৩ জুলাই ২০১৭


বিয়ানীবাজারে নাবালিকা ধর্ষণ: জবানবন্দী দিলো ধর্ষিতা

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক:: বিয়ানীবাজারের কুড়ারবাজার ইউনিয়নের দেউলগ্রামের লম্পট লন্ডনি সরোয়ারের হাতে ধর্ষিত হওয়ার ঘটনায় সিলেটের আদালতে লোহমর্ষক জবানবন্দি দিয়েছে ১২ বছরের ধর্ষিতা। মাত্র ১৭ দিনে কতবার তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, তাও জানায় সে। তার মা-বাবার উপর ধর্ষক সারোয়ারের নির্যাতনের কথাও আদালতকে অকপটে বলে সে।

এদিকে আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে পাওয়া একমাত্র আসামী সারোয়ার আহমদ ধর্ষণ ঘটনায় পুলিশের কাছে তেমন কিছু স্বীকার করেনি। তবে এ ঘটনার নেপথ্যে কি আছে, কারা আছে-তা নিয়ে নানা তথ্য দিয়েছে পুলিশকে। বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, রিমান্ডে সারোয়ারের দেয়া তথ্য যাচাই করছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে এর বেশী কিছু বলতে তিনি রাজি হন নি।

এব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত, বর্তমানে অন্যত্র বদলী) আবুল বাশার মো: বদরুজ্জামান জানান, ১৭দিনে বহুবার শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রতিদিন ২-৩ বার তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষন করতেন সারোয়ার আহমদ। হাত-পা টিপে দেয়ার কথা বলে তাকে বিছানায় নিয়ে আসতেন তিনি। এরপর কখনো জোর করে, কখনো লন্ডন নেয়ার নাম করে আবার কখনো যৌনশক্তিবর্ধক ঔষদ সেবন করিয়ে শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন করা হত।

মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, শিশুটি তার মায়ের কাছে ধর্ষণের কথা জানালে বিষয়টি সারোয়ারের মা ও স্ত্রীকে জানানো হয়। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে সারোয়ার স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেন শ্বশুর বাড়িতে। এরপর তিনি শিশুটিকে রেখে দেন তার নিজ ঘরে। শিশুটিকে নিয়ে তার বাবা-মা বাড়ি চলে যেতে চাইলে তাদের ওপর নির্যাতন চালান সারোয়ার। সবশেষ নির্যাতনের মাত্রা এতটাই প্রকট হয় যে, মেয়েটিকে রেখেই পালিয়ে আসেন তারা। এর আগে একই বিষয় নিয়ে নিজের স্ত্রীকেও বেদম মারধর করেন সারোয়ার। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পর্যন্ত  রয়েছে। শিশু ধর্ষণের ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে সারোয়ার আহমদকে একমাত্র আসামী করে মামলা (নং ১০) দায়ের করেন। র্যাব কর্তৃক গ্রেফতার ওই আসামীকে আদালতে প্রেরন করা হয়। ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে তার মা-বাবার জিম্মায় রয়েছে।

জানা যায়, ধর্ষিত এক শিশুকে বিচার পাইয়ে দেয়ার আশ্বাসে আটকে রেখে তার ওপর আবারও যৌন নির্যাতন চালান লন্ডন প্রবাসী সারোয়ার আহমদ। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের দেউলগ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান ডাঃ আব্দুল লতিফ লতই মিয়ার ছেলে। কানাইঘাট উপজেলার এরালিগুল গ্রামের এক দরিদ্র পিতার ১২ বছর বয়সী ধর্ষিতা মেয়েটি আগেও গণধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষিতার বড় ভাই একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর গ্রামের প্রভাবশালীরা তাদের গ্রামছাড়া করেন। এ সময় নির্যাতনের শিকার মেয়েকে বড় ভাইয়ের কাছে রেখে স্ত্রী ও অপর আরেক সন্তানকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যান হতভাগা ওই পিতা। স্ত্রী ও সাথে থাকা শিশু সন্তানটিকে নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার দেউলগ্রামের লন্ডন প্রবাসী সারোয়ার আহমেদের বাড়িতে আশ্রয় নেন। আক্ষেপ করে ধর্ষিতার বাবা জানান, যার কাছে আশ্রয় নিলাম, সেই সারোয়ার কয়েক দিন পর আমার এই মেয়ের ওপরই পাশবিক নির্যাতন শুরু করেন।

শেয়ার করুন