবাল মাসুদ বলেন, প্রতিদিন আমি যত রোগী দেখি, এর মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগই ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন ভাইরাস রোগে আক্রান্ত। দিন দিন এর তীব্রতা বাড়ছে।

 

আজকের সিলেট/সৈয়দ

শেয়ার করুন