৯ অক্টোবর ২০১৭


জৈন্তা-গোয়াইনঘাটে ভয়াবহ লোডশেডিং

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুরে মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়েছে লোডশেডিংসহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা লোডশেডিং যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জনজীবন। অতিষ্ঠ গরমের সাথে বিরামহীনভাবে চলা এই লোডশেডিং যন্ত্রণার যেন শেষ নেই। বিরামহীনভাবে চলে আসা বিদ্যুৎ যন্ত্রণায় আর গরমে নাকাল দুই উপজেলার নাগরিক জীবন। পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং আর ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের যেন কোন অন্ত নেই। দিন নেই, রাত নেই। সমান তালে দুটি উপজেলা জুড়ে চলছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ঘন ঘন লোডশেডিং।

লোডশেডিং চলাকালে প্রতিকার চেয়ে মোবাইল ফোনে অভিযোগ কেন্দ্র কিংবা সদর দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে বেশিরভাগ সময়ই তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ, রিসিভ না করা ও কোন সদুত্তর পাওয়া যায় না। মাঝে মধ্যে রিসিভ করলে জানানো হয় সিলেটের কুমারগাঁও আর টিলাগড় মেইন লাইন থেকে সরবরাহ বন্ধ তাই লোডশেডিং চলছে।

গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর জুড়ে বিগত ৩ মাস থেকে দিন রাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়ই থাকতে হয় বিদ্যুৎহীন যন্ত্রণাময় ভুতুড়ে পরিবেশে। অত্রাঞ্চলে দিনের চেয়ে রাতের বেলা বেড়ে যায় লোডশেডিং মাত্রা। সন্ধ্যা নামতেই কিংবা আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে শুরু হওয়া লোডশেডিং কখনো কখনো ভোর রাতে শেষ হয়। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পরও কারণে অকারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং ভোগান্তিতে পড়ে চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন দুই উপজেলার হাজার হাজার গ্রাহকরা।

লাগামহীন লোডশেডিং যন্ত্রণায় শিকার হয়ে স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষ বিদ্যুৎ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বেহালভাবে চলতে থাকা সিলেট পল্লী সমিতির-২ এর বিদ্যুৎ পরিসেবার মানোন্নয়ন কিংবা সংকট উত্তরণে নেই কোন আশার বাণী।

গোয়াইনঘাটের আলীরগাও ইউনিয়নের ধর্মগ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদির জানান, পল্লী বিদ্যুৎ এখন আর যায় না, মাঝে মাঝে আসে। একবার গেলে আর ফিরে আসার খবর থাকে না। বিরামহীন বিভ্রাট আর লোডশেডিং যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ থাকেন পুরো এলাকার মানুষজন।

লাফনাউট গ্রামের মুজিবুর রহমান। পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি জানান, লোডশেডিংয়ের নামে বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে সরকার ঠকাচ্ছে ও মানুষের সাথে মশকরা করছে পল্লী বিদ্যুৎ। যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে টানা লোডশেডিং যন্ত্রণায় জনজীবন বিপর্যস্ত হলেও যেন কোন পরিত্রাণ নেই। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করলে তারা শুধু যান্ত্রিক ত্রুটি আর উপরের দোহাই দেয়।

৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের কৈকান্দিরপার গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন। পেশায় পাথর ব্যবসায়ী এই নাগরিক জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২২ ঘণ্টাই যেন বিদ্যুৎ থাকে না। টানা লোডশেডিং যন্ত্রণায় স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাতের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে আছি। এই জ্বালা যন্ত্রণার যেন কোন শেষ নেই। অথচ মাসের পর মাস বিদ্যুৎ বিল যা আসে তাই পরিশোধ করি। পৃথিবীর আর কোন দেশে এমন বিদ্যুৎ পরিসেবা আছে কিনা জানি না।

জৈন্তাপুরের লামনিগ্রামের নিবাসী আব্দুল মালেক জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যায় শুরু হয় বিদ্যুৎ যন্ত্রণা। শেষ হয় ভোর রাতে। প্রতি ৮ ঘণ্টা অন্তর ১ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। এ যেন মগের মুল্লুকের যাতাকলে আবিষ্ট আমরা। ফেরিঘাট, বাউরভাগ, কাটাখাল, হাজিরগ্রাম, ভিত্রিখেল, খাড়–বিল, কেন্দ্রি, লক্ষিপুর, ৪নং বাংলাবাজার, বিড়াখাই, দরকস্ত, চারিকাটসহ গোটা উপজেলা জুড়ে চলছে টানা লোডশেডিং যন্ত্রনা। সর্বত্রই গ্রাহকদের মাঝে অসন্তোষ আর ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

এদিকে গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর লোডশেডিংয়ের বিরুদ্ধে ফুসে ওঠেছেন গ্রাহকরা। গোয়াইনঘাটের পর ৩০ সেপ্টেম্বর জৈন্তাপুরেও পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফুসে ওঠেন এলাকাবাসী। এই প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জয়নাল আবেদিন।

প্রতিবাদ সভায় লোডশেডিং যন্ত্রনাসহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা ক্ষোভ ঝাড়েন । সমবেত হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের উপস্থিতিতে এ সময় প্রধান অতিথি নভেম্বরের মধ্যে অত্রাঞ্চলের লোডশেডিং সহপর্যায়ে নিয়ে আসার আল্টিমেটাম দেন।

লোডশেডিংয়ের নামে গ্রাহক দুর্ভোগ, বিড়ম্বনার ব্যাপারে কথা হলে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আবু হানিফ জানান, ৩৩ হাজার কেভি কুমারগাও ও বটেশ্বর সাবস্টেশনে যান্ত্রিক ত্রুটি ও দুর্ঘটনার ফলে লোডশেডিং বেড়ে যায়। ফলে গ্রাহক ভোগান্তি কিছুটা বেড়েছিলো। বর্তমানে অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। বিয়ানীবাজারে গ্রীড সাবস্টেশনের কাজ শেষ হয়ে গেলে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে লোডশেডিং একেবারেই কমে আসবে বলে আমরা মনে করছি।

 

(আজকের সিলেট/৯ অক্টোবর/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন