১৫ অক্টোবর ২০১৭


রাজনগরে ভিটে-মাটি হারা প্রবাসীর স্ত্রী

শেয়ার করুন

রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর এলাকার প্রবাসীর স্ত্রী তিন সন্তানের জননীর উপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ওই নির্যাতনের ঘটনায় উমান প্রবাসীর স্ত্রী ফুলমতি বেগম (২৮) রাজনগর থানায় ৭ জনের নাম উল্যেখ করে মামলা করেছেন। (মামলা নং-১৪,তাং-১০/০৮/২০১৭ইং)। আসামীরা হলো- মনুসরনগর এলাকার স্বপন মিয়া (৪৮),মখলিছ মিয়া (২২),সুহেল মিয়া (৩০),ইছাক মিয়া (৩৫),রহম আলী (২৬),তছকির মিয়া (৫৫) ও দিলারা বেগম (৪০)।

এঘটনায় এখনো ১নং আসামী গ্রেফতার হবার পর জামিনে মুক্ত হয়েছে। অবশিষ্ট আসামীরা জামিনেও মুক্ত হওয়ায় বাদীনীর আতঙ্কে কাঠছে নির্ঘুম রাত। আর তাই স্বামীর ভিটে মাটি হারা এই রমনী মাথাগুজার ঠাই পেতে ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফুলমতির স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে তিন সন্তান রিয়া বেগম (৯),রিয়াদ মিয়া (৬) ও পিয়া বেগম (৪) কে সাথে নিয়ে স্বামীর ভিটায় দিনপাত কাটাচ্ছেন।

অভিযোগে তিনি বলেন, তার সম্পর্কে এক চাচাতো ভাসুর তাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে মানসিকভাবে কষ্ট দিয়ে আসছিল। এতে তিনি রাজি না হলে তার বিরুদ্ধে শুরু হয় নানা ষড়যন্ত্র। শুরু হয় তার স্বামীর ভিটে দখল করতে বিভিন্ন পয়তারা। এভাবে চলতি বছরের গত ৫ এপ্রিল রাত প্রায় ১০টায় কৌশলে তার ঘরে এক যুবককে ঢুকিয়ে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে ঘরে সংরক্ষিত নগদ টাকা লুট করে ঘর থেকে বের করে দেয় আসামীরা। তাদের কান্নাকাটি শুনে পাশের বাড়ির শাহানা বেগম ও সুমন মিয়া এসে আহত অবস্থায় আসামীদের কবল থেকে রক্ষা করে মৌলভীবাজার ২৫০ শর্য্যা হাসপাতালে এসে ভর্তি করান। এখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযোগে তিনি আরো লিখেন, সুস্থ্য হয়ে স্বামীর ভিটায় উঠতে চাইলে বাড়ি এসে দেখেন আসামীরা ঘর দখল করে আছে। এমতাবস্থায় সেখান থেকে ছেলে-মেয়েসহ তাদের বের করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি জনৈক মিনার সর্দারের বাড়িতে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বসবাস করছেন বলে অভিযোগে উল্যেখ করেন।

বাদীনি ফুলমতি বেগম বলেন, তাদের নির্যাতনের দায়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্যরা মিলে বিষয়টি দেখে সমাধান দিতে পারেননি। পরে প্রায় ৫ মাস অপেক্ষা করে আমি আইনের আশ্রয় নেই। তারপরও আসামীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে ভয়-ভীতি দেখাচেছ। মিনার সর্দারের বাড়ি থেকে ভয়ে বের হয়ে এখন ছিক্কা গ্রামে জনৈক মইন উদ্দিনের বাড়িতে উঠেছি এবং অপেক্ষা করছি কখন ন্যায়-বিচার পাবো। মনসুরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিলন বখ্ত বলেন, এই মহিলা চারিত্রকভাবে খারাপ। এলাকায় নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। তারপরও তারা (আসামীরা) দোষ করেছে। আমি বলছে তাকে এভাবে মারতে পারোনা যেহেতু ও একজন মহিলা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলাউদ্দিন বলেন, ওই মামলায় ১নং আসামী গ্রেফতার হবার পর জামিন পেয়েছে এবং অবশিষ্টরাও জামিনে মুক্ত।

রাজনগর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আবু তাহের বলেন, ওই মহিলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও সমাধান করতে পারিনি।

 

(আজকের সিলেট/১৫ অক্টোবর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন