৬ জুলাই ২০১৭


মৌলভীবাজারে বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার মাঝে জলাবদ্ধতা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে পানিবন্দি মানুষের মাঝে নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। শিশুরাও ডায়েরিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো কিছু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

বড়লেখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে কর্মরর্ত ডা. মোঃ ইব্রাহিম জানান, এখনই প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন ডায়েরিয়া রোগী আসছে। এছাড়াও তিনি উপজেলার কানুনগো বাজারে অবস্থিত হাকালুকি উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত ৫৬ পরিবারের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। ওখানেও শিশুসহ লোকজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রয়েছেন এবং ওই কেন্দ্রে একজন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে তিনি জানান। দুর্গত এলাকায় তারা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করছেন। তিনি বন্যা পরবর্তী পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার আশঙ্কা করছেন।

এদিকে কুশিয়ারা নদী এবং হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরের পানি না কমায় জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার ১৪২টি প্রাথমিক ও ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এখানকার মানুষ প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কিছু পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পানি খুব বাড়েনি। তবে বড় সমস্যা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। অনেক দিন ধরে রাস্তায় পানি। রাস্তায় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাস চলাচলও বন্ধ। জুড়ীতে চারটি, কুলউড়ায় আটটি ও রাজনগরে দুইটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ১৪২টি প্রাথমিক স্কুল ও ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ১৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে হাকালুকি হাওর তীরের কুলাউড়া জুড়ী ও বড়লেখার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির তেমন একটা উন্নতি হয়নি। এরই মধ্যে কেটে গেছে সাড়ে ৩ মাস। এ অবস্থায় হাওর তীরের বন্যাকবলিত ইউনিয়গুলোকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রবাসী সংস্থা বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফলে ত্রাণ প্রাপ্তিতে মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন।

ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান মনির জানান, বন্যায় সাড়ে ৩ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এখন ভরা বর্ষাকাল। বৃষ্টিপাত আরও হবে। বন্যার পানি সাময়িক কমলেও তা আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই হাওর তীরের বন্যাকবলিত ইউনিয়নগুলোকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। হাকালুকি হাওর তীরের জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলি জানান, সাড়ে ৩ মাসে পুরো এলাকার রাস্তাঘাট অবকাঠামো ল-ভ- করে দিয়েছে। এরপরও এখন পর্যন্ত কেন দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে না এটাই অবাক হওয়ার বিষয়।

স্থানীয় এমপি আবদুল মতিন জানান, হাওর তীরের বন্যাকবলিত এ এলাকাকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা সময়ের দাবি। সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু তারপরও চাহিদা মিটছে না।

 

 

(আজকের সিলেট/৬ জুলাই/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন