২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭


এতিম কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য ২০হাজার

শেয়ার করুন

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারে কাজ ও বিয়ের লোভ দেখিয়ে এতিম ভাতিজীর উপর টানা দুই মাস পাশবিক নির্যাতন করেছে এক লম্পট চাচা। ইতোমধ্যে একাধিকবার সালিশ বৈঠক বসে সর্বশেষ ভিকটিম কিশোরীর(১৫) ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২০হাজার টাকা। এ নিয়ে ধর্ষণকারীর এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

ধর্ষণকারী রবিউল ইসলাম রবি (২০) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ জেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের মুকিমপুর গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে। সে বর্তমানে পেশায় একজন রিকশাচালক।

জানা যায়, গত চার মাসে থেকে সে মৌলভীবাজারের শাহবন্দর এলাাকায় ব্যাটারি চালিত রিকশা চালিয়ে আসছে। গত দুই মাস আগে রবি বাড়িতে আসলে কিশোরীকে কাজের কথা বলে মৌলভীবাজার শহরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে টানা ২ মাস একই সাথে বসবাস করে শারিরিক সম্পর্ক চালায়। পরে অনাথ কিশোরীর নানী বিষয়টি টের পেয়ে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। বিগত দুই মাসের ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যে ইকবাল হোসেনর কাছে বিচারপ্রার্থী হন। পরে রবিউল মেম্বারসহ একাধিক সালিশী ব্যক্তিত্বে নিকট তার কুকর্ম শিকারও করে। পরে বিষয়টি সুরাহা করতে পঞ্চায়েতের রায় মেনে নেওয়ার জন্য চাচা ও ভাতিজীর অঙ্গিকারনামা গ্রহণ করা হয়।

নির্ধারিত শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পঞ্চায়েতকে ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন মিলে কিশোরীকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি রফাদফা করার রায় দেন।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে রফাদফা করার সময় এক সালিশ ব্যক্তি সেখান থেকে উঠে আসেন। তিনি বলেন, এ রকম জঘন্য বিচার মানতে পারিনি বলে সালিশ থেকে উঠে এসেছি। অনাথ কিশোরীকে নিয়ে ছিনিমিনি শুরু হয়ে গেছে। সালিশকালিন বিয়ের ব্যপারে কোন সুরাহা না হলে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দিয়েছে অনাথ মেয়েটি।

আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইকবাল হোসেন জানান, ৪দিন পর আমাদের পঞ্চায়েত এর কাছে আসার কথা ছিল কিন্তু পঞ্চায়েতকে অমান্য করে একদল কুচক্রী মহল এটা অন্য রকম শেষ করেছে এই রকম ঘটনা এলাকার জন্য ক্ষতি বয়ে আনে।

সাবেক মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, মেয়েটি আমাদের কয়েকজনের কাছে আসলে তাকে রবিউল বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবে বললে আমি তখন সেখান থেকে চলে আসি ।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

প্রসঙ্গত, রবিউল চার বছর আগে মৌলভীবাজার জেলার চাদনিঘাট সাবিয়া এলাকা বিয়ে করেছিল। তার চরিত্রহীনতার কারণে স্ত্রী হুসনা বেগম এক সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। রবিউল ইসলাম রবিকে প্রধান আসামী করে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলাও দায়ের করেন আগের স্ত্রী ।

 

 

(আজকের সিলেট/২৪ সেপ্টেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন