৫ জুলাই ২০১৭


এ রিকশা সাইডে যা

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট:: অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা যখন রাস্তা দিয়ে যান,তখন নেতার সাথে দলীয় কর্মীদের বহর দেখা যায়।তারা তাদের প্রিয় নেতাকে প্রটোকল দিয়ে গন্তব্যে নিয়ে যান।আর এতেই সৃষ্টি হয় যত সমস্যা,রাস্তা দিয়ে যখন বিশ-ত্রিশটি মটর বাইক এক সাথে বের হয় তখন সাধারণ মানুষ পড়েন বিপাকে,এরমধ্যে অনেককেই দেখা যায় উশৃংখলভাবে গাড়ি চালাতে,সামনে থাকা যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো তাদের চোখেই পড়েনা,পিছন থেকে ধমক দিয়ে (এ ড্রাইবার সাইড কর) এমনকি বাবার বয়সি রিকশা চালকদের ধমক দিয়ে সাইড করতেও বলা হয়।কিন্তু কেন? আপনার নেতা আসলেন বলে একজন চালক কেন তাড়াহুড়ো করে আপনাকে সাইড দিতে হবে? কেনই বা তাকে ধমক খেতে হবে? রাস্তাটা কি শুধু নেতা চলাচলের জন্য? সাধারণত এসব প্রশ্ন অনেকের মনে ঘুরপাক খায়। এর উত্তর খুজতে গিয়ে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির সাথে আলাপ করলে তারা বলেন,যারা এসব আশালীন কর্মকাণ্ড করে,আসেলে তারা নেতার কাছে নিজেকে উপস্থাপন করতে এসব করে,কিন্তু তারা হয়ত জানে না,একজন ভালো আদর্শবান নেতা কখনো এসবে সমর্থন করবে না।

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রীক দেশ,তাই যেকেউ তার ইচ্ছে মত একটি দলের অনুসারী হতে পারে,এতে কোন বাধা নেই। আমরা জানি প্রত্যেক দলই জনগণের উপর ভরসা করে থাকে ,জনগণ ছাড়া গণতান্ত্রীক দেশে একটা দল মূল্যহীন। স্বাভাবিকভাবে দেশের প্রত্যেক দলের নেতাকর্মীদের মাতায় রাখা উচিত,আমরা যাদের ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে ধমক দিচ্ছি এরাই কিন্তু দেশের জনগণ।এদের ভোটের মাধ্যমে দল ক্ষমতায় বসে। তাই রাস্তাঘাটে আপনার নেতার গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তা পরিষ্কার করে দিতে গিয়ে যেসকল চালকদের আপনি ধমক দিচ্ছেন,তাদের মনে রাখতে হবে,একটা পরিবহনে শুধু চালক থাকেনা,অনেক যাত্রী ও থাকে, আপনার এই ব্যবহারটির কারণে যাত্রীদের মনেও আপনার দল সম্পর্কে খারাপ ধারণা জন্মাতে পারে ।তাই কিছু কিছু কথিত নেতাকর্মীর জন্য দল বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় সেটা মাতায় রেখেই কাজ করা উচিত । আপনার আমার ব্যবহার দেখে অন্যরা দলে যোগ দেবার আগ্রহ দেখাবে এটাই কাম্য।

লেখক-সৈয়দ রাসেল আহমদ
সাংবাদিক ।

শেয়ার করুন