২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭


আরেফিন টিলায় অবাধে চলছে ‘বোমা মেশিন’

শেয়ার করুন

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : বোমা মেশিন ব্যবহার করে অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে বছরের শুরুতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা দুই দফা ধসে মারা গিয়েছিলেন ছয় শ্রমিক। শ্রমিক নিহতের ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড়ের পর সে সময় ওই টিলায় পাথর উত্তোলন বন্ধে নজরদারি বৃদ্ধি করে প্রশাসন। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে থানার ভারপ্রাপ্তকে কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলিও করা হয়েছিলো।

তবে এতো উদ্যোগ সত্ত্বেও এখনো শাহ আরেফিন টিলায় চলছে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে পাথর তুলছে ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই টিলায় টাক্সফোর্সের অভিযানে তিনটি বোমা মেশিন আটকের পর ধস করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সিলেটের সকল পাথর কোয়ারিতে সব ধরণের যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আদালত। এছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বরে শাহ আরেফিন টিলাসহ তিনটি কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোম্পানীগঞ্জের সীমান্তবর্তী বিশাল পাহাড় শাহ আরেফিন টিলা কেটে বোমা মেশিন দিয়ে চলছে পাথর উত্তোলন।

এভাবে অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ও ১০ মার্চ দুই দফা টিলা ধসে মারা যান ৬ শ্রমিক। শ্রমিক নিহতের পর পশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক তদন্ত কমিটি ও মামলা হয়। পাথর উত্তোলন বন্ধে কয়েকদিন নজরদারিও বৃদ্ধি করে প্রশাসন। তবে এসব স্থিমিত হয়ে আসার পর এখন ফের বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে পাথর ব্যবসায়ীরা। টিলা কেটে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করে চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের প্রশ্রয়েই চলছে পাথর উত্তোলন। তবে প্রশাসনের দাবি, রাতের আঁধারে মেশিন দিয়ে পাথর তোলা হয়।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, আমাদের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও কিছু অসাধু পাথর ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে ওই টিলঅ থেকে পাথর উত্তোলন করে। বোমা মেশিন ব্যবহার করেও তারা পাথর তুলছে। তবে আমরা খবর পেলেই অভিযান চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছি।

 

(আজকের সিলেট/২৫ সেপ্টেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন