২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭


মৌলভীবাজারে চলছে দুর্গাপূজার শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : শেষ মুহুর্তের প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৌলভীবাজারের প্রতিমা শিল্পীরা। হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শিল্পীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রতিমা নির্মাণে সর্বোচ্চ উৎকর্ষতা সাধনের চেষ্টায় নিবেদিত। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে মহা ধুমধামে শুরু হবে ব্যতিক্রমী ত্রিনয়নী ও লাল দুর্গাপূজা।

এবছর মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলায় ৯১১টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গোৎসব। শহরের সৈয়ারপুর শ্মশানঘাটের শিববাড়িতে এক হাজার হাতের মূর্তি নিয়ে ত্রিনয়নী পূজা এবং রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে দুই শতাধিক বছরের প্রাচীন লাল দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

পূজা উপলক্ষে বর্ণিলসাজে সজ্জিত মণ্ডপগুলো। কিছু মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, চলছে রঙের কাজ। ভক্তদের অভ্যর্থনায় মণ্ডপের প্রবেশমুখে নির্মিত হয়েছে বাহারি সাজের গেট আর তোরণ। জেলার ৯১১ টি মণ্ডপের মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৮৩টি, রাজনগর উপজেলার ৭৫টি, শ্রীমঙ্গলে ১৬৬টি, কমলগঞ্জের ১৪৪টি, কুলাউড়ায় ১২১টি, জুড়ীর ৬৫টি এবং বড়লেখা উপজেলার ১৫৭টি মণ্ডপ এরুপ আকর্ষণীয় সাজে সজ্জিত।

মৌলভীবাজার শহরের সৈয়ারপুরের শ্মশানঘাটে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এক হাজার হাতের মূর্তি নিয়ে আয়োজিত ত্রিনয়নী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রীকান্ত সুত্র ধর বিবার্তাকে বলেন, এই প্রথম এক হাজার হাত বিশিষ্ট দুর্গা প্রতিমা। সত্য যুগ ও ত্রেতাযুগের কাহিনী অবলম্বনে প্রায় একশ দেব-দেবীর পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এবার পূজা দেখতে লক্ষাধিক ভক্ত-অনুরাগীর আগমন ঘটবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সবকিছুই অনুকূলে রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, জেলা পূজা উদযাপন কমিটিও ব্যস্ত রয়েছে প্রতিটি উপজেলা থেকে গ্রামের পূজা মণ্ডপগুলোর তদারকিতে। জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ রায় মুন্না বিবার্তাকে জানান, সামর্থ্যানুযায়ী সংঘ এবং মন্দিরগুলোতে পূজার অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। পূজা চলাকালে দর্শনার্থী ও ভক্তদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে প্রতিটি অঞ্চলে উদযাপন কমিটির সাথে প্রতিনিয়িত মতবিনিময় চলছে। এ ছাড়াও প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় করে সমন্বিতভাবে সফল অয়োজনে সচেষ্ট রয়েছেন তারা।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ শাহ্ জালাল জানান, শারদীয় উৎসব নির্বিগ্ন ও নিরাপদে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন স্তরে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে রাজনগরের পাঁচগাঁও ও জেলা শহরের ত্রিনয়নীর মতো বড় অয়োজনকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাবলয়। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীতে দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠিকতা।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে । এবছর মা দুর্গা নৌকায় চড়ে পৃথিবীতে আসবেন। আবার কৈলাশে ফিরে যাবেন ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে।

 

(আজকের সিলেট/২৩ সেপ্টেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন