৫ অক্টোবর ২০১৭


হত্যা মামলার ‘ফেরারি আসামি’ যখন নৌকা বাইচের আয়োজক

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ট্রিপল মার্ডার মামলার আসামিদের উদ্যোগে নৌকা বাইচ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের খাতায় আসামিরা পলাতক হলেও নৌকা বাইচ নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন ওই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি জিয়াউর রহমান লিটন। সভায় মামলার অপর আসামি দিরাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদারও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ফেরারি আসামি হাফিজুর রহমান তালুকদারকে আহ্বায়ক ও জিয়াউর রহমান লিটনকে সদস্য সচিব করে ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নৌকা বাইচ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও ২৮ সেপ্টেম্বর একই বিষয়ে আসামি লিটন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা করেছেন।

এনিয়ে উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। নৌকা বাইচ উপলক্ষে এক সভায় জিয়াউর রহমান লিটন সভাপতিত্ব করবেন বলে নৌকা বাইচের প্রচারপত্র ও পোস্টারে উল্লেখ রয়েছে।

ওই সভায় প্রধান অতিথি করা হয়েছে সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তকে। বিশেষ অতিথি করা হয়েছে দিরাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন সিকদার ও দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামালকে।

হত্যা মামলার আসামির সভাপতিত্বে পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে বিশেষ অতিথি করায় আসামি গ্রেফতারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দিরাইয়ের সর্বত্র চলছে আলোচনা সমালোচনা।

উল্লেখ্য, চলিত বছরের ১৭ জানুয়ারি দিরাই উপজেলার জারলিয়া গ্রামে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে তিনজন নিহত হন। হাফিজুর রহমান তালুকদার, দিরাই পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. মোশারফ মিয়া ও স্থানীয় জিয়াউর রহমান লিটন ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি।

এ ব্যাপারে দিরাই উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, আমি এই নৌকা বাইচের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমার নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমি আদালত থেকে জামিন নেয়ার চেষ্টা করছি। তবে আমি কোনো সময়ই এ নৌকা বাইচের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না এবং দিরাই পৌরসভার মেয়রও সম্পৃক্ত নন।

জিয়াউর রহমান লিটন বলেন, নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে। আমি সাংবাদিকতা করি, আমাকে দমানোর জন্য এ মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে সবার সম্মতি নিয়ে।

এ ব্যাপারে দিরাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন সিকদার বলেন, কে বা কারা পোস্টারে অতিথি হিসেবে আমার নাম দিয়েছেন তা আমি জানি না। আমি সেখানে অতিথি হবো না।

দিরাই থানার ওসি মোস্তফা কামাল এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

(আজকের সিলেট/৫ অক্টোবর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন